মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ:

কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া, চকরিয়া ও টেকনাফ সীমান্ত উপজেলার পৌরসভাসহ নাফ নদী উপকূলীয় চার ইউনিয়নে চলতি মৌসূমে ১৮ লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মাঠে নেমেছেন লবণ চাষীরা। টেকনাফ উপজেলার পৌরসভা হোয়াইক্যং, হ্নীলা টেকনাফ সদর সাবরাং ও শাহপরীরদ্বীপ ২৮৫০ একর মাঠে লবণ উৎপাদন করবেন ২ হাজার ৬শত ৮৫ প্রান্তিক চাষী। আমন মওসূম শেষে ধান কাটার পর ইতিমধ্যে লবণ উৎপাদনের মাঠ তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

টেকনাফ উপজেলা বিসিক অফিসে দায়িত্বে নিয়োজিত মিজানুর রহমান বলেন, উপজেলার পৌরসভাসহ চার ইউনিয়নে চলতি মৌসূমে ২ হাজার ৮শত ৫০ একর জমিসহ জেলার ১৮ লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নিয়ে মাঠে নেমেছেন প্রান্তিক চাষীরা। চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যে মাঠ পরিচর্যা পুরোদমে শুরু করেছেন তারা। ডিসেম্বর নাগাদ লবণ উৎপাদন শুরু হবে এবং আগামী ২০১৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত।

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মৌলভী পাড়ার ৩শত কানির লবণ মাঠের মালিক আব্দুর রহমান বলেন, গত ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে লবণের মৌসূমে দাম মানানসই ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চাষীরা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছিল।

শাহপরীরদ্বীপের এজাহার মেম্বার জানান, বর্তমান সরকার প্রান্তির পর্যায়ে লবণের দাম নির্ধারণ করে দেয়ায় টেকনাফে ২ হাজার ৬শত ৮৫ লবণচাষীদের মধ্যে স্বস্থি ফিরে এসেছে নাজির পাড়ার ফজল করিমের ৭ কানি জমি লবণ চাষ করছেন হোয়াইক্যং কাঞ্জর পাড়ার সিরাজুল ইসলাম। গত ২ বছর যাবৎ প্রতি মৌসূমে ৬০ হাজার টাকা দিয়ে এবার লবণ মাঠে আগাম লবণ উৎপাদনে নেমেছেন। লবণের মূল্য বৃদ্ধির কারণে অতি উৎসাহিত হয়ে মাঠে কাজ করছেন। অপর দিকে সাবরাং ইউনিয়নের আলী আহমদ ৩২ কানি লবণ মাঠে অগ্রিম চাষীরা মাঠে নেমেছে। মৌসূম অনুকূলে থাকলে লবণ উৎপাদনে লাভমান হবেন এমন তার প্রত্যাশা।

প্রান্তিক লবণ চাষীরা জানান, গত দুই মৌসূমে সরকার বিদেশ থেকে লবণ আমদানি না করায় এবং সরকারী ভাবে উপকূলীয় এলাকার লবণচাষীদের বাঁচাতে লবণ নীতিসালাসহ দমে বৃর্দ্ধি করায় আমরা লবণ উৎপাদনের লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশী নিয়ে মাঠে নেমেছি। সম্পূর্ণ আধুনিক পদ্ধতিতে (পলিথিনের) মাধ্যমে সাদা লবণ উৎপাদিত হচ্ছে।

টেকনাফ উপজেলার লবণ উৎপাদনকারী সমিতির সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদ সদস্য মোঃ শফিক মিয়া জানান, পলিথিন পদ্ধতিতে লাভবান হওয়ায় এখন এ পদ্ধতির চাষ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। দীর্ঘদিন পর বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে লবণ মনপ্রতি প্রায় ৩৫০ থেকে ৪শত টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এ দাম স্থীর থাকলে এবং বিদেশ থেকে বলণ আমদানি না হলে স্থানীয় চাষীরা পুরোদমে লবণ উৎপাদনে আরো সক্রিয় হবে। এমন আশা প্রকাশ করছেন, সচেতন লবণ চাষীরা। প্রবল বর্ষণ, পাহাড়ী ঢলে নাফ নদীর জোয়ারের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গা আগমনের ভারে নাফ নদীর উপকূল রক্ষাকারী বেড়ীবাঁধ ভাংগন ও প্যারাবন নিধনের প্রেক্ষিতে বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •