উত্তর কোরীয় সেনাবাহিনীতে ধর্ষণ নিয়মিত ঘটনা

বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম সেনাবাহিনীর একজন নারী সৈনিকের জীবন এতটাই দুর্বিষহ যে, অল্প বয়সেই তাদের ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া ধর্ষণ তাদের জীবনে নিত্যনৈমিত্তিক এক ঘটনা! সেনাবাহিনীর সাবেক একজন নারী সৈনিক নিজেও অনেকের হাতে ধর্ষণ হওয়ার তথ্য জানিয়েছেন।

বাঙ্ক বেডের নিচের তলায় প্রায় ১০ বছর ধরে লি সো ইয়নকে ঘুমাতে হয়েছে। ২৪ জনের বেশি নারী তার সঙ্গে একই ঘরে ঘুমাতো। নিজেদের পোশাক রাখার জন্য প্রত্যেক নারীর থাকতো ছোটো একটি করে ড্রয়ার।

এক দশকেরও বেশি আগের ঘটনা এটি। পালিয়ে এসেও কংক্রিট ব্যারাকের সেই গন্ধের স্মৃতি ভুলতে পারেননি তিনি। তিনি জানান, ‘আমরা প্রচণ্ডভাবে ঘেমে যেতাম। ধানের তুষের (খোসা) তৈরি গদির ওপর আমরা শুয়ে থাকতাম। সে কারণে গায়ের ঘাম সেখানে বসে যেত। সেটাতে তুলা ছিল না। ফলে তুষের গন্ধ আর ঘামের গন্ধ মিলে বিচ্ছিরি একটা গন্ধ তৈরি হতো। সেটা ভালো লাগতো না।’

north-4

আর সেই পরিস্থিতি তৈরি হতো কাপড় পরিষ্কার করার কোনো উপায় না থাকার ফলে। তিনি আরও জানান, একজন নারীর জন্য সব থেকে বড় সমস্যা হলো, সেখানে আমরা ঠিকমতো গোসলও করতে পারতাম না। কারণ সেখানে গরম কোনো পানির ব্যবস্থা নেই।

লি জানান, ‘পাহাড়ের ঝরনার সঙ্গে সেট করে দেয়া এক পাইপের মাধ্যমে পানি আসতো আর তা দিয়েই গোসল সারতে হতো। সেই পাইপ দিয়ে সাপ, ব্যাঙও আসতো।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন ৪১ বছর বয়সী লি সো ইয়নের বাবা। উত্তর কোরিয়ার উত্তরাঞ্চলে বড় হয়েছেন তিনি। তার পরিবারের অনেক সদস্য সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন।

১৯৯০ সালের দিকে দুর্ভিক্ষের কারণে স্ব-প্রণোদিত হয়ে সেনাবিাহিনীতে যোগ দেন তিনি। তার মতো হাজার হাজার তরুণী সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়।

north-4

তিনি আরও জানান, ‘দুর্ভিক্ষের কারণে উত্তর কোরিয়াতে নারীদের দুঃসময় বয়ে আসে। বহু নারী শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন, অনেকের সঙ্গেই চলতে থাকে খারাপ আচরণ। অনেক নারী হয়রানি এমনকি যৌন সহিংসতার শিকারও হয়েছে।’

নারী-পুরুষ সবারই দৈনন্দিন রুটিন প্রায় এক রকমই ছিল। তবে পুরুষদের তুলনায় নারীদের প্রশিক্ষণের সময় ছিল কম। পুরুষদের আবার কাপড় কাঁচা কিংবা রান্না করা না লাগলেও নারীদের করতে হতো।

নারী সৈনিকরা মাসিক না হওয়ার কারণে খুশি বলেও জানান তিনি। কারণ, ওই পরিস্থিতিতে মাসিক হলে তাদের দুর্গতি আরও বাড়তো। ঋতুস্রাবের সময় পার করার মতো তাদের তেমন কোনো সুব্যবস্থাও ছিল না। একজনের ব্যবহার করা স্যানিটারি প্যাড আরেকজনকে ব্যবহার করতে হতো।

north-4

প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারী সৈনিকদের আলাদা শৌচাগার ব্যবহারের সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি। পুরুষ সহকর্মীদের সামনেই অনেককেই প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে হয়।

কাজের সময়ের বাইরেও তাদের ঘরে কমান্ডাররা বসে থাকতেন এবং অধীনস্থ কোনো নারী সেনাকে সেখানেই ধর্ষণ করতেন। দক্ষিণ কোরিয়াতে ২০০৮ সালে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন লি।

প্রথমবার চীনের সীমান্তের কাছে ধরা পড়ে যান তিনি। এক বছর ধরে বন্দি থাকার পর দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় তুমেন নদী সাঁতরে পার হয়ে চীনের ভেতরে ঢুকে পড়েন তিনি। পরে দালালের মাধ্যমে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় যেতে পারেন।

সূত্র : বিবিসি

cbn
কক্সবাজার নিউজ সিবিএন’এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।

সর্বশেষ সংবাদ

কক্সবাজার কলেজ বাংলা বিভাগের শিক্ষা সফর : ব্যক্তিগত অনুভূতি

কক্সবাজারে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নতুন সভাকক্ষ উদ্বোধন

যুবসমাজের আনন্দায়োজন: কিছু ভাবনা , কিছু কথা…

সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলার নাম ইবাদত

উখিয়ায় উপজেলা নির্বাচনী হাওয়া : মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা জাফর আলম চৌধুরী

চাকরি প্রত্যাশিদের তালিকা তৈরি কার্যক্রমের উদ্বোধন করল ‘জাগো উখিয়া’

শহীদ জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে সুবিধাবঞ্চিত ও দুস্থদের পাশে চ.বি ছাত্রদল

মালয়েশিয়া প্রবাসী যুবককে মুঠোফোনে হুমকির অভিযোগ

দূর্গম পাহাড়ে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত হলো ১০ কি:মি: রাস্তা

পেকুয়ায় ইমামকে কুপিয়ে আহত

উখিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ জামিনে মুক্ত

মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন’র পিএইচডি ডিগ্রী লাভ

কক্সবাজার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল কাদের গণি

শেখ হাসিনার বদান্যতায় মাথা গোজার ঠাঁই পেল গৃহহীন ১২৬ পরিবার

বিশ্বের সর্বাধিক হতদরিদ্র মানুষের বাস ভারতে

সবচেয়ে ‘কিউট’ কুকুরের মৃত্যু

চট্টগ্রামে ইয়াবা নিয়ে রোহিঙ্গা দম্পতিসহ গ্রেপ্তার ৪

মাদকবিরোধী অভিযানের সঙ্গে সমাজে ফেরার সুযোগও দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

টেকনাফে গ্রেপ্তার মাদকের আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

এনজিওতে স্থানীয়দের ছাঁটাই উদ্বেগের