হোটেল রাজমনি যেন মিনি পতিতালয়

poti.jpg

আবদুর রাজ্জাক, কক্সবাজার:
কক্সবাজার শহরে হোটেল ব্যবসার আড়ালে চলছে জমজমাট পতিতা ব্যবসা। থানা পুলিশ বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে পতিতা ও দালালদের আটক করেলেও কিছুতেই থামছে না এই পতিতা ব্যবসা। বিশেষ করে শহরের প্রধাণ সড়ক(জনতা ব্যাংকের সামনে) অর্থাৎ ভোলা বাবুর পেট্রোল পাম্পের সামনে মোহাম্মদ উল আলমের মালিকানাধীণ রাজমনি হোটেল প্রকাশ্যে প্রশাসনের নাকের ডগায় দিন রাত্রে চলছে প্রকাশ্যে পতিতা ব্যবসা। মনে হয় যেন রাজমনি হোটেল একটি মিনি পতিতালয়। দু’ সিফটে ভাগ করে এই হোটেলে চলে প্রকাশ্যে পতিতা ব্যবসা। দিনে চলে রেজিষ্টারবিহীন ঘন্টা ব্যাপী দেহ ব্যবসা আর রাত্রে চলে হোটেলে অবস্থারত বোর্ডারদের সিরিয়াল ভিত্তিক পতিতা ব্যবসা। রাজমনি হোটেলে কর্মরত ম্যানেজার আলমগীর হোসেন আকাশ ও হোটেল বয় ওবাইদুল হক রাজধাণী ঢাকাসহ জেলার বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জ থেকে মহিলা ও উঠতি বয়সের তরুণী সংগ্রহ করে প্রতিদিন তাদেরকে দিয়ে ঘণ্টা ও নাইট হিসেবে এই হোটেলে অবৈধভাবে দেহ ব্যবসা করে টাকার পাহাড় গড়েছে। ফলে ধংসের পথে ধাবিত হচ্ছে আগামী প্রজম্মের তরুণ ও যুব সমাজ। সচেতন মহলের মতে,পুলিশ,র‌্যবসহ আইনশৃংখলাবাহিনীর সদস্যরা এসব হোটেলে অভিযান চালিয়ে খদ্দরসহ পতিতা ও দালালদের গ্রেফতার করলেও হোটেল কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বে নিয়োজিত ম্যনেজারদের আটক না করায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এসব পতিতা ব্যবসা। পতিতাদের তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন স্কুল,কলেজ ও মাদ্রাসা পড়–য়া ছাত্রী,বিভিন্ন এনজিও সংস্থায় কর্মরত মহিলা,স্বামী প্রবাসি গৃহবধুসহ বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জের উঠতি বয়সের তরুণীরা।

আইনর্শৃংখলাবাহিনী সূত্রে জানা যায়,আবাসিক হোটেলের নিয়ম অনুযায়ী হোটেল কর্তৃপক্ষকে যে কোন ব্যক্তি (পুরুষ-মহিলা) হোটেলে রুম বুকিং করার সময় হোটেল রেজিষ্টারে বোর্ডারদের নাম,পিতা/স্বামীর নাম ও সঠিক ঠিকানাসহ তাদের সই লিপিবদ্ধ করে তাদের নিজস্ব ক্যামেরা দিয়ে রুম বুকিং করা বোর্ডারদের ছবি তোলার নিয়ম থাকলেও পর্যটন নগরী কক্সবাজার জেলায় এসব নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে হোটেল ব্যবসার আড়ালে পতিতা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন। রাজধানী ঢাকা,চট্রগ্রামসহ সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এই নিয়ম পালন করা বাধ্যতামুলক হলেও কি কারণে এবং কোন অদৃশ্য শক্তির ইশারায় এসব নিয়ম মানা হচ্ছেনা তা সচেতন মহল ও অভিজ্ঞ মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে।

না প্রকাশ না করার শর্তে এই হোটেলের সামনের একাধিক দোকানদার জানান, হোটেল কর্তৃপক্ষ থানা পুলিশকে মোটা অংকের বিনিময়ে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে দিন দুপুরে এসব অবৈধ পতিতা ব্যবসা চালিয়ে আসছে র্দীঘ দিন ধরে। সূত্রে জানা যায়, পতিতা ব্যবসার পাশপাশি মাদকের হাট বসিয়ে আসছিল। উক্ত অপকর্মের নেতৃত্বে দিয়ে আসছে শহরের চিহ্নিত মাদক ও পতিতা ব্যবসায়ীরা। তাদের এই অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তার উপর নেমে আসে হোটেল কর্তৃপক্ষের নির্যাতনসহ বিভিন্ন রকম হয়রানি। ফলে ।য়ে কেউ এর প্রতিবাদ করে না।

জানা যায়,বিভিন্ন পতিতা ব্যবসায়ী ও দালালরা ঢাকা,কুমিল্লা,চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট অংকের টাকার লোভ দেখিয়ে উঠতি বয়সের তরুণীদের সংগ্রহ করে কক্সবাজারের তালিকাভুক্ত এই হোটেলে সরবরাহ করে থাকে অনেক সময় তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে রুম নিয়ে রাত্রে হোটেলে অবস্থারত বোর্ডারদের বিভিন্ন রুমে মোটা টাকার বিনিময়ে এসব তরুনীদের ঘন্টা ও সারা রাত্রের জন্য ভাড়া দেয়। আর এসব দালালদের সাথে হোটেল কর্তৃপক্ষের রয়েছে গোপন আতাত। কুমিল্লা থেকে আসা করিম নামের এক দালাল জানান,আমরা হোটেল কর্তৃপক্ষের গ্রীণ সিগনাল পেলে তার পর আমরা হোটেলে পতিতা নিয়ে আসি এবং সরবরাহ করে থাকি। তবে পতিতাদের উপার্জিত সিংহ ভাগ টাকা হোটেল কর্তৃপক্ষ নিয়ে নেন বলে তিনি জানান।

সম্প্রতি পুলিশ শহরের এন্ডারসন রোড়ের পাচঁতারাহোটেল,আহসান বোড়িং,সাতকানিয়া বোড়িং, ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন রাজমনি হোটেল এবং কলাতলীস্থ সাগর বিলাস ও আল-কক্স কটেজে এ অভিযান চালিয়ে প্রায় শতাধিক পতিতা,দালাল ও খদ্দর আটক করেছে।

১৩ নভেম্বর বিকালে গোপনে এই প্রতিনিধি সরেজমিনে পরিদর্শন কালে দেখা যায়, হোটেলের ৪র্থ তলার ৩০৭ নং রুমে রেজিষ্টার বিহীন ভাবে অবস্থান নেন টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ র্পূব পাড়ার আজগর আলীর পুত্র ইয়াবা ব্যবসায়ী মো: ছিদ্দিক(৫০) ও টেকনাফ ডেইল পাড়ার তাহমিনা নামের ১৬/১৭ বয়সের এক তরুণী। তাদের সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে তারা জানান, রবিবার সকালে তারা ৫’শত টাকার বিনিময়ে এই হোটেলে রুম নেন (যাহার নং-৩০৭)। পরে তারা সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে বিকেল সাড়ে পাচঁ ঘটিকার সময় হোটেলে কর্মরত ম্যানেজার আলমগীর হোসেন আকাশ ও হোটেল বয় ওবাইদুল হকের সহযোগীতায় রুম থেকে সঠকে পড়েন।

এব্যাপারে কক্সবাজার সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বখতিয়ার উদ্দিন চেীধুরী বলেন,অচিরেই এই হোটেলে০ অভিযান চালানো হবে তিনি জানান।

সরকারের সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট পর্যটন রাজধানী কক্সবাজার শহরকে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখার স্বার্থে তালিকাভুক্ত এই হোটেলে তড়িৎ গতিতে অভিযান পরিচালনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের আবেদন জানিয়েছে কক্সবাজার জেলার সচেতন মহল।

Top