রোহিঙ্গা : নিষ্ঠুরতম গণহত্যার শিকার

Mahfoozul_1.jpg

বার্ডস আই…

– মাহ্ফুজুল হক

আমাদের অতি নিকটে, বলা যায় কান পাতলেই শোনা যায় এমন দূরত্বে, আমাদেরই ভাই, আমাদেরই জ্ঞাতী-গোষ্ঠীর একটি অংশ ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম, নৃশংসতম, জঘন্যতম গণহত্যার শিকার হয়ে দুনিয়া থেকে বিলুপ্ত হতে চলেছে। প্রতিদিন রোহিঙ্গা নামক বাঙালি মুসলমানদের গ্রামগুলো চারিদিক থেকে ঘেরাও করে জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে, জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হচ্ছে নারী-পুরুষ-শিশু-শশ্র্রুধারী বৃদ্ধকে। বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে শুরু করে মান্দালয় পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় পাঁচশত মাইলব্যাপী প্রলম্বিত আরাকানে ইতিহাসের সুদীর্ঘতম হাজার বছর ধরে বসবাসরত রোহিঙ্গা মুসলমানদের চিরতরে নির্মূল, নিশ্চিহ্ন করার চূড়ান্ত অভিযান চালাচ্ছে তথাকথিত শান্তির দূত অং সান সূ চী’র বার্মা আর অহিংসার ধ্বজাধারী বৌদ্ধ ঠাকুররা। মানব সভ্যতা-ভব্যতা যখন তার সর্বোচ্চ শিখরে উন্নীত তখন মুখ ব্যাদান করা, মাথা মুন্ডানো, গৌরি পোষাকে মোড়ানো মঙ্গোল চেহারার এক নব্য রক্ত পিপাসু ভ্যাম্পায়ার, অশিন উইরাথু (Ashin Wirathu) ও তার প্রেতাতœা তথাকথিত শান্তির ধ্বজাধারী অং সান সূ চি (Aung San Suu Kyi) সভ্য মানুষের একটি অংশের রক্ত নিয়ে অত্যন্ত নৃসংশতম কায়দায় হোলি খেলায় মেতেছে। রোহিঙ্গাদের এহেন দুঃখ-দুর্দশার কথা, তাদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারার কথা, ভয়ার্ত মানুষগুলোর প্রাণ হাতে নিয়ে বন-বাদাড়, পাহাড়-পর্বতে ইতস্ততঃ দৌড়ঝাঁপের কথা, উত্তাল নদী-সাগরে ছোট্ট ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার কথা ও দৃশ্য আমি বেশ ক’দিন ধরেই শুনছি, দেখছি। শুনে, দেখে কান্না চেপে রাখতে পারি না। বিলাপ করে কাঁদতে ইচ্ছে করে, ভাইকে বাঁচাতে দৌঁড়ে যেতে মন চায়, খুনীকে প্রতিরোধ করতে সর্ব শক্তি প্রয়োগ করতে মনের ভিতর থেকে প্ররোচনা পাই। মাথা মুন্ডানো, রক্ত লাল পোষাকে আবৃত, রক্ত চক্ষু আর রক্তাক্ত তরবারি হাতে দানব সদৃশ এক বীভৎস, কদাকার সঙ (ভান্তে) এসে আমার বাড়ির পাশে, আমারই চোখের সামনে আমার ভাইকে কেটে টুকরো টুকরো করছে, আগুনে নিক্ষেপ করে জীবন্ত পুড়িয়ে মারছে, আমার বোনকে জবাই করছে, মা-বোনকে প্রকাশ্যে ধর্ষণ করছে, শিশুকে বলাৎকার করছে, জীবন্ত মানুষকে গাছে লটকিয়ে রেখে মরা পশুর গোশত ছাড়ানোর মতো করে ধারালো দা-চাকু দিয়ে মানুষের গোশ্ত কেটে নিচ্ছে, পৈচাশিক কায়দায় অট্টহাস্য করছে, অসহায় বনি আদমের আর্ত চিৎকারে আকাশ ভারী হয়ে উঠছে, ঘর-বাড়ি-সম্পদ লুট করছে, মসজিদ জ্বালিয়ে দিচ্ছে। সে এক ভয়ংকর দৃশ্য। এক ভয়াল কাহিনী। চারিদিকে মৃত্যুর বিভীষিকা। পুরো রোহিঙ্গা জনপদ এখন যেন মৃত্যুপুরী। ভয়ার্ত, মৃত্যু পথযাত্রী, প্রাণ ওষ্ঠাগত মানুষের গোঙ্গানী আমি শুনছি, আমার চারিপার্শ্বে তা রণিত-অনুরণিত হচ্ছে। আর আমি চেয়ে চেয়ে দেখছি। আবার না দেখার, না শোনার ভানও করছি। আমার যেন কিছুই করার নেই! আমার যেন কিছুই বলার নেই! আমি নির্বাক চেয়ে আছি। মুখে রা শব্দটিও করছি না। পাছে কেউ শুনে ফেলে যে আমি রোহিঙ্গাদের পক্ষে কথা বলছি। আমি এমনই এক অপদার্থ ভাই, আমি এমনই এক অকৃতজ্ঞ সন্তান, আমি এমনই এক অসহায় পিতা! মার্টিন নে’মুলার এর সেই বিখ্যাত উক্তি এখন যেন আমারই কথা। (Martin Niemöller’s, a prominent Protestant pastor, quotation:) ÔFirst they came for the Socialists, and I did not speak out— Because I was not a Socialist. Then they came for the Trade Unionists, and I did not speak out— Because I was not a Trade Unionist. Then they came for the Jews, and I did not speak out— Because I was not a Jew. Then they came for me—and there was no one left to speak for me.’) তিনি বলেছিলেন, তারা (নাৎসিরা) প্রথমে এলো সোস্যালিস্টদের খুন করতে, আমি প্রতিবাদ করিনি-কারণ আমি সোস্যালিস্ট ছিলাম না। তারপর তারা এলো ট্রেড ইউনিস্টদের হত্যা করতে, আমি প্রতিবাদ করিনি- কারন আমি ট্রেড ইউনিস্ট ছিলাম না। তারপর তারা এলো ইহুদিদের মারতে, আমি প্রতিবাদ করিনি-কারণ আমি ইহুদি ছিলাম না। অতঃপর তারা আমাকে ধরতে এলো, তখন আশেপাশে কেউ রইলো না যে প্রতিবাদ করবে।

কেহ কেহ বলেন, ‘ওরা বর্মাইয়া। ওরা মরে তো মরুক। তাতে আমাদের কী-ইবা এসে যায়!’ ওই সকল আতœপ্রবঞ্চক, শিকড় বিনাশীদেরকে আমি বলবো শরৎচন্দ্র পড়ে নিতে। বলবো ড. মুহাম্মদ ইব্রাহীম পড়ে নিতে। বলবো মহাকবি আলাওল পড়ে নিতে। যারা নিজেদের শিকড়কে অস্বীকার করে তারা মানুষ না অমানুষ তা একদিন ইতিহাস ঠিকই ফয়সালা করবে। রোহিঙ্গাদের আদি-উৎস প্রসঙ্গে এই কলামে কয়েকবারই লেখা হয়েছে। দ্বিরূক্তির ভয়ে বিরত রইলাম। বর্মাইয়া, বর্মাইয়া না বলে বরং বলা উচিত : হ্যাঁ, ওরা আমাদেরই জ্ঞাতী-গোষ্ঠী। ভারত-বাংলাদেশ-বার্মা যখন এক দেশ ছিলো তখন এবং তারও অনেক পূর্ব থেকেই ওরা এখান থেকে সেখানে গিয়েছিলো। কিন্তু এখন তারা সেখানকার মানুষ, সেখানকার ভূমিপুত্র। পুরো আরাকান স্টেট (পরিবর্তীত নাম রাখাইন স্টেট) ওদের মাতৃভূমি, স্বদেশ। সেখানে তাদের জমি-জমা, ঘর-বাড়ি, মসজিদ-মাদ্রাসা, পিতৃপুরুষের কবরগাহ সবই আছে। সব চাইতে বড়ো কথা, তারা সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ। তারা মুসলমান, এক আল্লাহ্তে বিশ্বাসী। দুনিয়ার সব বড়ো জাতির বংশোদ্ভুতরা পার্শ্ববর্তী দেশে সংখ্যালঘু হিসেবে থাকে। এটাই নিয়ম। কিন্তু তাই বলে কি তাদেরকে অস্বীকার করতে হবে? তারা আমাদের জাত নয়, আমাদের জ্ঞাতী নয়, বাঙালি নয়- এইসব কথা কি বলতে আছে? আর এসব কি সত্যের অপলাপ নয়? রুশ ভাষাভাষিরা ইউক্রেনের ক্রিমিয়া অঞ্চলে সংখ্যাগরিষ্ঠ। ইউক্রেনিয়রা তাদের প্রতি অসদাচরণ করছে দেখে রাশিয়া প্রতিবাদ করে। এক পর্যায়ে ওই পুরো ক্রিমিয়াই দখল করে নেয়। কয়েক হাজার মাইল দূরের ফকল্যান্ড আইল্যান্ডের মানুষ বলে যে, তারা বৃটিশ। আর্জেন্টিনা প্রতিবাদী হয় এবং সেটি তাদের ভূখন্ড দাবী করে দখলে নিতে চায়। বৃটেন হাজার মাইল দূর থেকে এসে ফকল্যান্ডবাসীকে রক্ষা করে, আর্জেন্টাইনদের যুদ্ধের মাধ্যমে তাড়িয়ে দেয়। সংখ্যালঘু তুর্কি সিপ্রিয়টদেরকে গ্রীক সিপ্রিয়টদের আগ্রাসন থেকে রক্ষাকল্পে তুরস্ক তার সৈন্যবাহী রণতরী পাঠিয়ে তাদের রক্ষা করে। এরূপ আরো অনেক উদাহরণ দেয়া যায় যেখানে স্বজাতি বা বংশোদ্ভূতদের অস্বীকার নয় বরং তাদের রক্ষা কল্পে মূল দেশের পদক্ষেপ গ্রহনের ভূরি ভূরি দৃষ্টান্ত রয়েছে। আমি একথা বলছি না যে, রোহিঙ্গাদের রক্ষাকল্পে মিয়নমারের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে। কিন্তু তাদের অধিকার রক্ষায় আমরা শান্তিপূর্ণ পন্থায়, আন্তর্জাতিক আইন মেনে, মুসলিম বিশ্ব ও গণতান্ত্রিক দুনিয়ার সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে পারি, পদক্ষেপ গ্রহন করতে পারি। আমরা রোহিঙ্গা সমস্যা এড়িয়ে যেতে চাইলেও তা স্বয়ং আমদের এড়াতে দেবে না। স্বয়ংক্রিয়ভাবে ও ঐতিহাসিক কারনে আমরা ওই সমস্যার সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গেছি, জড়িয়ে আছি। এর দীর্ঘমেয়াদী সমাধান আমাদের খুঁজতে হবে এবং তা করতে হবে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে। এবং তারা বাঙালি, তারা মুসলমান, তারা আমাদের বংশোদ্ভুত-এসব কথা মাথায় রেখেই এবং মুখে স্বীকার করেই আমাদের কাজ করতে হবে।

বলছিলাম মার্টিন নে’মুলার এর কথা। তিনি অনেকটা একা হয়ে পড়েছিলেন, আতœরক্ষার্থে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন। বন্ধু-বান্ধবহীন হয়ে পড়েছিলেন। আমরা তার কিছুটা নমুনা দেখেছি মাত্র বছর দেড়েক আগে। ২০১২ সালেও রোহিঙ্গা মুসলমানেরা খুনী-পিশাচ-দস্যু মগদের জুলুমের শিকার হয়ে এখানে পালিয়ে এসেছিলো, আমাদের করুণা ভিক্ষা চেয়েছিলো। কিন্তু আমরা তাদের ফিরিয়ে দিয়েছি। এতটুকু দয়া, এতটুকু মানবতা আমরা দেখাতে পারিনি। ভাগ্যের এমনি পরিহাস, তার মাত্র আড়াই বছরের মাথায় এই আমরাই মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশের উপকূলবর্তী সাগরে মাসের পর মাস ভেসে থেকেছি, তাদের করুণাপ্রার্থী হয়েছি, অনাহার-অর্ধাহার-রোগ-শোকে কাতর হয়ে আকুতি-কাকুতি করেছি। তারাও আশ্রয়ের পরিবর্তে গুলী মেরে আমাদের তাড়িয়ে দিয়েছে। জাতি হিসেবে তখন আমাদের মাথা হেঁট হয়েছিলো কি ? অবশ্য যদি নেড়ি কুত্তির দশা আমাদের হয় তবে হয়তো মাথা হেঁট না হয়েও থাকতে পারে বটে!

এক রক্ত লোলুপ সঙ (গড়হশ) এর কথা উপরে বলেছি যে রঙ মেখে সঙ সেজেছে। তার নাম অশিন উইরাথু, এক সন্ত বা ঠাকুর বা ভা-ন্তে। সে নাকি অহিংসার প্রচারক, ধ্বজাধারী, মহামতি বুদ্ধের ধর্ম প্রচারক বা মহাথেরো। তারা নাকি রক্ত প্রবাহিত করাকে মনে করেন হিংসার প্রতীকরূপে। তাই বৌদ্ধরা পশু হত্যা করেন না। বলেন, জীব হত্যা মহাপাপ। তবে মরা পশুর গোশ্ত খান। পশুকে মেরে তবেই তো তার গোশ্ত খাওয়া যায়। গোশ্তই যদি খাবে তো ওটাকে মারবে কে অন্য কথায় তার রক্ত প্রবাহিত করবে কে? তাদের দৃষ্টিতে খুব সম্ভবতঃ ‘জীব’ বলতে রোহিঙ্গা নামক মানুষকে নয় বরং গরু, ছাগল ইত্যাদিকে বুঝানো হয়ে থাকে! রোহিঙ্গারা তো মানুষ, জীব নয়। সুতরাং মানুষ হত্যা করো, তবে সাবধান জীব হত্যা করো না, তা যে মহাপাপ! তাদের প্রবঞ্চণার শুরু এখান থেকেই। আর ওই প্রবঞ্চকদের গুরু ওই সন্ত-মহন্ত-থেরো। তার কথা শুনুন, (The UN claims that Burma’s Muslim Rohingya are among the most persecuted minorities in the world. Their most vocal enemy is Ashin Wirathu, an influential Buddhist monk who is calling for the expulsion of the “Bengali” few. GQ enters a hellish world of ethnic massacres, vicious reprisals and concentration camps. He is a saffon terror, Burma’s ÔBuddhist Bin Laden’.) জাতিসংঘ দাবী করছে যে, বার্মার রোহিঙ্গা মুসলিমরা হচ্ছে দুনিয়ার সবচাইতে নিপীড়িত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী। এঁদের সবচাইতে সরব শত্রু হলো অশিন উইরাথু, প্রভাবশালী এক বৌদ্ধ ভিক্ষু যিনি বাঙালিদেরকে বিতাড়নের আন্দোলন করছেন। জিকিউ এর ভাষায়, তার বিচরণক্ষেত্র হচ্ছে এমন এক নরক সদৃশ দুনিয়ায় যেখানে থাকে নৃতাত্ত্বিক গণহত্যা, ভয়ংকর প্রতিহিংসা আর নিগ্রহের বন্দীশালা। তিনি হচ্ছেন ধর্মান্ধ সন্ত্রাসী, বার্মার ‘বৌদ্ধ বিন লাদেন’। (Ashin Wirathu, who was jailed in 2003 for inciting religious hatred. Released in 2012, he has referred to himself bizarrely as “the Burmese Bin Laden”. BBC) বিবিসি ’র প্রতিবেদন, অশিন উইরাথু যিনি ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর দায়ে ২০০৩ সালে জেল খেটেছেন তিনি ২০১২ সালে মুক্তি পেয়ে নিজেকে বর্মী বিন লাদেন বলে সদর্পে ঘোষণা দেন।
এবার শুনুন তার প্রেতাতœা বার্মার অবিসংবাদিত শান্তিবাদী নেত্রী, শান্তির স্বপক্ষে (?) কাজ করে পাওয়া নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী এবং বর্তমান বার্মা বা মিয়ানমার সরকারের প্রধান অং সান সূ চী’র কথা। ২০১৫ সালের নির্বাচনের পূর্বে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, রোহিঙ্গা! ওরা আবার কারা! ভাবখানা এমন যে, তিনি যেন তাদের চেনেনই না। ওই নামটি কখনো শুনেনইনি। নির্বাচিত হয়ে ডিক্রী জারি করলেন, ওদেরকে কেউ যেন রোহিঙ্গা বলে না ডাকেন। ‘ময়িানমাররে প্রথম গণতান্ত্রকি সরকাররে অন্যতম র্শীষ নতো অং সান সু চি ‘রােহঙ্গিা’ শব্দটি ব্যবহার না করার জন্য দশেটতিে নযিুক্ত র্মাকনি রাষ্ট্রদূতকে পরার্মশ দয়িছেনে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়রে র্কমর্কতা এবং সু চরি মুখপাত্র উ কওি জে ইয়া এ কথা জানয়িছেনে। জে ইয়া বলনে, রােহঙ্গিাদরে ময়িানমার নাগরকি হসিবেে স্বীকার করে না। তাই সরকার তাদরে ওই নামে ডাকবে না। জে ইয়ার ভাষায়, ‘আমরা তাদরে রােহঙ্গিা বলব না। কারণ, তারা ময়িানমাররে স্বীকৃত ১৩৫টি জাতগিােষ্ঠীর অর্ন্তভুক্ত নয়’। (নউিইর্য়ক টাইমস)। তিনি এমনই মুসলিম বিদ্বেষী যে, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র রোহিঙ্গা নয় এমনকি কোন মুসলমানকেও তার দলের পক্ষ হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেননি। কয়েক মাস আগে বিবিসি’র এক সাংবাদিক তাঁর সাক্ষাৎকার গ্রহন করেন। পরে তিনি যখন জানলেন যে, ওই সাংবাদিক একজন মুসলমান তখন তিনি উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন। তাবৎ গণতান্ত্রিক দুনিয়ার চাপে পড়ে তিনি রোহিঙ্গা সমস্যার ব্যাপারে একটি দিক নির্দেশনামূলক রিপোর্ট তৈরির জন্য জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে এক কমিশন গঠন করেন। আসলে এটি ছিলো একটি লোক দেখানো (আইওয়াশ) প্রক্রিয়া। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, ওই কমিশনকে একটিবারের জন্যও রোহিঙ্গা বসতি দেখতে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হয়নি। শুনুন, পত্রিকান্তরে প্রকাশিত কফি আনানের কথা,
‘রোহঙ্গিা প্রশ্নে গঠতি, আর্ন্তজাতকি কমশিনরে প্রধান কফি আনান ময়িানমারকে র্ববর রাষ্ট্র হসিবেে আখ্যা দয়িছেনে। কফি আনানরে কমশিন রোহঙ্গিা সমস্যার কাছওে ঘঁেষতে পারনে।ি যদওি মনে হচ্ছলি ওই কমশিন এই সঙ্কট মোকাবলোয় অগ্রসর হতে পারব।ে প্রথম বছর তারা গবষেণা করে একটি প্রতবিদেন পশে করবে সরকাররে কাছ।ে উন্নয়নরে র্দীঘ একটি রোডম্যাপ প্রণয়নরে মাধ্যমে সখোনে জাতগিত স্থতিি ফরিয়িে আনাই এর লক্ষ্য হব।ে এই লক্ষ্যে কফি আনান সপ্টেম্বেররে প্রথম সপ্তাহে ময়িানমার সফরে গয়িে বৌদ্ধ ভক্ষিুদরে বাধার মুখে পড়নে। ওই সময় কফি আনানরে কমশিন ইয়াঙ্গুনে বঠৈক কর।ে রোহঙ্গিা প্রশ্নে ব্যাপকভাবে সমালোচতি স্টটে কমশিনরে প্রধান অং সাং সু চি ওই বঠৈক পরচিালনা করনে। তনিি ওই সময় বলনে, ‘আমরা সমস্যার সঠকি সমাধান খুঁজে পাইন।ি আশা কর,ি এই কমশিন এ বষিয়ে সহায়ক হব।ে’ এমন মন্তব্য থকেে সু চরি একটি কফৈয়িত তখন পাওয়া গয়িছেলি। কারণ তনিি সম্ভাব্য সমাধানরে কোনো সূত্র না পয়েে নীরবতা পালন করার নীতি গ্রহণ করছেলিনে। এখন র্পযন্ত যে বাস্তবতা সটো হচ্ছ,ে সু চি আর্ন্তজাতকি সম্প্রদায়রে সাথে এক ধরনরে প্রবঞ্চনা করছেনে। তনিি দখোতে চয়েছেনে, আমি রোহঙ্গিা প্রশ্নে তৎপর রয়ছে।ি র্কাযত এ ব্যাপারে সামরকি সরকাররে নীতরি সাথে তনিওি একমত। রোহঙ্গিাদরে উৎখাত করার ব্যাপারে তারও সায় রয়ছেে বলে ধরে নতিে হয়।’
তাঁর শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পাওয়ার বিষয়টিও পুরাপুরি শঠতাপূর্ণ। পশ্চিমারা তাদের স্বার্থ উদ্ধারের কৌশল হিসেবে ওই পুরষ্কারকে ব্যবহার করে থাকে। বার্মা দীর্ঘদিন ধরে সামরিক জান্তার জাঁতাকলে নিষ্পেষিত হচ্ছিলো। পশ্চিমারা খুঁজছিলো সেখানে ঢোকার উপায়। বার্মার প্রথম প্রেসিডেন্ট অং সানের মেয়েটি ইংল্যান্ডে লেখাপড়া করে ওখানকার এক ছেলের সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হয়। ওই বৃটিশ স্বামীর সংসারে তার দু’টি সন্তানও রয়েছে। শারীরিকভাবে বর্মী হলেও মন-মগজে পুরোপুরি বৃটিশ ওই নারীকেই তারা বাছাই করে তাদের উদ্ধারের শিখন্ডিরূপে। এক অবলা নারীকে দিয়ে তো আর কার্য উদ্ধার হবে না। সুতরাং তাকে দাও ‘শান্তি প্রতিষ্ঠায় তার অসাধারণ অবদানের’ স্বীকৃতিস্বরূপ নোবেল পুরষ্কার। নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী- এই স্বীকৃতি দেশে-বিদেশে তাঁর বিরাট গ্রহনযোগ্যতা এনে দিলো। নোবেল পুরষ্কার নিয়ে এহেন পশ্চিমা খেলা আমরা আরো বহু ব্যক্তি ও দেশের বেলায় দেখেছি। যেমন, ইরানের শিরিন এবাদি, মিশরের আল বারাদি, পোল্যান্ডের লেস ওয়ালেসা, চিনের লিউ জিয়াবো ও দালাইলামা, সোভিয়েত ইউনিয়নের আঁন্দ্রে শাখারভ, পাকিস্তানের মালালা ইউছুফজাই ইত্যাদি।
মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার হচ্ছে বলে আশঙ্কা করেছে জাতিসংঘ। দুনিয়ার প্রায় প্রতিটি দেশ এ ব্যাপারে তাদরে উদ্বেগ জানিয়েছে। রোহিঙ্গাদের উপর বৌদ্ধ মিয়ানমার সরকার ও ভান্তেদের দ্বারা বীভৎস কায়দায় চলমান এই জুলুম ও জাতিগত নির্মূলকরণ অভিযানের ব্যাপারে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী একটি মতৈক্য তৈরি হয়েছে, বলা যায়। আমাদের এই সময়টিকে মোক্ষম সুযোগ হিসেবে কাজ লাগিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধানের দিকে যেতে সচেষ্ট হওয়া উচিত নয়কি ?
সেল : ০১৮৬৯ ৮৬৬৯০০ কক্সবাজার

Top