২০ বছর ধরে একই কর্মস্থলে এক কর্মচারী!

govt.__1.jpg

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া :

মো. হাবিবুর রহমান। কক্সবাজারের পেকুয়া প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের অধীন মাঠ সহকারী হিসেবে কর্মরত রয়েছে। জানা গেছে, গত ২০ বছর পূর্বে তিনি পেকুয়া বাজারস্থ পশু হাসপাতালে মাঠ সহকারী হিসেবে যোগদান করেছিলেন। যোগদান করার পর থেকে অধ্যবধি পর্যন্ত তিনি একই কর্মস্থলে সরকারী চাকুরী করে যাচ্ছেন বেশ আয়েশের সাথে! সরকারী চাকুরীর নিয়ম হচ্ছে, কোন সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী একই কর্মস্থলে তিন বছর অতিক্রম হলে তাকে অন্যত্র বদলী করবে স্ব-স্ব বিভাগ বা মন্ত্রণালয়। কিন্তু ব্যতিক্রম পেকুয়া প্রাণী স¤পদ অধিদপ্তরের মাঠ কর্মচারী মো. হাবিবুর রহমানের ক্ষেত্রে। তিনি একাধারে গত বিশ ধরে একই কর্মস্থলে কর্মরত থেকে নানান অনিয়ম ও দূর্নীতি করলেও রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ। পেকুয়া পশু হাসপাতালকে ওই মাঠ সহকারী হাবিবুর রহমান ব্যক্তিগত ব্যবসা প্রতিষ্টানে রূপান্তরিত করেছেন। পেকুয়া পশু হাসপাতালে টাকা ছাড়া কোন সেবাই পায়না পেকুয়ার সাত ইউনিয়নের বাসিন্দারা।

মগনামা ইউনিয়নের কৃষক ছমদ আলী ও আলা উদ্দিন জানান, গত কিছু দিন পূর্বে তাদের দুইটি গরুর কৃত্রিম প্রজজনের ভ্যাকসিন নিতে পেকুয়া বাজারস্থ পেকুয়া পশু হাসাপালে নিয়ে গিলে সেখানে দায়িত্বে থাকা মাঠ সহকারী হাবিবুর রহমান তাদের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা আদায় করেছেন। অথচ সরকারীভাবে ভ্যাকসিন দিতে এতো টাকার প্রয়োজন হয়না। আর তাদের সাথে চরম দূর্বব্যহারও করেছেন ওই সরকারী কর্মচারী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রতি বছর পেকুয়া পশু হাসপাতালের জন্য লাখ লাখ টাকার সরকারী ঔষধ বরাদ্দ দিয়ে আসছে। বিগত বছর গুলোতে সরকারী বরাদ্ধের এসব ঔষধ বা পশুর বিভিন্ন ভ্যাকসিন মোটা দামে বাইরে বিক্রি করে দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ওই মাঠ সহকারী হাবিবুর রহমান। পেকুয়ায় গত ২০ বছর ধরে একই কর্মস্থলে মাঠ সহকারী হিসেবে কর্মরত থাকার সুযোগকে পুঁজি করে নানান অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত ঘুষের টাকা দিয়ে পেকুয়া বাজারে দক্ষিণ পার্শ্বে জমি ক্রয় করে সেখানে পাকা দালাল বাড়ি নির্মান করে সেখানে স্বপরিবারে বসবাস করছেন।

এ ব্যাপারে জানতে পেকুয়া প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের মাঠ সহকারী হাবিবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বহুবার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

কক্সবাজার জেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের এক শীর্ষ কর্মকর্তার সাথে এ ব্যাপারে আলাপ করলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, দীর্ঘদিন ধরে হাবিবুর রহমান পেকুয়ায় মাঠ সহকারী হিসেবে কর্মরত রয়েছে। শিগগিরই খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

Top