লিংকরোড মহাসড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা

link-road-coxsbazar_1.jpg

এম ইফতেখার জুয়েল :
কক্সবাজার লিংকরোড সড়ক- মহাসড়কে খানা খন্দকের কারণে  প্রতিনিয়ত ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বৃষ্টির পানি শুকালেও ভোগান্তি কমেনি লিংকরোড টু চট্টগ্রাম ও টেকনাফ-মুখী মহাসড়কের যাতায়াতকারী যাত্রীদের। মহাসড়ক জুড়ে খানা-খন্দকের মরণ ফাঁদের কারণে যানবাহন চালকরা পড়ছে চরম দুর্ভোগে। প্রতিনিয়তই শুধু বালু আর পাথর দিয়ে মহাসড়কের খানা-খন্দক ঢেকে ফেলার চেষ্টা করছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। এতে মহাসড়কে
চলাচলকারীদের দুর্ভোগ কমার পরিবর্তে, বেড়েই চলছে। রাস্তা জুড়েই বালু আর পাথর জমা হচ্ছে মহাসড়কের পাশে। সব মিলিয়ে ফাঁদ হয়ে পড়েছে লিংকরোড-টেকনাফ-ঢাকামুখি আরকান মহাসড়কের অবস্থা। লিংকরোড় মহাসড়ক থেকে কক্সবাজার পৌরসভার রুমালিয়াছড়া এলাকা পর্যন্ত
প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা ব্যাপক দুর্দশা । মহাসড়কের এমন অবস্থা প্রতিনিয়তই যানবাহন চালকদের পড়তে হচ্ছে নানা সমস্যায়।
লিংকরোড় ত্রি-মুখি মহাসড়ক দিয়ে চলাচলরত গ্রীন লাইন বাস চালক আশিকুর রহমান বলেন, মহাসড়কের এমন অবস্থায় অধিক সময় ব্যয় হচ্ছে মহাসড়ক দিয়ে চলাচলরত যাত্রীদের। অপরদিকে খাল খন্দেকের কারণে গাড়ি ধীরগতিতে চালাতে হচ্ছে ফলে যাত্রীদের তোপের মুখেও পরতে হচ্ছে প্রতিনিয়তই। মহাসড়ক দিয়ে চলাচলরত হানিফ পরিবহনের বাসচালক জয়নাল হোসেন বলেন, মহাসড়কের খানা খন্দক গুলো শুধু ইট বালু দিয়ে ভরাটের চেষ্টা করছে সড়ক ও জনপদ (সওজ)
বিভাগ।
শাহিন নামের এক পথ যাত্রী বলেন, লিংকরোডে বড় বড় বাস গুলো বেশিক্ষণ সময় ধরে দাড় করে রাখা হয় এতে খন্দকে পরিণত হয়। বৃষ্টির পানি জমে আরো বড় খন্দক হয়। যাতে ঘটছে প্রতিনিয়ত অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা। এতে দুর্ভোগ কমার পরিবর্তে বেড়েই চলছে। বৃষ্টি কমার পর খাল খন্দকের বালু মহাসড়ক জুড়ে হাওয়ায় উড়ে পরিবেশ নষ্ট করছে। ট্রাক চালক আলমগীর হোসেন বলেন, খাল খন্দকে পড়ে নিয়মিতই গাড়ি বিকল হচ্ছে। মহাসড়কে গাড়ি বিকল হলে ও ফিটনেসের দোষ। সড়কের কারণে যে গাড়ি বিকল হচ্ছে এটি দেখার কেউ নেই। একদিকে মালিকের বকুনি ও গালি শুনতে হচ্ছে অন্যদিকে পুলিশের হয়রানী। এই দিকে পৌরসভার রুমালিয়াছড়া এলাকায় নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে সড়কের খন্দক ভরাট করার চেষ্টা করলে ও তা বেশি দিন ঠিকিয়ে রাখতে পারছেনা সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগ। কবে কখন সংস্কার কাজ শুরু বা শেষ হবে সে কথা বলার কেউ নেই।
আলমগীর হোসেন নামের এক যাত্রী বলেন, সড়ক-মহাসড়কে এমনভাবে সংস্কার করে কোন লাভ নেই। এটি সরকারের টাকা নষ্ট করার একটি পদ্ধতি মাত্র। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী যদি কক্সবাজার সফরে আসে তখন সড়ক ও জনপদ বিভাগের উচ্চপর্যায় কর্মকর্তাদের নিশ্বাস বেড়ে
যায়,তখন তারা মাটি দিয়ে ও হলে ছোট- বড় খন্দক গুলো ভরাট করে দেয়। এ ধরনের ব্যবস্থাপনার কারণে বৃষ্টি হলে সড়ক-মহাসড়কের অবস্থা আরো বেহাল দশা হয়ে উঠে। এই বিষয়ে কক্সবাজার পৌরসভার (ভারপাপ্ত) মেয়র মাহবুবুর রহমান মাবু বলেন, আমি পৌরসভারকে উন্নয়ন করার জন্য জোর পদক্ষেপ নিয়েছি। শুধু সড়ক নয় পানি চলাচলের সুশৃংখল ব্যবস্থা করতেছি। এবং আমার উন্নয়ন পরিকল্পনা অব্যহত  থাকবে। কক্সবাজার পর্যটন নগরী হিসেবে যা যা করোণীয় তা আমি করতে প্রস্তুত।

এই বিষয়ে কক্সবাজার সদর ঝিলংজা ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান টিপু সোলতান বলেন, আমার যত টুকু সম্ভব আমি উন্নয়ন প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব। লিংকরোড় মহাসড়ক আমার ও দায়িত্ব আছে এবং এটি সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের উপর অর্পিত দায়িত্ব রয়েছে।

পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কক্সবাজার পরিদর্শনে এসে গণমাধ্যমকে বলেছেন, লিংকরোড়-টেকনাফ-ঢাকামুখী মহাসড়কে চার লাইনের রাস্তা করা হবে । অপরিকল্পিত সংস্কার করে মহাসড়কের অবস্থা উন্নতি করা যাবে না। মহাসড়কটিকে এভাবে সংস্কার করার পরিবর্তে নতুন করে করা হোক এটাই দাবী এই পথে চলাচল করা লাখো যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের।

Top