মোঃ রেজাউল করিম, ঈদগাঁও:

ঈদগাঁওর স্কুল ছাত্রীকে প্রেমের অভিনয়ে জোর পূর্বক অপহরণের ১ মাস ২০ দিন পর অপহরণকারীকে আটক ও ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। ৭ অক্টোবর তাদের দু’জনকে কোর্টে সোপর্দ করে তদন্ত কেন্দ্র পুলিশ।

প্রাপ্ত তথ্যে প্রকাশ, মাসাধিককাল আগে ঈদগাঁও ভোমরিয়াঘোনার স্কুল ছাত্রী সাফা মারওয়াকে বিদ্যালয় থেকে বাড়ী যাওয়ার পথে জোর পূর্বক অপহরণ করে নয়ন নামের এক যুবক। সে পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের মুজিবুর রহমানের পুত্র। এর আগে রং নাম্বারে মোবাইলে এ ছাত্রীর সাথে তার যোগাযোগ হয়। পরে সে প্রেমের ভানে তার সাথে প্রতারণায় লিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে তাকে জোর করে চট্টগ্রাম শহরে নিয়ে যায়। সেখানে কয়েকটি বাসা বদলের পর সর্বশেষ অক্সিজেন এলাকার একটি বাড়ীতে উঠে। ইতিমধ্যে তাকে নানা সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে। কৌশলে ঐ ছাত্রী তার পরিবার-পরিজনকে অবস্থানের কথা জানায়। শুক্রবার ঐ বাসায় তাকে যুবকটি বেদম মারধর করলে সে পাশর্^বর্তী একটি বাসায় গিয়ে আশ্রয় নেয়। পরে সেখান থেকে তার চাচা মোস্তাক আহমদের কাছে খবর পাঠায়।

অন্যদিকে মোস্তাক এ খবরটি চট্টগ্রামে অবস্থানরত ঐ ছাত্রীর শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলামকে মোবাইলে অবহিত করলে তিনি কোতোয়ালী মোড় থেকে তাৎক্ষণিক সিএনজি যোগে তার সঙ্গে থাকা বশির, মনজুরসহ আরো একজনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এসময় তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে যুবক নয়ন পালাতে চেষ্টা করলে মনজুর ও বশির তাকে ঝাপটে ধরে। পরে ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র মারফত তারা খবরটি স্থানীয় বায়েজিদ থানা কর্তৃপক্ষের গোচরীভুত করেন। থানা কর্তৃপক্ষ সাথে সাথে ডিউটিরত টহল পুলিশকে জানালে তারা ঘটনাস্থল থেকে ঐ দুজনকে থানা হেফাজতে নিয়ে যান। এদিকে চলতি মাসের ৩ অক্টোবর এ সংক্রান্ত ঘটনায় অপহৃতের চাচা মোস্তাক আহমদ ঐ যুবকের বিরুদ্ধে কক্সবাজার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৭। অপহরণের অভিযোগে দায়েরকৃত এ মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় ঈদগাঁওর এসআই জাহাঙ্গীর আলমকে। তিনি খবর পেয়ে ভিকটিমের পরিবার-পরিজনসহ চট্টগ্রাম গিয়ে তাদের ঈদগাঁওতে নিয়ে আসেন। শনিবার সকালে দু’জনকে কোর্ট হাজতে পাঠানো হয়।

জানতে চাইলে মো. সিরাজুল হক জানান, প্রতারক যুবকটি বিভিন্ন প্রতারণার মাধ্যমে এ ছাত্রীর সাথে যোগাযোগ রেখে তার সর্বনাশ ঘটিয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, যুবকটি বিয়ের কথা দাবী করলেও তা তদন্তাধীন রয়েছে। উক্ত মামলায় নয়নসহ আরো বেশ কয়েকজনকে আসামী করেন বাদী ভোমরিয়াঘোনার মোস্তাক আহমদ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •