রোহিঙ্গা নির্যাতন: ‘চিৎকার করে বলে আমাদের গণধর্ষণ করেছে’

myan_1.jpg

আমাদের সময় .কম:
মিয়ানমারের সৈন্যদের নির্মম নির্যাতনে অস্থির রোহিঙ্গারা। বাংলাদেশে অনুপ্রবেশে ব্যর্থ হয়ে ফিরতে হচ্ছে পুনরায় মিয়ানমারের দিকে। অথচ ফিরলেই মৃত্যু। তাই নাফ নদীতেই ভেসে ভেসে অপেক্ষা করছেন নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে। যারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে পেরেছে তারাও বেঁচে আছেন লোমহর্ষক চিত্র চোখে নিয়ে।
বিজিবি’র চোখ ফাঁকি দিয়ে যারা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে অনপ্রবেশ করতে পেরেছে তাদের মধ্যে মিয়ানারের গরজিল গ্রামের বানিরাদা ছমিরা বেগম। তার স্বামীর নাম মোহাম্মদ আয়ুব। তিনি জানান, একদিন সকালে হঠাৎ করে মিয়ানমার ‘সৈন্যরা এসে বাড়িতে ঢুকে পড়ে। তারা আমার স্বামীকে ঘরের বাইরে নিয়ে যায়। এসময় আমিসহ আমার আরো দুই ছোট বোনকে বাড়িতে বেধে রাখে। এর পর বাহিরে চিৎকার শব্দ শুনতে পায়। কিছুক্ষণ পরে বাইরে হয়ে দেখি তারা আমার স্বামীকে জবাই করেছে। তারা যাবার সময় আমার দুই ছোট বোনদের ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় আমি বাধা দিলে আমাকে মারধর করে মাটিতে ফেলে রাখে। তিন ঘন্টা পরে আমার ছোট বোনদের বাড়িতে দিয়ে যায়। বোনদের কাছে জানতে চাইলে তারা নিশ্চুপ হয়ে কাঁদতে থাকে। পরে দুইজন চিৎকার করে বলে আমাদের গণধর্ষণ করেছে তারা।
মিয়ানমারের কোরিয়ার পাড়া গ্রামের বাসিন্দা নুর বাহার জানান, তার স্বামী দিলদার হোসেন একজন জেলে। মাছ শিকার করে তাদের পরিবারের সংসার চলে। তার চার ছেলে-মেয়ে রয়েছে। মিয়ানমারের সৈন্যরা বাড়িতে ঢুকে তাকে বের করে দিয়ে তার স্বামীকে ঘরে আটকে দেয়। পরে সৈন্যরাও বাহির থেকে ঘরের চার পাশে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এরপর কি আর বলব? আগুন দিয়ে কেউ কি বেঁচে থাকে! তারা এইভাবে আমার স্বামীর মত অনেককে আগুনে পুঁড়িয়ে হত্যা করেছে। তারপর আমি প্রাণের ভয়ে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে নাফ নদী পার হয়ে একটি নৌকা করে আমরা ২৫ জনের একটি দল বাংলাদেশ অনুপ্রবেশ করি।
শুধু তাই নয় রোহিঙ্গাদের প্রতিটি বাড়িতে তল্লাসী চালানোর সময় রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের সাথে জড়িত সন্দেহ হলে সে বাড়ি পুড়িয়ে দিতে দ্বিধা করছে না সৈন্যরা। বাড়ি থেকে কাউকে বের হতে দেখলেই গুলি চালায়। শুধু বাড়ি পুড়িয়ে ক্ষান্ত হচ্ছেনা, বাড়ি পুড়িয়ে দেবার পর তাদের খোলা আকাশে বসিয়ে থাকতে বাধ্য করছে তারা। এমন বর্ণনা দিলেন বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারি কামাল হোসেন ও মো. মুজিবুল্ল­াহ। তারা মিয়ানমারের চালিয়া পাড়ার বাসিন্দা। গত মঙ্গলবার ভোরে হ্নীলা ইউনিয়নের মিনাবাজারের সংলগ্ন নাফ নদী পার হয়ে একটি নৌকা করে ২০ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে।
মো. মুজিবুল্লাহ আরও জানান, আমার ছোঠ ভাই শফিউল আলম বাড়িতে ফেরার সময় সৈন্যরা রাস্তা থেকে তাকে ধরে নিয়ে। কোথায় নিয়ে যাচ্ছে দেখতে গেলে দেখি, রাস্তার পাশে ধান ক্ষেতে নামিয়ে আমার ভাইকে জবাই করে হত্যা করছে। আমি পালিয়ে প্রাণে বেঁচে যাই। পৃথিবীতে খুবই খারাপ মানুষ থাকে। মিয়ানমারের এরা কি মানুষ? এদের মানবতা বলতে কিছুই নেই।
চলবে. . .

Top