ইমাম খাইর, সিবিএন:
কক্সবাজার জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সদর এলাকার ৪১ জন স্থান পেয়েছে। সেখানে উপদেষ্টা কমিটির ৮ জনের মধ্যে রয়েছেন কক্সবাজারের সাবেক অনারারী ম্যাজিস্ট্রেট ফজলুল করিম ও বৃহত্তর ঈদগাঁওর বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবু তাহের। এছাড়া কার্যকরী কমিটির ২৭ জনের মধ্যে ৮ জন এবং নির্বাহী সদস্য পদে ১২৪ জনের মধ্যে রয়েছে ৩১ জন।
তবে, কমিটি গঠনের বেলায় বেশ কিছু সিনিয়র ও চেনাজানা নেতাকে অবমূল্যায়নের অভিযোগ ওঠেছে। যে কারণে অনেক নেতা তাদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করেছেন।
জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র এক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেক ত্যাগী নেতা এবারের কমিটিতে মূল্যায়িত হয়নি।
তাদের মধ্যে রয়েছে- রফিকুল হুদা চৌধুরী, এডভোকেট আবু ছিদ্দিক ওসমানী, রাশেদ মোঃ আলী, এডভোকেট শাহাব উদ্দিন, গিয়াস উদ্দিন জিকু, রবুয়া বেগম, এস্তাফিজুর রহমানসহ অন্তত আরো ২০ সিনিয়র নেতা। কমিটিতে স্থান হয়নি সাবেক ছাত্রনেতা পৌর কাউন্সিলর আশরাফুল হুদা সিদ্দিকী জামশেদ, হাবীব উল্লাহ হাবীবসহ মাঠ কাঁপানো এক কালের ছাত্রনেতারা। দলের বেশ কিছু নেতা এটি চাপিয়ে দেয়া কমিটি বলে মন্তব্য করেছেন।
এবারের কার্যকরী কমিটিতে সদর উপজেলা থেকে যারা রয়েছেন:
সহ-সভাপতি রফিকুল হুদা চৌধুরী, এম মমতাজুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম কাউন্সিলর, মৎস্যজীবি বিষয়ক সম্পাদক হামিদ উদ্দিন ইউসুফ গুন্নু, সেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক আজিজুর রহমান, যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ আহমদ উজ্জল, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নাসিমা আকতার বকুল, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রাশেদুল হক রাসেল।
নির্বাহী সদস্যরা হলেন:
রাশেদ মোহাম্মদ আলী, আবদুল মাবুদ, এস্তাফিজুর রহমান, এডভোকেট সৈয়দ আলম, আবুল কাশেম, এডভোকেট মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, ফরিদুল আলম চেয়ারম্যান, মুজিবুল হক মিয়াজী, এডভোকেট সেলিমুল্লাহ, শহিদুর রহমান শহীদ, শওকত আলম, এডভোকেট আবু ছিদ্দিক ওসমানী, এডভোকেট শাহাব উদ্দিন, এডভোকেট আবদুল কাইয়ুম, শফিকুর রহমান চেয়ারম্যান, আবুল কালাম চেয়ারম্যান, মনজুর আলম, আমানুল হক আমান, এসআইএম আকতার কামাল আজাদ (কাউন্সিলর), মুজিবুর রহমান, আবুল বশর মেম্বার, মো: সাইফুল আলম, মুফিদুল আলম, গিয়াস উদ্দিন জিকু, হুমায়রা বেগম, মনজুমন নাহার, সৈয়দ নুর সওদাগর, মাস্টার গোলাম কাদের, মোস্তফা কামাল, এডভোকেট এস্তাফিজুর রহমান, পৌর প্যানেল মেয়র জিসান উদ্দিন জিসান।
জেলা বিএনপির আগের কমিটির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শামীম আরা স্বপ্নাকে স্বপদে বহাল রেখে ২২ নভেম্বর ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি অনুমোদন দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর।
কমিটিতে যুক্ত হয়েছেন ৫০ শতাংশ নতুন মুখ। প্রাধান্য দেয়া হয়েছে নারী ও যুব নেতৃত্বকে। মূল্যায়িত হয়েছে ত্যাগী নেতারা। বাদ পড়েছে মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সাবেক এমপি আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ ও কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সাবেক এমপি প্রকৌশলী সহিদুজ্জামানের মতো হাইপ্রোফাইলের নেতা। ২০০৯ সালের ২০ নভেম্বর জেলা বিএনপির সর্বশেষ কমিটি গঠিত হয়।
কমিটির উপদেষ্টা পরিষদে ৮ জন সদস্য রাখা হয়েছে। তারা হলেন- কক্সবাজারের সাবেক অনারারী ম্যাজিস্ট্রেট ফজলুল করিম, জেলা বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এম.এ গণি, চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু তাহের চৌধুরী আবু মিয়া, পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু তাহের চৌধুরী বাচ্চুমিয়া, মহেশখালীর প্রবীন বিএনপি নেতা আবু তাহের চৌধুরী, বৃহত্তর ঈদগাঁওর বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবু তাহের, রামুর গর্জনিয়ার জমিদার পরিবারের সন্তান ও প্রবীন বিএনপি নেতা সুরত আলম চৌধুরী ও টেকনাফের প্রবীন বিএনপি নেতা মৌলভী আবদুল মান্নান।
সম্মানিত সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে- জেলা বিএনপির ‘বটবৃক্ষ’ সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি লুৎফুর রহমান কাজল এবং সাবেক এমপি এডভোকেট হাসিনা আহমদ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •