ডেস্ক নিউজ:
জেদ্দার বালাদ মার্কেটে রেডিমেট গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মোখলেছুর রহমানের দোকান বর্তমান সৌদি সরকারের করের ফাঁদে পড়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। নতুন করে পরিবারের সব সদস্যদের ওপর কর আরোপ করায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পরেছেন পরিবার ও পরিজন নিয়ে সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশিরা। করের হাত থেকে রক্ষা পেতে ইতোমধ্যেই অনেক ব্যবসায়ী তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন। অনেকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স কমার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ধলা গ্রামের মোখলেছুর রহমান ১৯৯৭ সালে সোদি আরব যান। তিনি জেদ্দা শহরের বালাদ মার্কেটে রেডিমেট গার্মেন্টসের ব্যবসা করেন। স্ত্রী, চার ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন। সন্তানরা মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে। ব্যবসার আয় দিয়েই সন্তানদের লেখাপড়া ও সংসার খরচ চালান। প্রতিমাসে কিছু টাকা বাংলাদেশে স্বজনদের কাছেও পাঠান। তবে চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে সৌদি সরকার প্রতি মাসে পরিবারের সদস্য প্রতি ১০০ রিয়াল, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০০ রিয়াল, পরের বছর থেকে ৩০০ রিয়াল কর আরোপ করে। ফলে বেকায়দায় পরেছেন প্রবাসী মোখলেছুর রহমান। তিনি চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে ৬০০ রিয়াল করে কর পরিশোধ করে আসছেন। আগামী বছরের জানুয়ারি মাস থেকে তাকে কর বাবদ প্রতি মাসে গুনতে হবে এক হাজার ২০০ রিয়াল।

খেজুর মার্কেটে বাঙালি ব্যবসায়ীদের দোকানমোখলেছুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সৌদি সরকার সদস্য প্রতি কর আরোপ করায় প্রবাসীদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ব্যবসায়। কর আরোপের পর থেকে ব্যবসা বাণিজ্যে ধস নেমেছে। আগে মাসে এক থেকে দেড় লাখ রিয়াল বেচাকেনা হতো, এখন হয় মাত্র ২০ হাজার রিয়াল। ফলে প্রতি মাসেই গুনতে হচ্ছে লোকসান। অনেক প্রবাসী বাংলাদেশিরা কর থেকে রক্ষা পেতে পরিবারের সদস্যদের দেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন। আমিও ডিসেম্বরের মধ্যে পরিবারের সদস্যদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

সৌদি আরবের একই শহরের ব্যবসা করেন বাংলাদেশের চাঁদপুরের ব্যবসায়ী মাহমুদ হোসেন। করের ফাঁদে পড়ে তিনিও পরিবারের সদস্যদের গত আগস্ট মাসে দেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুটিয়ে তিনিও দেশে ফিরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মাহমুদ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখন সৌদি আরবে থেকে কোনও লাভ নেই। করের বোঝা টানতে গিয়ে ব্যবসায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। সংসারের খরচ সামলাতে না পেরে স্ত্রী ও সন্তানদের দেশে পাঠিয়ে দিয়েছি।’

জেদ্দার বালাদ মার্কেটমদিনা শহরের বাঙ্গালিপাড়ার বাংলাদেশ খেজুর শপের স্বত্বাধিকারী ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘বর্তমানে সৌদি আরবে প্রবাসীদের মাঝে অস্থিরতা কাজ করছে। বিশেষ করে কর আরোপের পর এই অস্থিরতা আরও বেড়ে গেছে। এরই মধ্যে অনেক ব্যবসায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুটিয়ে দেশে চলে গেছেন। বাংলাদেশিরা সৌদি আরব এসে এখন আর কাজও পাচ্ছেন না।’

সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মাসিহ্ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো সৌদি আরবেও ব্যবসা বাণিজ্যে মন্দাভাব চলছে। ব্যবসায় সুবিধা করতে না পেরে অনেক প্রবাসী ব্যবসায়ী দেশে চলে যাচ্ছেন। তবে কর আরোপের কারণে এখনও রেমিট্যান্সে প্রভাব পরেনি।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •