শেষের পথে ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় সড়কের নির্মাণ কাজ

Cox-Veterinary-University-Rd-21.11.16-2.jpg

বিশেষ প্রতিবেদক:
শহরতলীর বড়ছড়া দরিয়ানগরে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কক্সবাজার ক্যাম্পাস সড়কের নির্মাণ কাজ আগামী সপ্তাহে শেষ হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে সড়কের একাংশে আরসিসি ঢালাই বা রিজিড পেভমেন্ট এর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সড়কের বাকী অংশের কাজও আগামী সপ্তাহে শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করছেন ঠিকাদার। সড়কটি নির্মিত হলে দরিয়ানগর বড়ছড়া গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ স্বাচ্ছন্দ্য যাতায়াত সুবিধা পাবে।

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. আবছার জানান, স্থানীয় গ্রামবাসী ও চেয়ারম্যানের অনুরোধে এই সড়কটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সহযোগিতায় নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয় হবে। প্রথম ধাপে নির্মাণাধীন এ রাস্তার দৈর্ঘ হবে ৮৩০ ফুট এবং প্রস্থে হবে প্রায় ১৩ ফুট। পাশে থাকবে পাকা ড্রেন। এ রাস্তার কিছু অংশ হবে আরসিসি ঢালাই আর কিছু অংশ এইচবিবি। পরবর্তীতে এই সড়কটি গুণগত মানে আরো উন্নত করা হবে।

তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের গত সিন্ডিকেট সভায় এ রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পটি পাশ হয়েছে। এরপরই পত্রিকায় টেন্ডার আহবান করে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। আগামী জানুয়ারী মাসে প্রথমবারের মত কক্সবাজার বহি:ক্যাম্পাসে অনুষ্টেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভার প্রস্তুতি হিসাবে এই সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদার সাহাবুদ্দিন জানান- গত মাসের ২১ তারিখ রাস্তা নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর ইতোমধ্যে আশি শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গেছে। বাকী কাজ আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করেন তিনি।

তিনি দাবী করেন- বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিবীড় তদারকি ও তার আন্তরিকতায় মান সম্মতভাবে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে।

বড়ছড়া আশ্রায়ণ ভূমিহীন সমবায় সমিতির সভাপতি মাহবুব আলম ও সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন জানান, প্রায় ২৪ বছর আগে ৬৬২টি ভূমিহীন পরিবারকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে উচ্ছেদ করে এখানে পূনর্বাসন করা হয়। পরে ৯৬-২০০১ সালে এখানে মাত্র ৮০টি ভূমিহীন পরিবারের জন্য আশ্রায়ণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হলেও বাকীরা আশ্রায়ণ প্রকল্পের অন্তর্ভূক্ত হতে পারেনি। এসব প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চলাচলের জন্য গত দুই দশকেও এখানে কোন রাস্তাঘাট নির্মাণ করা হয়নি। এমনকি শিশু-কিশোর-যুবাদের জন্য কোন খেলার মাঠ ও মসজিদের জন্য জমি বরাদ্দ দেয়া হয়নি।

তারা রাস্তা নির্মাণকারী ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান।

Top