১৫ দিন অভুক্ত থেকে মারা গেল রোহিঙ্গা শিশু

Teknaf-pic-26.11-1.jpg

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ:
টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে (স্থানীয় ভাষায় টাল) অনাহারে জানে আলম নামে ৫ মাস বয়সী রোহিঙ্গা শিশু মারা গেছে।

শনিবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে নামাজে জানাজা শেষে নিকটস্থ গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

ওই শিশুর অসহায় মা নুর বেগম জানান, তারা মিয়ানমারে অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে প্রাণ বাঁচাতে একমাত্র শিশুপুত্র জানে আলম ও অবিবাহিত এক বোনকে নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে বনে-জঙ্গলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ২০ জনের দলটি টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উঞ্চিপ্রাং ঘাট দিয়ে গভীর রাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

গভীর জঙ্গল হয়ে দেশে ঢুকতে তাদের সময় লেগেছে ১৫ দিন। এতে তারা খাবার চিকিৎসার অভাবে ভোগে।

তাছাড়া স্বামী জামাল হোসেনকে মিয়ানমার বাহিনী ২০ দি আগে ধরে নিয়ে যায়। সে আর ফিরে আসেনি।

অপর ২ শিশুপুত্র মোঃ হাশিম (৫) এবং জাফর আলমতে (৩) মায়ের চোখের সামনে জ্বলন্ত অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করে হত্যা মিয়ানমার বাহিনী।

বাংলাদেশে ঢুকে অন্যান্য রোহিঙ্গাদের সাথে টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে (স্থানীয় ভাষায় টাল) আশ্রয় নিয়েছে ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায়।

গভীর রাতে শীত ও অনাহারে মায়ের কোলেই বিনা চিকিৎসায় মারা যায় জানে আলম।

রোহিঙ্গা নারী অসহায় মা নুর বেগম আরও জানান অর্ধাহারে-অনাহারে বনে-জঙ্গলে দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় বুকের দুধ শুকিয়ে গিয়েছিল। অনাহারে শিশুটি কংকালসার হয়ে যায়। উপরন্ত ছিল তীব্র শীত। সাথে কোন গরম কাপড়ও ছিলনা। চিকিৎসা করারও সুযোগ হয়নি। কোলেই বিনা চিকিৎসায় শিশুটি মারা যায়। একাধারে ৩ দিন অনাহারে থাকার পর এখানে এসে ভাত খাওয়ার পর বুকে সামান্য দুধ আসলে শিশুটি মৃত্যুর আগে যৎসামান্য দুধ পান করেছিল। নুর বেগম বর্তমানে টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের (অনিবন্ধিত) ‘এ’ ব্লকের একটি বাসায় আশ্রয়ে রয়েছেন। বাসার মালিক জুলেখা বেগম বলেন ক্যাম্পের বাইরে পানি সংগ্রহ করতে গিয়ে ব্রীক ফিল্ডের পাশে কংকালসার শিশুসহ এক মহিলাকে দেখে দয়াপরবশঃ হয়ে মানবিক কারণে এনে আশ্রয় দিয়েছি।

লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চেয়ারম্যান হাফেজ মোঃ আয়ুব জানান আজ ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত শুধু লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পেই ২ হাজারেরও বেশী অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা নারী-শিশু এবং স্বল্প সংখ্যক পুরুষ স্ব-স্ব আতœীয়-স্বজনের বাসায় আশ্রয় নিয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গার সংখ্যা। তারা নয়াপাড়া নিবন্ধিত ক্যাম্প, উখিয়ার কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প, কুতুপালং অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছাড়াও কক্সবাজার, মহেশখালী, নাইক্যংছড়িসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে।

Top