হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ:
রোহিঙ্গাদের কারণে উখিয়া-টেকনাফের জনগনের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বন্যপ্রাণীও। পাহাড় ও বন জঙ্গলসহ আবাসস্থল সাবাড়ের কারণে গ্রামাঞ্চলে হানা দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষেত খামারের ক্ষতি করছে বন্য পশুরা। টেকনাফ, হ্নীলা, হোয়াইক্যং ও বাহারছড়ায় ইতিমধ্যে বন্য হাতির পাল হানা দিয়ে কয়েক লক্ষাধিক টাকার ধান ও বিভিন্ন প্রকার শষ্য ক্ষেত নষ্ট করেছে।

১৮ নভেম্বর শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় টেকনাফ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উখিয়া-টেকনাফের সাংসদ আলহাজ্ব আবদুর রহমান বদি সিআইপির কাছে কৃষক-কৃষাণীরা অভিযোগগুলো তুলে ধরেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন ছিদ্দিকের সভাপতিত্বে ও কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জাফর আহমদ।

এসময় হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী গ্রামের কৃষক ফরিদুল আলম অভিযোগ করে বলেন, কৃষি কাজ হচ্ছে তার পেশা। সম্প্রতি একদল বন্য হাতির দল তার ধান ও শষ্য ক্ষেতে ফলন পাওয়ার প্রাক্কালে হানা দিয়ে তিন লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি করেছে। এখন সে নিংস্ব হয়ে পরিবার নিয়ে খুব সমস্যাই রয়েছে। তিনি এর উপযুক্ত ক্ষতিপূরন দাবী করেন।

একই অভিযোগ করেন হোয়াইক্যংয়ের হরিখোলার কৃষাণী লাবংসিং চাকমা। তিনি জানান, ঋণ নিয়ে অনেক কষ্টে জমিতে ধান চাষ করেছেন। ফলন পাওয়ার সময় বন্য হাতিরা হানা দিয়ে খেয়ে পেলেছে এবং নষ্ট করেছে। এখন ঋণ শোধ করার মতো টাকা নেই। তিনিও ক্ষতিপুরনের দাবী জানান। এসময় বন্য পশু কর্তৃক ক্ষতিগ্রস্থ আরও একাধিক কৃষক-কৃষাণী এমপি আবদুর রহমান বদির কাছে সাহায্য চেয়ে অভিযোগ করলে তিনি তাদের উপযুক্ত ক্ষতি পুরণের আশ্বাস প্রদান করেন এবং উপজেলা চেয়ারম্যান ও কৃষি কর্মকর্তাকে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার আহবান জানান। এছাড়া আরও কয়েকজন কৃষক-কৃষাণী পানি সমস্যা, ব্রীজের সমস্যা, পাহাড়ী পানি আটকানো, সেচ সমস্যা, রাস্তার সমস্যার কথা তুলে ধরলে তিনি মনোযোগ সহকারে শুনে তা যথানিয়মে দ্রুত সমাধান করার আশ্বাস দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুর রহমান বদি আরো বলেন, বর্তমান সরকার কৃষি বান্ধব সরকার। কৃষিই সমৃদ্ধি বয়ে আনে। রোহিঙ্গাদের কারণে উখিয়া-টেকনাফের মানুষ যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, তেমনি ভাবে বণ্য প্রাণীরাও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পাহাড়ের গাছপালা কেটে চারণ ভূমি সাবাড় করার কারণে পশুদের খাদ্য নেই, বন্যপশুদের এখন হাহাকার অবস্থা চলছে। ফলে গ্রামাঞ্চলে হানা দেওয়া স্বাভাবিক। কৃষকরা ক্ষতি হলে তার ভূক্তভোগী আমাদের হতে হবে। তাই কৃষকদের উপযুক্ত ক্ষতিপুরনের জন্য তিনি সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করবেন বলেও জানান। এছাড়া তিনি কৃষকদের জন্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। পরে প্রধান অতিথি, ভূট্টা, বিটি বেগুন, পেলন বীজ, সারসহ বিভিন্ন সামগ্রী ১১০ জন কৃষকের হাতে তুলে দেন। সভায় স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর আবু হারেছ, সহকারি কৃষি কর্মকর্তা শফিউল আলম, মোঃ আনোয়ার, উপকারভোগী কৃষক-কৃষাণী, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •