হোয়াইক্যং-এ ইয়াবা সিন্ডিকেট সক্রিয়

yaba_1-2.jpg

ফাইল ফটো।

কাদের হোছাইন, কক্সবাজার :

মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে টেকনাফের হোয়াইক্যং এলাকায় নীরব ঘাতক ইয়াবা সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী। টেকনাফ হোয়াইক্যং থেকে শুরু করে দেশের অপর প্রান্ত তেঁতুলিয়া পর্যন্ত বড় বড় শহর ছাড়িয়ে গ্রামগঞ্জের অজোপাড়াগাঁয়ে হাত বাড়ালেই মিলছে কেজি ড্রাগ ইয়াবা। এসব ইয়াবাহ প্রচারকারীরা হোয়াইক্যং এলাকার ইয়াবা ও মানবপ্রচারকারী সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের দু-একজন সদস্য বার্মার ঘড়িপাড়া থেকে বিবাহ করিয়াছে। এদের মধ্যে তৈয়াম গুলালের ছেলে ছৈয়দ আলম বার্মার ঘড়ি পাড়া থেকে বিবাহ করিয়াছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়, উত্তর পাড়া এলাকার আব্দু শুক্কুরের ছেলে ফরিদুল আলম, জাফর আলম, বালুখালী এলাকার ইসলামের ছেলে গিয়াস উদ্দীন, মুলা পাড়ার তৈয়ম গোলালের ছেলে সামশুল আলম , লম্বাবিল এলাকার উমর আলীর ছেলে মো: কালাম, আঁধারী এলাকার আপেলেতনের ছেলে পুলিশ মারা সহ বিভিন্ন মামলার আসামী ডাকাত খুরশেদ আলম সহ আরো অনেকে এ সিন্ডিকেটে জড়িত আছে বলে এলাকাবাসী জানান । সূত্রগুলো জানায়, ইয়াবার বিস্তার ঘটার পেছনে বড় ভূমিকা পালন করেছে প্রশাসনের রহস্যময় নীরবতা। এই সিন্ডিকেট প্রশাসনকে হাতের মুঠোয় রেখে তাদের এ ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এরা বার্মার মন্ডুতে ইয়াবা কারখানাগুলোতে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদের শাশুর বাড়ী বার্মায় হওয়ায় সহজে বার্মার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারছে বলে সচেতন মহলের দাবী। হোয়াইক্যং থেকে পাচারকৃত পাগলা বড়ি আর বাংলাদেশে নেশার রাজ্যে ইয়াবা এখন বহুল পরিচিত নাম। এটি লাল, কমলা বা সবুজ রঙের গোল ছোট একটি ট্যাবলেট। প্রতিটি ইয়াবা প্রকারভেদে পঞ্চাশ টাকায় কিনে তিনশত থেকে ছয়শত টাকায় বিক্রি করছে এই সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী । কী পরিমাণ ইয়াবা দেশে ছড়িয়ে দিচ্ছে এই সিন্ডিকেট এর সঠিক কোনো পরিসংখ্যান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে না থাকলেও এলাকাবাসীর ধারণা, প্রতিদিন অন্তত ১০ লাখ ইয়াবা বড়ি দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে দিচ্ছে এই সিন্ডিকেট ইয়াবা ব্যবসায়ী। এর পুরোটাই আসছে সীমান্ত গলিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে। মাঝে মধ্যে ইয়াবা আটক হলেও তা অতি নগণ্য। গোয়েন্দা বিভাগের তথ্যমতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মাঠপর্যায়ের লোকজন ধরা পড়লেও মূল হোতারা সব সময় রয়ে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ইয়াবার নেটওয়ার্ক পরিচালিত হয় টেকনাফের হোয়াইক্যং থেকে। আর তা নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী কয়েক ব্যক্তি। হোয়াইক্যং-এ রয়েছে তাদেরই মাফিয়া চক্র। এ চক্রের সদস্য রাজনৈতিক ব্যক্তি থেকে শুরু করে বিত্তশালী কয়েকজন ব্যবসায়ী জড়িত আছে এলাকাবাসী জানান। ইয়াবা ব্যবসায় করে তারা বানিয়ে ফেলেছেন রাতারাতি কোটি কোটি টাকা। সূত্রগুলো বলছে, কক্সবাজারের থেকে রাজধানীতে ইয়াবা পাটাচ্ছে কয়েকটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। এদের রয়েছে সাব-গ্রুপ। কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকার একশ্রেণীর মধ্য ও নিম্নবিত্ত বেকার যুবকদের ৮ বা ১০ জনের দল বাসে বা ট্রেনে ঢাকায় যায়। তারাই মূলত এর বাহক। ছোট আকারের এই ট্যাবলেট বহনের কায়দাও অভিনব। শার্টের কলারে, মুঠোফোনের ভেতর, প্লাস্টিকের প্যাকেটে ভরে পায়ুপথে ঢুকিয়ে আনার রেকর্ডও রয়েছে। ট্রেনে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে টঙ্গী স্টেশনে নেমে যায় তারা। এভাবে চলতে থাকলে ইয়াবার ভয়াবহ ধোঁয়া এরকম আগামী প্রজন্মকে ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড় করাবে। ভয়ঙ্কর ইয়াবার সর্বনাশা থাবায় বিপন্ন হয়ে পড়েছে অসংখ্য পরিবারের সন্তানদের জীবন। এ অবস্থায় আগামীতে দেশ মেধাশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এই সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে আইনত শাস্তি দিলে হাজারো স্কুল, কলেজ , বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী তাদের এ নেশার আসক্ত থেকে রক্ষা পাবে এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশা ব্যক্ত করেন এলাকাবাসী।

Top