আব্দুর রশিদ, বাইশারী:
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ফারিখালের রাজঘাট এলাকায় একটি রাবার ড্যাম নির্মিত হলে ভাগ্য বদলে যাবে ওই এলাকার হাজারো কৃষক পরিবারের।
শনিবার (১৮ নভেম্বর) ফারিখালের রাজঘাট এলাকায় রাবার ড্যাম স্থাপনের জায়গা পরিদর্শনে এসেছেন বিএডিসির কনসালটেন্ট রুদ্র বাবু, সহকারী প্রকৌশলী আব্দু সত্তার, উপ-সহকারী প্রকৌশলী শেখ আহমদ, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আর্সিনাল ট্রেডিং কর্পোরেশনের মালিক শাহাজাদা রাজিব। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, বাইশারী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বাহাদুর, সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হাকিম, মনিরুল হক মনু, ইউপি সদস্য নুরুল আজিম, নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা ক্যনেওয়াং চাক, ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি এস.এন.কে রিপন সহ জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
পরিদর্শনকালীন কনসালটেন্ট রুদ্র বাবু উপস্থিত কৃষকদের বলেন, রাবার ড্যামের নির্মান কাজ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই কাজও শুরু হয়ে যাবে। রাবার ড্যামটি নির্মাণ শেষে সমিতি গঠনের মাধ্যমে স্থানীয়দের মাঝে হস্তান্তর এবং সমিতির মাধ্যমে এটি পরিচালিত হবে তিনি জানান।
জানা যায়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিএডিসি রাবার ড্যাম সেচ প্রকল্পের অধীনে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে এই রাবার ড্যামটি। শীগ্রই শুরুর আশ্বাস দিয়েছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আর্সিনাল ট্রেডিং কর্পোরেশনের মালিক শাহাজাদা রাজিব।
উপকারভোগী সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হাকিম বলেন, ‘বিগত দিনে শুধুমাত্র বর্ষা মৌসুমে জমিগুলো চাষাবাদ হতো, শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে কয়েক হাজার একর জমি অনাবাদী হয়ে পড়ে থাকতো। ফারিখালের উপর এই রাবার ড্যামটি নির্মিত হলে একই জমিতে বোরো এবং আমন চাষ করা সম্ভব হবে। যার ফলে অত্র এলাকায় আর কোন ধরনের পানির সমস্যা থাকবে না।
আরেক উপকার ভোগী কৃষক সাবেক চেয়ারম্যান মনিরুল হক বলেন, ফারিখালে রাজঘাট এলাকায় রাবার ড্যামটি নির্মিত হলে এলাকার মানুষের খাদ্যের অভাব থাকবে না। পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন হবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরো বলেন, ওই স্থানে ড্যামটি নির্মাণ হলে কৃষি নির্ভর বাইশারী এলাকার অন্তত কয়েক হাজার কৃষক লাভবান হবে এবং পাল্টে যাবে কৃষকের জীবন যাত্রা।
বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম বলেন, ফারিখালের একটি রাবার ড্যাম নির্মাণের পরিকল্পনা দীর্ঘদিনের। একটি রাবার ড্যাম নির্মাণের ফলে কৃষক পরিবারের ধান চাষের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ফল ফলাদি উৎপাদনে সক্ষম হবে। তিনি আরো বলেন, অচিরেই ঠিকাদারীর প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে দিবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •