হ্নীলায় নিরীহ ব্যক্তিকে ইয়াবা চুরির মিথ্যা অভিযোগে হয়রানী

teknaf_2.jpg

শামশুল আলম শারেক, টেকনাফ :

টেকনাফের হ্নীলা পশ্চিম সিকদার পাড়া এলাকার মৃত সব্বির আহমদের পুত্র ইয়াবা গড ফাদার নুরুল আবছার প্রকাশ গরু আবছার একই এলাকার মৃত আব্দুর রহমানের পুত্র শ্রমজীবি ছৈয়দ আহমদকে ইয়াবা চুরির মিথ্যা অভিযোগ এনে হয়রানীর অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিবারের অভিযোগে জানা যায়Ñ ২৪ নভেম্বর বিকাল ৪টার দিকে শ্রমজীবি ছৈয়দ আহমদকে ইয়াবা গডফাদার নুরুল আবছার বাড়ীতে রাজমিস্ত্রীর কাজ করতে হবে বলে ডেকে এনে ইয়াবা চুরির মিথ্যা অভিযোগে আটকে রাখে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে খবরটি জানাজানি হলে মারধরের এক পর্যায়ে ছৈয়দ আহমদ কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরে ইয়াবা গডফাদার নুরুল আবছার তার সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে এলাকায় খোঁজাখুঁজির পর তাকে পেলে প্রাণে মেরা ফেলার হুমকি ধমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে। এমনকি চুরি করা ইয়াবা ট্যাবলেট ফেরত না দিলে তাকে ধরে ইয়াবা দিয়ে পুলিশের মাধ্যমে মিথ্যা মামলায় জড়াবে বলেও হুমকি দিচ্ছে। এমতাবস্থায় একজন সামান্য রাজমিস্ত্রী শ্রমজীবি ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা যে কোন সময় ইয়াবা সংক্রান্ত মিথ্যা মামলায় জড়ানোর আশংকায় ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। এদিকে নুরুল আবছার এলাকার একজন চিহ্নিত ইয়াবা গড ফাদার। দুই বছর পূর্বেও তার কিছুই ছিল না। সে শুধু হ্নীলা ষ্টেশনেই কসাই কাজ করে সংসার চালাত। বর্তমানে কসাই কাজ বাদ দিয়ে ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িয়ে অতি অল্প সময়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে আলীশান বাড়ীসহ কয়েকটি গাড়ির মালিক হয়ে গেছে। বর্তমানে তার ইয়াবার চালান নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় পাচার করতে গিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার কারাগারে অনেক নিরীহ লোকজন জেল খাটছে। এমনকি ইয়াবার টাকায় অবৈধ অস্ত্র কিনে এলাকার কিছু উঠতি বয়সের যুবকদের হাতে দিয়ে একের পর এক অস্ত্রের মহড়া ও মারামারির ঘটনা ঘটিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও এলাকার উঠতি বয়সের যুবকদের হাতে ইয়াবা তুলে দিয়ে রাত দিন ইয়াবা সেবন করিয়ে তার বডি গার্ড হিসেবে ব্যবহার করছে। ঐ সব যুবকদের ব্যবহার করে তার বাড়ী পাহারা ও তাকে প্রশাসনের অভিযান থেকে বাঁচাতে সংবাদ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে। এভাবে একের পর এক অস্ত্রের মহড়া ও ইয়াবা সেবন করিয়ে উঠতি বয়সের যুবকদের ধ্বংস করে এলাকায় বিপর্যয় সৃষ্টি করে গেলেও উক্ত ইয়াবা গডফাদার নুরুল আবছার এখনও ধরা ছোয়ার বাহিরে রয়েছে। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামীতে এলাকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষসহ প্রাণহানি ঘটার আশংকা করা হচ্ছে। তড়িৎ এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি এলাকাবাসীর জোর দাবী। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত নুরুল আবছারের মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগ করে মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Top