cbn  

ডেস্ক নিউজ:
আগামী বছরে অনুষ্ঠেয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১২ নভেম্বর রবিবারের গণসমাবেশকে ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে দেখছে বিএনপি। এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিকভাবে তিনটি বিষয় সামনে রাখছে দলটি।

বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করছেন, প্রায় ১৯ মাস পর রাজধানীতে সমাবেশ করার সুযোগ পেয়ে রাজনৈতিক সাফল্য কী হবে এ নিয়ে হিসাব মেলানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে সমাবেশ ঘিরে সরকারের বার্তা, নেতাকর্মীরা কী ভাবছেন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এই সমাবেশ কী ধরনের সাড়া ফেলতে পারে―এ তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা।

সমাবেশের অনুমতিপ্রাপ্তির বিষয়ে সরকারের আচরণ ও কৌশল সম্পর্কে দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে দলটিতে। বিগত ২০০৮ সাল থেকে নানা সময়ে কর্মসূচি পালনে প্রশাসনের শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত দিলেও এবার ঘটেছে ভিন্ন। সমাবেশ করার অনেক আগেই প্রশাসন থেকে বিএনপিকে ইতিবাচক মনোভাব দেখানো হয়েছে। বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান গত ৭ নভেম্বরই জানিয়েছিলেন, সমাবেশ নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে প্রশাসন। পরদিন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সরকারের কাছে আশা প্রকাশ করেন, যে সমাবেশে অনুমতি পাবে তার দল।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার কক্সবাজার সফরে যেমন মানুষ হয়েছিল এর থেকেও বেশি মানুষ হবে বলে আশা করি। তবে কম হবে না।’

রবিবারের সমাবেশকে বিএনপির টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচনা করে সাবেক এই স্পিকার বলেন, ‘অনেকের ধারণা সমাবেশটি টার্নিং পয়েন্ট হবে। এই সমাবেশটিই হবে পরবর্তীবার ক্ষমতায় যাওয়ার প্রস্তুতি পর্বের শুরু। এই সমাবেশের পর বিভিন্ন বিভাগ ও জেলায় সমাবেশ হবে। স্থায়ী কমিটির পরবর্তী সভায় এ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

তবে সমাবেশ থেকে খালেদা জিয়া কোনও বার্তা দেবেন কিনা এমন প্রশ্নে বিএনপির প্রবীণ এই নেতা জানান, রাজনৈতিক ইস্যুগুলোর ওপরই আলোচনা হবে। প্রধান বিচারপতির প্রসঙ্গ থাকবে, নির্বাচন, মামলা, দ্রব্যমূল্যসহ নানা বিষয় থাকবে। তবে বেশিরভাগ পুনরাবৃত্তি হবে বলেও মনে করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার।

বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, রবিবারের সমাবেশের গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হচ্ছে, বিএনপি নেতারা আগ্রহ নিয়েই সমাবেশের দায়িত্ব নিয়েছেন। বিগত অনুষ্ঠানগুলোয় দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া বা মির্জা ফখরুলকে এ বিষয়ে অনুরোধ করতে হলেও এবার তার প্রয়োজন হচ্ছে না। দায়িত্ব পাওয়ামাত্রই বাস্তবায়নের ব্যাপারে ইতিবাচক আগ্রহ নিয়ে কাজে নেমে পড়েছে বিএনপি ও দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

এদিকে, রবিবার দুপুর ২টা নাগাদ ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সমাবেশ করবে বিএনপি। দুপুরের আগে মঞ্চে সাংস্কৃতিক আয়োজন ও মহানগর বিএনপি নেতাদের বক্তব্য চলবে। দুপুর ২টার পর খালেদা জিয়া সমাবেশস্থলে পৌঁছলে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।

শায়রুল কবির খান জানান, দুপুর দুইটার পর মঞ্চে উঠবেন খালেদা জিয়া। সমাবেশে বিএনপির সিনিয়র নেতা, স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বক্তব্য রাখবেন।

ইতোমধ্যেই শনিবার দুপুরে মির্জা ফখরুল বলেছেন, রাজনৈতিকভাবে বিএনপির এ সমাবেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করছি সরকার আমাদের সার্বিক সহযোগিতা করবে।’

সমাবেশের অনুমতি দেওয়ায় পুলিশকে ধন্যবাদ জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, প্রত্যাশা করছি শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশ ও প্রশাসনের কাছ থেকে আরও সহযোগিতা পাবো।

শনিবার বিকালে মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান শায়রুল কবির। ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের তত্ত্বাবধানে নেতাকর্মীরাও কাজে সহযোগিতা করছেন। রাত আটটার দিকে সমাবেশস্থল থেকে শায়রুল কবির খান জানান,‘মঞ্চের খুঁটি বসানোর কাজ শেষ হয়েছে।’

আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। কোনও ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ যেন তৈরি না হয় সেজন্য আমাদের সতর্ক ব্যবস্থাপনা থাকবে।’

এদিকে, সমাবেশে অংশ নিতে ২০ দলীয় জোটকে জানানো হয়নি। বিএনপি নেতারা বলছেন, সমাবেশটি দলের একক সমাবেশ। জোটের কয়েকজন সিনিয়র দায়িত্বশীল নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, শনিবার রাত আটটা পর্যন্ত কোনও আমন্ত্রণ তারা পাননি। তাই তারা এ নিয়ে স্বপরিচয়ে উদ্ধৃত হতে অনিচ্ছুক।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •