আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সৌদি আরবে কমপক্ষে ১০ হাজার কোটি ডলার দুর্নীতি হয়েছে। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, গত কয়েক দশক ধরে পরিকল্পিতভাবে বিপুল পরিমান অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। শনিবার ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু হয়।

অ্যাটর্নি জেনারেল শেইখ সৌদ আল মোজেব বলেছেন, শনিবার রাতে শুরু হওয়া দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত ২০১ জনকে আটক করা হয়েছে।

তবে তিনি আটক হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় জানাননি। বিবিসির এক খবরে বলা হয়েছে, দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের প্রথমদিনেই ১১জন প্রিন্স, চারজন মন্ত্রী, বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী এবং সাবেক মন্ত্রীকে আটক করা হয়। আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন, ধনাঢ্য ব্যবসায়ী প্রিন্স আলওয়ালেদ বিন তালাল, প্রিন্স মিতেব বিন আবদুল্লাহ এবং তার ভাই প্রিন্স তুর্কি বিন আবদুল্লাহ।

শেইখ মোজেব বলেন, এদের বিরুদ্ধে অপরাধের শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে চলমান এই অভিযানে দেশের স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কোনো প্রভাব পড়ছে না। শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টই জব্দ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শেইখ সৌদ আল মোজেব বলেন, ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে গঠিত দুর্নীতিবিরোধী নতুন কমিটি খুব দ্রুত উন্নতি করছে।

তিনি জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২০৮ জন ব্যক্তিকে তলব করা হয়। এদের মধ্যে ৭ জনকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশে বিশাল পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছে। গত তিন বছরের তদন্ত থেকে আমরা ধারণা করছি, পরিকল্পিতভাবে গত কয়েক দশকে কমপক্ষে ১০ হাজার কোটি ডলার দুর্নীতি হয়েছে।

এর আগে দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার দুইশোর বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করে সৌদি। অর্থ পাচার, ঘুষ, চাঁদাবাজি এবং সরকারি কার্যালয় সুযোগ সুবিধা গ্রহণের মতো অভিযোগ এনে ব্যাংক একাউন্টগুলো জব্দ করা হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •