স্পষ্টবাদী নির্ভীক ও দৃঢ়চেতা ফকীহুল মিল্লাত (রহ.)

abu-siddique-osmani.jpg

আবু সিদ্দিক উসমানী , এডভোকেট

প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী স্মরণে

  • মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী, এডভোকেট

আজকাল সত্যকে সত্য, মিথ্যাকে মিথ্যা, ন্যায়কে ন্যায়, অন্যায়কে অন্যায় অপকটে বলতে পারাটা খুবই কঠিন কাজ। বিশেষ করে প্রভাবশালী, ধনাঢ্য, নিয়োগদাতা, ক্ষমতাসীন, ঘনিষ্টজন কিংবা উর্ধ্বতন মহলের স্বার্থের প্রতিকূলে যাবে, এরকম জটিল বিষয় হলে ব্যাপারটির যথার্থ সমাধান জানা থাকা সত্ত্বেও জেনে-শুনে নিরব থেকে অথবা নাজানার ভান করে বিষয়টিকে আরো জটিল করে তোলা হয়। কারণ বিষয়টি সমাধান করতে গেলেই স্পষ্টভাবে বিষয়টি সম্পর্কে হক কথা মুখের উপর বলে দিলে আপনজনের স্বার্থে আঘাত লাগবে, এইভয়ে না বলার প্রবণতাই এখন স্বাভাবিক সংস্কৃতিতে পরিণত হচ্ছে। এটা সাধারণ বাংলা শিক্ষিত হউক, আর দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত হউক, সকলের ক্ষেত্রেই প্রায় একই মনোভাব দেখা যায়। এতে করে প্রকৃত তথ্য না জেনে মানুষ বিভ্রান্ত হয় ও বিড়ম্বনা বাড়ে। অন্যদিকে, সঠিক তথ্য উপাত্তের অভাব ও অস্বচ্ছতার কারণে বিষয়টি আরো জটিল আকার ধারণ করে। এক্ষেত্রে ফকীহুল মিল্লাত মুফ্তী হজরত আবদুর রহমান (রহ.) ছিলেন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। তিনি পিতার কোলে বসেই পিতার বিচার করতেন। তিনি যা জানতেন, তিনি তা কোরআন-সুন্নাহ’র আলোকে স্পষ্ট ও প্রকাশ্যে বলে দিতেন এবং প্রতিবাদ করতেন, সবাইকে সংগঠিত করতেন। পরিবেশের দোহাই কিংবা কারো বিরাগভাজন হওয়ার বিষয়টি ছিল হযরতের কাছে একেবারেই গৌন। হজরতের এই স্পষ্টবাদিতা সম্পর্কে অসংখ্য ঘটনার মধ্য থেকে প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে শুধু ৩টি ঘটনার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়ার চেষ্টা করবো।
১৯৯৮ সালের ২১ মার্চের কথা। কক্সবাজার জেলাধীন রামু উপজেলার রাজারকুল আজিজুল উলুম মাদ্রাসার বর্তমান নির্বাহী পরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ মোহছেন শরীফের বিবাহ পূর্ব এ্যাংগেজমেন্ট। কক্সবাজার সদর উপজেলার পি.এম.খালী ইউনিয়নের ধাওনখালী খলিলিয়া ছিদ্দিকিয়া ফয়েজুল উলুম মাদ্রাসার নির্বাহী পরিচালক ও ফকীহুল মিল্লাত (রহ.) এর এজাজতপ্রাপ্ত আলহাজ্ব মাওলানা মোহাম্মদ মুসলিম হচ্ছেন মাওলানা মোহাম্মদ মোহছেন শরীফের ভাবী শ্বশুর। শ্বশুরালয়ে হচ্ছে অনুষ্ঠান। কনে পক্ষে ব্যাপক খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন। ফকীহুল মিল্লাত (রহ.) আমন্ত্রিত মেহমান হিসেবে অনুষ্ঠানে এসে খাওয়া-দাওয়া শেষে পার্শ্বে ধাওনখালী খলিলিয়া ছিদ্দিকিয়া ফয়েজুল উলুম মাদ্রাসা ভবনের নীচ তলায় খোলা হল রুমে বসে উপস্থিত ৩ শতাধিক আলেম ওলামা, শুভানুধ্যায়ী, ছাত্র, মেহমান ও স্থানীয় মানুষের উদ্দেশ্যে বয়ান করছিলেন। ফকীহুল মিল্লাত (রহ.) বয়ানের শুরুতে ইসলামের দৃষ্টিতে সমাজে বিয়ের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তুলে ধরলেন। এরপর তিনি কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে বিয়ে সম্পাদনের বিভিন্ন ধাপ ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানালেন। তিনি বললেন, রাসুল (স:) জামানায় মসজিদে প্রকাশ্যে বিয়ে পড়ানো হতো এবং আক্দের পর খোরমা দিয়ে মিষ্টি মুখ করানো হতো। কনে পক্ষে কোন খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা থাকতো না। সম্ভব হলে বিয়ের পর বরপক্ষ খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করতো। বরপক্ষের এই আয়োজনকে “ওয়ালিমা” বলা হয়। ফকীহুল মিল্লাত (রহ.) বললেন, মাওলানা মোহাম্মদ মুসলিম সাহেব কনের পিতা হয়ে তার বাড়িতে এ্যাংগেজমেন্টের নাম দিয়ে যে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করেছেন, এটা অল্লাহর রাসুল (স:) এর জামানায় ছিল না, তাই কোনভাবেই ইসলাম এটা অনুমোদন করেনা। এ বিষয়ে সবাইকে জ্ঞাত করানোর জন্যই অনিচ্ছা সত্ত্বেও হজরত (রহ.) মাওলানা মোহাম্মদ মুসলিমের

দাওয়াত গ্রহণ করেছিলেন বলে বয়ানে তিনি উল্লেখ করেন। মাওলানা মোহাম্মদ মুসলিমের বাড়িতে তার কন্যার এ্যাংগেজমেন্টের দাওয়াতে এসে খাওয়া-দাওয়ার পর সে সাহেবে দাওয়াতের পূর্ব পুর্ব পুরুষদের প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসায় বসে এ্যাংগেজমেন্টের অনুষ্ঠান কোরআন সুন্নাহ’র আলোকে সম্পাদিত হচ্ছেনা বলে প্রকাশ্য সমাবেশে বয়ান করা নিঃসন্দেহে একজন দুঃসাহসিক, দৃঢ়চেতা মর্দে মুজাহিদের কাজ। এটা আজকাল অনেকেই সহজে পারেন না। এককথায় হক প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ইসলামের এই দার্শনিক ফকীহুল মিল্লাত (রহ.) ছিলেন সর্বদা কঠোর ও আপোষহীন।
দ্বিতীয় ঘটনা হলো, ২০১৩ সালের ৭ মার্চ। কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলী রহমানিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার বার্ষিক সভা। সেদিন ছিল জুমাবার। ফকীহুল মিল্লাত (রহ.) ছিলেন মাদ্রাসার মুহ্তামিম ও মাদ্রাসার বার্ষিক সভার প্রধান আকর্ষন। বিমান যোগে বেলা পৌনে ১ টার দিকে কক্সবাজার বিমান বন্দরে হজরত (রহ.) পৌঁছলেন। সেখান থেকে সোজা রহমানিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন জামে মসজিদে আসলেন। হজরত (রহ.) আসবেন এবং বার্ষিক সভা এ দু’কারণে মসজিদ ও মসজিদ চত্বর আলেম ওলামা ও মুসল্লীতে টুইটুম্বর। জুমা’র খুতবা শুরুর আগে হজরতকে একটু বয়ান করার জন্য অনুরোধ করা হলো। হজরত (রহ.) তাঁর বয়ানে বললেন, রাসুল (স:) এর জামানায় যোহরের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর পরই জুমার আযান হতো। আযানের পর সুন্নত ও অন্যান্য নামাজ আদায় শেষে খুতবা এবং জুমা’র নামাজ আদায় করা হতো। গ্রীস্ম ও শীত মওসুমে জোহরের নামাজের সময়ের ব্যাপারে সামান্য তারতম্য থাকলেও জুমা’র নামাজ সারা বছরই একই সময়ে পড়া হতো। হজরত (রহ.) বয়ানে বললেন, আমাদের দেশে জুমা’র আযানের পর খতিব সাহেব ওয়াজ করেন, মসজিদ কর্তৃপক্ষ বক্তব্য দেন, চাঁদা উঠান, এরপর সুন্নত পড়ে খুতবার আযান হয়। আযানের প্রায় ঘন্টা খানেক পর জুমা’র নামাজ আদায় করা হয়। তিনি বললেন, এই মসজিদসহ সারা দেশের প্রায় মসজিদে এরকম অনেক বিলম্বে জুমা’র নামাজ আদায় করা এখন একটা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। এটা সঠিক নয়, রাসুল (স:) এর সুন্নতের পরিপন্থি। তিনি বললেন, তাঁর পরিচালনাধীন যেসব জামে মসজিদ রয়েছে, সেসব জামে মসজিদে রাসুল (স:) এর চালুকৃত বিধানকে সামনে রেখেই যথাসময়ে জুমাসহ অন্যান্য সকল নামাজ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। এখনে লক্ষনীয় বিষয় হলো, রহমানিয়া মাদ্রাসায় এসে সেখানে মসজিদে জুমায় নামাজ আদায়ের জন্য বসে সে মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের সময়ের ত্র“টি সম্পর্কে বর্ণনা করা, অবশ্যই কোরআন সুন্নাহ’র আলোয় আলোকিত দৃঢ় মনোবল সম্পন্ন ব্যক্তিত্বের পক্ষেই এটা করা সম্ভব। অর্থাৎ জীবন-যাত্রায় যে কোন অবস্থাতেই হজরত (রহ.) সুন্নতের উপর অটল ও অবিচল থাকতেন। এ বিষয়ে উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি ঢাকাস্থ বসুন্ধরায় তাঁর প্রতিষ্ঠিত মারকাজুল ফিকরিল ইসলামী বাংলাদেশে অবস্থিত বড় জামে মসজিদের কথা উল্লেখ করলেন। তখন থেকে এ জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের জন্য আগ্রহ সৃষ্টি হলো। আলহামদুলিল্লাহ। বিগত ২২ জানুয়ারী’ ২০১৬ইং কক্সবাজার জেলা পরিষদের কর্মকর্তা জনাব আমান উল্লাহ ও ঢাকাস্থ স্টামফোর্ট ইউনিভারসিটির আইন বিভাগের মেধাবী ছাত্র সাজেদুল আলম সৌরভসহ সেখানেই জুমার নামাজ আদায় করার সুযোগ হলো। তাকওয়া অর্জনের শীর্ষ পর্যায়ে চলে যাওয়া ইসলামের এ মহান মনিষীর ইন্তেকালের পরেও যেমন কথা, তেমন কাজ। আযানের আগেই মসজিদের ভেতর-বাহির মুসল্লিতে পরিপূর্ণ হয়ে গেলো। বেলা সাড়ে ১২টার একটু আগে আযান হলো। কোন বয়ান নেই, চাঁদা আদায় নেই, যথারীতি বেলা ১২.৪৫ মিনিটে খুতবার আযান হলো, বরাবর বেলা ১:০০ টায় জুমার নামাজ আদায় করা হলো।

তৃতীয় ঘটনা হলো, কক্সবাজার শহরের টেকপাড়ার ঐহিত্যবাহী সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান ইফতেখার রসুল বাদশা মিয়া। তিনি ২নং ঘটনায় উল্লেখিত রহমানিয়া মাদ্রাসার জমিদাতা। বাদশা মিয়া ২০১৩ সালের জানুয়ারীর ৫ তারিখ ঢাকায় স্কয়ার হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাঁহ ময়দানে পরদিন বাদশা মিয়ার নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় ইমামতি করেন ফকীহুল মিল্লাত মুফতী আবদুর রহমান (রহ.)। জানাযার নামাজ শুরু হওয়ার আগে হজরত (রহ.) কে একটু বয়ান করার জন্য অনুরোধ করা হলো। হুইল চেয়ারে বসে হজরত (রহ.) বললেন, মুসলমান যেখানে ইন্তেকাল করে, তার সন্নিকটে যে কবরস্থান রয়েছে, সেখানেই কবরস্থ করা হচ্ছে, ইসলামের বিধান। সে প্রসঙ্গে ফকীহুল মিল্লাত (রহ.) রাসুল (স:) এর জামানায় একটি যুদ্ধে শহীদানদের যুদ্ধের ময়দানের পাশেই রাসুল (স:) এর নির্দেশে কবর দেয়ার কথা খুবই গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন। হজরত (রহ.) বলেন, ইফ্তেখার রসুল বাদশা মিয়া যখন অসুস্থ অবস্থায় ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তখন হজরত (রহ.) ওনাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সেখানে বাদশা মিয়া হুজুরকে দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে হজরতকে অনুরোধ করেছিলেন “হুজুর আমি তো মারা যাবো, দয়া করে আমার নামাজে জানাযাটা আপনি পড়াবেন।” তখন বাদশা মিয়ার আবেগ দেখে হজরত (রহ.) বলেছিলেন, আল্লাহ যদি সুযোগ দেন তাহলে আপনার জানাযা পড়ানোর চেষ্টা করবো ইনশ্াল্লাহ।
হজরত (রহ.) বলেন, বাদশা মিয়া যেহেতু ঢাকা স্কয়ার হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন, তাই ইসলামের বিধান মতে সেখানকার আশে-পাশের কবরস্থানেই তাকে দাফন করা উচিৎ ছিল। কিন্তু বিভিন্ন অজুহাতে বাদশা মিয়ার মরদেহ ঢাকা থেকে কক্সবাজারে এনে দাফন করা রাসুল (স:) এর চালুকৃত বিধান এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কিন্তু বাদশা মিয়ার জানাযা পড়ানোর বিষয়ে তার সাথে ওয়াদাবদ্ধ ছিলাম বলে এই জানাযায় আমাকে ইমামতি করতে আসতে হলো। ইফ্তেকার রাসুল বাদশা মিয়ার জানাযায় উপস্থিত হাজার হাজার মুসল্লীর সামনে এভাবে অপকটে সত্য কথাটি বলার সময় ফকীহুল মিল্লাত (রহ.) ঘুর্ণাক্ষরেও চিন্তা করেননি বাদশা মিয়ার পরিবারের সদস্যারা, শুভাকাংখী, কক্সবাজারে জানাযা হওয়ার কারণে জানাযা পড়তে সুযোগ পাওয়া মুসল্লীরা হয়ত মন খারাপ করতে পারেন। এটি সম্ভব হয়েছে, ঈমানী বলে বলীয়ান, ইসলামের এ মহানসাধক কোরআন-সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আকড়ে ধরার কারণে। দূর্বল মানসিকতা সম্পন্ন আমাদের পক্ষে এটি সম্ভব না হতে পারে। ইসলামের ভাষায় অসৎ, অন্যায়, অনৈতিক ও অনৈসলামিক কাজের প্রতিবাদ করার ৩টি স্থর রয়েছে। এর প্রথমটি হলো সরাসরি আঘাত করে প্রতিবাদ করা, দ্বিতীয়টি হলো মুখে প্রতিবাদ করা, তৃতীয়টি হলো ১ম ও ২য়টি সম্ভব না হলে মনে মনে ঘৃণা করা। আমরা এখন মূলতঃ বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই তৃতীয় পন্থাতেই বেশী অভ্যস্থ হয়ে পড়েছি। কিন্তু ফকীহুল মিল্লাত মুফতী আবদুর রহমান (রহ.) ছিলেন প্রথমপন্থা অবলম্বনকারী একজন সুবিশাল ব্যক্তিত্ব। যিনি অগনিত উচ্চতর, গবেষণাধর্মী ও আধুনিক দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক এবং ইসলামী অর্থনীতি ও ইসলামী ব্যাংকিং এর অন্যতম উদ্যেক্তা। যিনি ছিলেন, উপমহাদেশের শীর্ষস্থানীয় হক্কানী আলেম তৈরীর কারখানা হিসেবে খ্যাত ভারত দারুল উলুম দেওবন্দের স্বর্ণোজ্জল যুগের মেধাবী, বিস্ময়কর প্রতিভাসম্পন্ন ও অতুলনীয় কৃতিত্ব প্রদর্শনকারী একজন ব্যক্তি।
ইসলামী সভ্যতা ও সৃজনশীল সাংস্কৃতির নান্দনিক বিকাশ, নৈতিকতা সমৃদ্ধ মসজিদ ও সুন্নাহ ভিত্তিক পরিশুদ্ধ সমাজ গঠনে হজরত (রহ.) এর শ্রম ও নিরন্তর প্রচেষ্টা আজ সবার কাছে সমাধৃত। বাতিল ও মিথ্যাচারের  বিরুদ্ধে হজরত (রহ.) এর কন্ঠ ছিল সবসময় উচ্চকিত। বর্তমান জামানায় এরকম স্পষ্টবাদী, যে কোন পরিবেশে নির্ভয়ে শত প্রতিকূলতার মাঝে হক কথা বলার লোক খুঁজে পাওয়া বড়ই দুস্কর। ভাল কাজ করার আদেশ দাতা অনেক পাওয়া যাবে। কিন্তু খারাপ কাজের বাঁধা প্রদানকারীর সংখ্যা একেবারেই নগন্য। হজরত (রহ.) ছিলেন এ নগন্য সংখ্যার অন্যতম একজন। যিনি কোরআন-সুন্নাহর পরিপন্থী কোন কাজ দেখলেই প্রকাশ্যে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় তুলতেন। শায়খুল ইসলাম কুতবুল আলম সৈয়দ হোসাইন আহামদ মাদানী (রহ.) এর অন্যতম শীষ্য ও হাকিমুল উম্মত আশরাফ হজরত আলী থানভী (রহ.) এর সুশোভিত বাগানের সৌরভ ছড়ানো পুস্প হজরত শাহ আবরারুল হক হারদুঈ (রহ.) এর শীর্ষস্থানীয় খলিফা দ্বীনের এ খাদেম, ইসলামের অকুতভয় সৈনিক ফকীহুল মিল্লাত মুফতী আবদুর রহমান (রহ.) দীর্ঘদিন অস্স্থু থাকার পর গতবছর আজকের এদিনে অর্থাৎ ১০/১১/২০১৫ইং তারিখ চির বিদায়ের শরাব পান করে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে আল্লাহর মেহমান হয়ে চলে গেছেন (ইন্নালিল্লাহি——–রাজেউন)। বিচক্ষণ ও দূরদর্শী, আধ্যাত্মিক জগতের এ কিংবদন্তীর চির বিদায়ে যে শূণ্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা কখন পূরণ হবে, সেটা একমাত্র আল্লাহই ভাল জানেন। আল্লাহ ফকীহুল মিল্লাত (রহ.) কে তার কৃতকর্মের উত্তম বিনিময় দান করুন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এ স্পষ্টবাদী, নির্ভীক, দৃঢ়চেতা, অতিথি পরায়ন, মুসলিম মিল্লাতের অতন্দ্র প্রহরীকে কবুল করে নিন। আলেম ওলামার আত্মমর্যাদা ও সম্মান রক্ষায় সর্বদা আপোষহীন হজরতের সুদরপ্রসারী মিশনের অসমাপ্ত কাজ সমূহ হযরত (রহ:) এর সুযোগ্য আওলাদসহ আমাদেরকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার তৌফিক দিন। আমিন।

লেখক: এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্ট,ঢাকা।
মোবাইল নং-০১৮১৯-০২৪৮০৮, ই-মেইল- abusiddiqcox@gmail.com

Top