মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে শায়েস্তা করতে যাচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলো

বিদেশ ডেস্ক:
রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত জাতিগত নিধন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের নেপথ্যে দেশটির সেনাবাহিনীকেই মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে পশ্চিমা দেশগুলো। এজন্য ডি-ফ্যাক্টো সরকারের সেনাবাহিনীকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করছে তারা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক অনুসন্ধান থেকে জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের বিপন্নতার অবসান ঘটাতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তবে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

২৫ আগস্ট মিয়ানমারের কয়েকটি নিরাপত্তা চেকপোস্টে আরসার দাবিকৃত হামলার পর জোরদার হয় সেনাবাহিনীর কথিত ক্লিয়ারেন্স অপারেশন। এরপর থেকেই মিলতে থাকে বেসামরিক নিধনযজ্ঞের আলামত। পাহাড় বেয়ে ভেসে আসতে শুরু করে বিস্ফোরণ আর গুলির শব্দ। পুড়িয়ে দেওয়া গ্রামগুলো থেকে আগুনের ধোঁয়া এসে মিশতে শুরু করে মৌসুমী বাতাসে। কখনও মায়ের কোল থেকে শিশুকে কেড়ে নিয়ে শূন্যে ছুড়ে দিয়েছে সেনারা। কখনও কখনও কেটে ফেলা হয়েছে তাদের গলা। মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে কখনও কখনও। নারী ও কন্যা শিশুদের বিরুদ্ধে চালানো হয়েছে অমানুষিক যৌন নিপীড়ন। তবে এইসব তথ্য পেতে রাখাইনে অবাধ প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, ইইউ, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, কানাডা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনসহ বিশ্বের সোচ্চার মানুষ এই সহিংসতা বন্ধের বার বার দাবি জানালেও তাতে কর্ণপাত করেনি মিয়ানমার। তাই দেশটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে পশ্চিমা বিশ্ব।

এরইমধ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আর অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালই একই অভিযোগ এনেছে। সংস্থাগুলো স্যাটেলাইট ইমেজ আর ভিডিওচিত্রে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অপকর্মের নজির তুলে এনেছে। রয়টার্স তাদের অনুসন্ধানে জানিয়েছে, এমন অবস্থায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকেই রাখাইনের জাতিগত নিধন পরিকল্পনার মূল অনুঘটক হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের পরিকল্পনা নিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। সেই পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওয়াশিংটন, ইয়াঙ্গুন ও ইউরোপের কয়েকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কূটনীতিককে উদ্ধৃত করে রয়টার্স বলছে, ‘কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে অনেকগুলো পথের মধ্যে সামরিক কর্মকর্তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ব্যাপারেই একমত হয়েছেন তারা।’ রয়টার্স জানিয়েছে, এ বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলস এ জন্য আরও কিছু দিন সময় নিতে পারে।

২৫ আগস্ট নিরাপত্তা বাহিনীর চেকপোস্টে বিদ্রোহীদের হামলার পর ক্লিয়ারেন্স অপারেশন জোরদার করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। ওই সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৫ লাখ ১৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। পূর্বের চার লাখের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সবমিলে প্রায় ৯ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী এখন বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। নতুন করে সেনা অভিযান জোরদার হওয়ায় আরও ৩ লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে প্রবেশের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘ। রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ১২ লাখে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশ এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার জন্য মানবিক সহায়তা নিশ্চিতে হিমশিম খাচ্ছে। এমন অবস্থায় রাখাইনে সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সহায়তা বাড়ানোরও আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

ইয়াঙ্গুনভিত্তিক কূটনীতিকরা রয়টার্সকে বলেছেন, আলোচনার দ্বার খোলা রাখার জন্য প্রথম পর্যায়ে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ প্রতীকী হতে পারে। উদাহরণ হাজির করতে গিয়ে তারা ইঙ্গিত দেন, গত বছরের ব্রাসেলস, বার্লিন ও ভিয়েনা সফর করা সেনাপ্রধানের পরবর্তী ইউরোপ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে। ইয়াঙ্গুনে নিয়োজিত এক জ্যেষ্ঠ ইউরোপিয়ান কূটনীতিক বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো এই সংকট মোকাবেলা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে। তারা এ বিষয়ে একমত যে, সমস্যার মূলে সেনাবাহিনী এবং বিশেষত কমান্ডার ইন চিফ, যেকোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপে যাকে টার্গেট করা দরকার।

মিয়ানমার নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আলোচনা সম্পর্কে অবগত যুক্তরাষ্ট্রের দুইজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ মিন অং হ্লাইংসহ বেশ কয়েকজন জেনারেলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা আরোপ হলে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ জব্দ, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষিদ্ধ এবং এদের সঙ্গে মার্কিনিদের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

উল্লেখ্য, সেনাবাহিনী প্রত্যক্ষভাবে দেশ শাসন থেকে সরে আসার পর ২০১২ সালে মিয়ানমারের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে ইইউ। নব্বইয়ের দশক থেকে চলে আসা অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা এখনও রয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের ওপর থেকে বেশিরভাগ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা রেখেছে। তবে আবারও মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বৃহৎ পরিসরে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে প্রশাসনে তেমন সমর্থন নেই। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, এক মাস আগেও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি আলোচনায় ছিল না। তবে ঘরবাড়ি ছেড়ে রোহিঙ্গাদের পালিয়ে যাওয়া পশ্চিমা নীতিনির্ধারকদের চাপে ফেলেছে। নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনায় এই চাপ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছে রয়টার্স।

সর্বশেষ সংবাদ

চট্টগ্রামে লালদিঘীতে আজ মেলা, কাল বলীখেলা

নিউজার্সীর রাটগারস ইউনিভার্সিটিতে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত

অলিক মহাশক্তির সন্ধানেই বাউলরা প্রেম ও বিশ্বাস নিয়ে মাজার সঙ্গীত গায়

শপথ নিলেন বিএনপির জাহিদুর

চকরিয়া উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী সাঈদী , ছুট্টো ও জেসি শপথ নিচ্ছেন

পানি নেওয়ায় মহিলাকে পেটালেন মাদ্রাসা শিক্ষক (ভিডিও)

শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে শিক্ষকদের ধূমপানে নিষেধাজ্ঞা, পুরস্কারে বন্ধ ক্রোকারিজ

চৌধুরী পাড়া রাখাইন পল্লীতে বিরল প্রজাতির প্রাণী উদ্ধার

নাইক্ষ্যংছড়িতে প্রতিপক্ষের হামলায় উখিয়ার যুবক খুন

মোমবাতির আগুনে পুড়লো ৪টি বসতবাড়ি : ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি

কক্সবাজার-চট্টগ্রাম সড়কে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ

হোটেল সীগালে অগ্নি প্রতিরোধ, নির্বাপন ও চিকিৎসা বিষয়ক প্রশিক্ষণ

নাইক্ষ্যংছড়িতে ৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করলেন বীর বাহাদুর

প্রেমিককে ভিডিও কলে রেখেই ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে পড়েন প্রেমিকা

‘২ বছরের মধ্যে কুতুবদিয়ায় জাতীয় গ্রীড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হবে’

ঈদগাঁওতে যুবলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা

সুপারবাগ: বাংলাদেশে আইসিইউ-তে রোগী মৃত্যুর বড় কারণ!

৪০ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রথম স্থান অর্জন

পান-সিগারেট খেয়ে ক্লাসে যেতে পারবেন না শিক্ষকরা

যুবলীগ নেতাসহ দুই যুবককে ছুরিকাঘাত করলো কেরুনতলীর সন্ত্রাসীরা