এস, এম, মহিউদ্দীন( মুকুল)

আরাকান রোহিঙ্গা ইউনিয়ন ওআইসি’র (ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা) প্রস্তাবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত এবং স্বীকৃত সংস্থা (OIC প্রস্তাব নং OIC-CFM NO 4/37-M.M)। এটি ৬১টি রোহিঙ্গা সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রে রেজিস্ট্রিকৃত।
এ সংগঠনের পক্ষ থেকে ড. ওয়াকার উদ্দিন (সূত্র নং [email protected] arunion.org) বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে যে আবেদন জানিয়েছেন এর সারসংক্ষেপ নিম্নে উল্লেখ করা হলো।

বিবৃতিতে আরাকানের মংডু, বুথিডং, রাথারডং ও অন্যান্য এলাকায় সামরিক বাহিনী, পুলিশ ও বিজিপির ছত্রছায়ায় বৌদ্ধ রাখাইন মিলিশিয়া যে ধ্বংসলীলা ও গণহত্যা চালিয়েছে তা উল্লেখ করা হয়। তারা বলেন যে, মিয়ানমার সরকারেরঅধিকার রয়েছে সন্ত্রাসী অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার। তবে বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা করা ও তাদের দায়িত্ব। তাদের দাবিনামা নিম্নরূপ-
(১) মিয়ানমার সরকারকে অবিলম্বে সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে।
(২) অবিলম্বে বাস্তুচ্যুতদের নিরাপদে ঘরের ফিরে আসার ব্যবস্থা করতে হবে। (৩) কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট কার্যকর করতে হবে, যাতে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয়ার এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। (৪) সবআন্তর্জাতিক সংগঠন এবং মিডিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আসতে দিতে হবে। (৫) সন্ত্রাসী রাখাইন মিলিশিয়া গ্রুপগুলোকে ট্রেনিং দেয়া, অস্ত্র দেয়া, সংগঠিত করা বন্ধ করতে হবে। (৬) রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধ করতে হবে। মিয়ানমারেরসরকারসমর্থিত গোষ্ঠীই রোহিঙ্গা গ্রামে ও শহরে আগুন দিয়ে বিশ্ব জনমতকে বিভ্রান্ত করার জন্য অপপ্রচার করছে।

আরাকান রোহিঙ্গা ইউনিয়ন বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে আরো দাবি জানায়-
(১) মিয়ানমার সরকারকে চাপ দিতে হবে যেন তারা রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের জাতিগতভাবে নির্মূল করার উদ্যোগে বন্ধ করে। (২) এ সমস্যা নিয়ে যেন জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনা করে মিয়ানমারের রাখাইনে সংখ্যালঘুদের জন্য‘নিরাপদ অঞ্চল (safe zone)’ গঠন করা হয়। (৩) ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, ওআইসি, যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো যেন রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে। (৪) মিয়ানমারেরবিরুদ্ধে Sanction কিছু বিষয় নিষিদ্ধ করা বা পুনর্বহাল করা হোক।
আমি মনে করি যে, আরাকান রোহিঙ্গা ইউনিয়ন (ARU) খুবই যুক্তিসঙ্গত দাবি জানিয়েছে। সে সব দাবি গ্রহণ করা উচিত।

বিশ্ববাসী যেসব বিষয় দাবি করছে তা হচ্ছে (১) রোহিঙ্গা রিফিউজিদের এখন আশ্রয় দেয়া, তাদের সাময়িকভাবে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা, (২) তাদের অবিলম্বে মিয়ানমারের নাগরিকত্ব দেয়া, (৩) তাদের জন্য মিয়ানমারের রাখাইন স্টেটেনিরাপদ আশ্রয় অঞ্চল (Safe Zone) সৃষ্টি করা, তারপর তাদের স্থায়ী পুনর্বাসন করা, (৪) মিয়ানমারের ঘটনাগুলোর আন্তর্জাতিক তদন্ত এবং দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দেয়া।

লেখক :এস,এম, মহিউদ্দীন(মুকুল)সম্পাদক নাইক্ষ্যংছড়ী নিউজডটকম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •