মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া :
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা সদরে অবস্থিত পেকুয়া আনোয়ারুল উলুম সিনিয়র মাদ্রাসায় কোচিং ক্লাস চলাকালে এক দাখিল পরীক্ষার্থীকে বেদড়ক পিটিয়ে গুরুতর জখম করলেন খোদ ওই প্রতিষ্টানের গণিত শিক্ষক!

আহত শিক্ষার্থীর নাম আবদুল্লাহ ইয়াসির (১৭)। সে পেকুয়া আন্নর আলী মাতবর পাড়া গ্রামের নুরুল আলমের পুত্র এবং ওই মাদ্রাসার ২০১৮ সালে অনুষ্টিতব্য দাখিল পরীক্ষার্থী। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম একই মাদ্রাসার গণিত শিক্ষক মাস্টার আনোয়ার সাহাদাত।

ঘটনাটি ঘটে ২৭ নভেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষার্থীদের কোচিং চলাকালে।

আহত শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ ইয়াসির ২৭নভেম্বর বিকালে এ প্রতিনিধিকে অভিযোগ করে জানান, আজ দুপুরে কোচিং চলাকালে কোন কারণ ছাড়াই ৬৭জন শিক্ষার্থীর সামনে তাকেসহ তার আরো এক সহপাঠীকে শিক্ষক আনোয়ার সাহাদাত হঠাৎ বেত্রাঘাত করে পিঠে জখম করে। বেত্রাঘাতের আগে তাদের দুই জনকে কান ধরিয়ে ১৫ বার উঠাবসা করে। পরে কোচিং ক্লাস শেষে তারা মাদ্রাসা থেকে বাসায় গিয়ে অভিভাবকদের ঘটনাটির বর্ণনা করে।

অভিযোগের ব্যাপারে পেকুয়া আনেয়ারুল উলুম মাদ্রাসার এমপিওভুক্ত গণিত শিক্ষক মাস্টার আনোয়ার সাহাদাতের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আজ দুপুরে কোচিংয়ে তিনি ক্লাস নেওয়ার জন্য প্রবেশ করলে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা দাঁড়িয়ে শিক্ষককে সম্মান প্রদর্শন করলেও ওই দুই ছাত্র বেঞ্চে পা তুলে বসেছিল। তাই তাদের সামান্য বেত্রাঘাত করা হয়েছে। ছাত্রদের এভাবে ছেড়ে দিলে বেয়াদব হয়ে যাবে। ক্লাসে বেত্রাঘাত সরকারী আদেশে নিষিদ্ধ থাকলেও তিনি কেন বেত নিয়ে ক্লাসে গেলেন, সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন ধরনের সদুত্তর দিতে পারেনি।
তবে বেঞ্চে পা তুলে বসার শিক্ষকের এ ধরনের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন আহত ছাত্র আবদুল্লাহ ইয়াসির।

এ বিষয়ে জানার জন্য ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আমিনুর রশিদের ব্যক্তিগত (০১৮১৮৯৯৬৪৫০) নাম্বারে ২৭ নভেম্বর ৫টা৪৩ মিনিট থেকে রাত ৮টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত এ প্রতিবেদকের নাম্বার থেকে সর্বমোট ১০ বার কল করা হলেও অধ্যক্ষ কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য সংযোজন করা সম্ভব হয়নি।

তবে জানা গেছে কাল ২৮ নভেম্বর এ বিষয়ে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি জরুরী বৈঠক ডেকেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •