নিজস্ব প্রতিবেদক:
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে অনেক ঠোঁটকাটা রোগী রয়েছে। এই সংখ্যা হাজারেরও বেশি হবে। এসব ঠোঁটকাটা রোগী অপারেশনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দিতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশের ঠোঁটকাটা রোগী অপারেশনের বৃহৎ সংস্থা ‘স্মাইল ট্রেন’। হোপ হসপিটালকে সাথে নিয়ে ‘স্মাইল ট্রেন’ রোহিঙ্গা ঠোঁটকাটা রোগীদের অপারেশনের উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে ৩৫ জন রোহিঙ্গাকে অপারেশন করাচ্ছে স্মাইল ট্রেন। এই উপলক্ষ্যে হোপ হসপিটালে দু’দিনের একটি ক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছে। বুধবার এই ক্যাম্পের উদ্বোধন করা হয়। বৃহস্পতিবার ক্যাম্প শেষ হবে। এই অপারেশন ক্যাম্পে ৩৫ রোহিঙ্গা ছাড়াও স্থানীয় আরো অন্তত ১০জন রোগীকে অপারেশন করা হচ্ছে।

‘স্মাইল ট্রেন’র কান্ট্রি ডিরেক্টর মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নিউইয়র্ক ভিত্তিক মানবিক সংস্থা স্মাইল ট্রেন ২০০৩ সাল থেকে বাংলাদেশে ঠোঁটকাটা রোগীদের সম্পূর্ণ বিনা খরচে অপারেশন করে যাচ্ছে। তার ধারবাহিকতায় নির্যাতি রোহিঙ্গাদের অপারেশনের এগিয়ে এসেছে সংস্থাটি। স্থানীয় হোস্ট হিসেবে হোপ হসপিটালকে সাথে নিয়ে ঠোঁট কাটা রোহিঙ্গাদের অপারেশন করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে ৩৫ জনকে অপারেশন করা হচ্ছে। উখিয়া ও টেকনাফের অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে চিহ্নিত করে এসব রোহিঙ্গাদের আনা হয়েছে।

অপারেশন টিমের প্রধান অধ্যাপক বিজয় কে দাশ জানান, বুধবার সকাল থেকে বিভিন্ন পরীক্ষা শেষে ৩৫ জনকে রোহিঙ্গাকে অপারেশনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। দুপুরের ২টা থেকে অপারেশন শুরু হয়। অপারেশন দলে অধ্যাপক বিজয় কে দাশের সাথে আরো পাঁচজন দক্ষ সার্জন। সব রোগীকে অত্যন্ত দক্ষ হাতে অপারেশন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন সার্জনেরা।

মিয়ানমামরের বুচিদং থেকে এসে পালংখারী শফিউল্লাহ কাটা ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া আক্কাস মিয়া বলেন, ‘তার খদিজা (১৪) ঠোঁট কাটা অবস্থায় জন্ম নিয়েছে। আমরা মনে করতাম এটা কখনো ভালো হওয়ার নয়। মিয়ানমারে সে রকম কোনো চিকিৎসার কথা আমরা কখনো শুনিনি। তাই মেয়ের বিয়ের বয়স হওয়ায় অনেক চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু বাংলাদেশে এসে ঠোঁট কাটা অপারেশন করতে পারছি। আমাদের অনেক খুশি লাগছে।’ অন্যান্য ঠোঁট কাটা অপারেশন করতে রোহিঙ্গা রোগী ও তাদের স্বজনেরা একই কথা বলেছেন।

স্মাইল ট্রেন’র কান্ট্রি ডিরেক্টর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘স্মাইল ট্রেন ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করে ২০০৩ সালে। সেই এখন পর্যন্ত সংস্থাটি বাংলাদেশে ৪৫ হাজার ঠোঁটকাটা রোগীর অপারেশন করে তাদেরকে স্বাভাবিক জীবন দিয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন স্বাস্থ্য সেবামুলক প্রতিষ্ঠানকে সাথে নিয়ে অপারেশন ক্যাম্প করা হয়। ২০১৩ সালে হোপ হসপিটালের সাথে কক্সবাজারে ক্যাম্পের যাত্রা শুরু করা হয়। প্রতি তিন মাস পর পর ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। এই পর্যন্ত হোপ হসপিটালে দু’শতাধিক ঠোঁটকাটা রোগীর অপারেশন করা হয়েছে।’

হোপ ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডাইরেকক্টর এস.এম. ফেরদৌসুজ্জামান বলেন, ‘হোপ ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত হোপ হসপিটাল কক্সবাজারের একটি বিরাট জনগোষ্ঠীকে বিনা ফি ও নামমাত্র ফি’তে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য সেবায় হোপ হাসপাতাল অনেক সুনাম অর্জন করেছে। পাশপাশি ২০১৩ সাল থেকে ‘স্মাইল ট্রেন’ সাথে ঠোঁটকাটা রোগী অপারেশন করে যাচ্ছে। বিনা ফি’র এই সেবায় আমরা অত্যন্ত ছাড়া পেয়েছি।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •