হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ:

রোহিঙ্গারা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসার সময় সাথে নিয়ে আসছে তাঁদের ব্যবহৃত মোটর সাইকেল। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি মোটর সাইকেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে আটক হয়েছে।

জানা যায়, মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে বসবাসকারী কয়েক লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলমান এবং কিছু সংখ্যক হিন্দু সেনা ও রাখাইনদের বহুমুখী নির্যাতনের শিকার হয়ে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে।

চাষাবাদ করা জমি ও চিংড়ি ঘের সমুহের দলিলপত্র মুলে মালিক রোহিঙ্গারা না হলেও অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে গৃহপালিত গরু, মহিষ, ছাগল, হাঁস-মুরগি, কবুতর, ভারি আসবাবপত্র, পছন্দের নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী, শীত বস্ত্র এবং শৌখিন গৃহস্থ পরিবারের পালিত কুকুর, বানর এমনকি পোষা পাখি ফেলে ‘জান’ বাঁচাতে কেবলমাত্র স্বর্ণ-রৌপ্যের অলংকার, নগদ মুদ্রা, জরুরী কাপড় নিয়ে পালিয়ে আসলেও ২টি বস্ত কষ্ট হলেও সাথে নিয়ে এসেছে। তা হচ্ছে সৌর বিদ্যুতের প্যানেল এবং মোটর সাইকেল। সপরিবারে পালিয়ে আসার সময় কেউ কেউ সাথে আনতে না পারলেও পরে আবার গিয়ে নিয়ে এসেছে।

অনেক রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারের নাম্বার প্লেট লাগানো এসব মোটর সাইকেল টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন স্থানে চালাতে দেখা গেছে। সুচতুর অনেক রোহিঙ্গা নাম মাত্র মুল্যে এসব মোটর সাইকেল বিক্রি করে দিয়েছে। ক্রেতারা কাল্পনিক একটি নাম্বার প্লেট লাগিয়ে সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে এসব মোটর সাইকেল হাঁকাচ্ছে।

এ ব্যাপারে টেকনাফের এক পুলিশ অফিসার বলেন ‘দলে দলে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঝামেলায় বিষয়টি এতদিন সকলের অগোচরে ছিল। এদিকে কারও তেমন নজর ছিলনা। দিন যতই গড়াচ্ছে, বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়ছে। সড়কে চালানোর সময় ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি মিয়ানমারের নাম্বার প্লেট লাগানো এসব মোটর সাইকেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে আটক হয়েছে। বর্তমানে প্রশাসন এ ব্যাপারে তৎপর রয়েছে। মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের আনা মোটর সাইকেলগুলো সব একই ধরনের। বাংলাদেশের নাম্বার প্লেট লাগানো হলেও দেখলেই চেনা যায়। ফাঁকি দেয়ার উপায় নেই। রাস্তায় নামলেই ধরা পড়বে’।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •