কায়সার হামিদ মানিক,উখিয়া :
মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুদের মাঝে এইচআইভি পজেটিভ বা এইডসে সংক্রমক রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার পর্যন্ত শিশুসহ ৮২ জন এইচআইভি পজেটিভ বলে শনাক্ত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। তাদেরকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এদের অধিকাংশ নারী বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগ।
উখিয়া সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, এই মরণব্যাধি রোগের পাশাপাশি রোহিঙ্গারা সর্দি, কাশি, জ্বর, ডায়রিয়া, মাথাব্যাথাসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তাদের সরকারি-বেসরকারিভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের জন্য উখিয়ায় ২৭টি ও টেকনাফে ১৪টি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। রয়েছে গর্ভবর্তী মা ও নবজাতক শিশুদের জন্য বিশেষ চিকিৎসা। সম্প্রতি কলেরা রোগ প্রতিরোধে রোহিঙ্গাদের টিকা খাওয়ানোর কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ১৬ নভেম্বর থেকে চলমান পুষ্টি সপ্তাহে এ পর্যন্ত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে ৬৭ হাজার, কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়েছে ৪৫ হাজার শিশুকে। এছাড়া ৭১ হাজার শিশুকে পুষ্টিকর খাবার ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাসহ বিশেষ টিকা দেয়া হয়েছে।
কুতুপালং ক্যাম্পের অবস্থানকারী রোহিঙ্গা ডা. জাফর আলম বলেন, এইডস রোগের জন্য চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ দেশ মিয়ানমার। এ কারণে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অনেকের শরীরে এইচআইভি জীবাণু থাকতে পারে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এইচআইভি রোগ ছাড়াও হাম, যক্ষ্মা, পোলিও, কলেরা ও ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেশি।
কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডা. আবদুস সালাম বলেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৮২ জন এইডস রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে নারীর সংখ্যা বেশি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •