রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদে রামুতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানববন্ধন

1.jpg

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সে দেশের সেনাবাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতনের তীব্র প্রতিবাদ জানাতে রামুতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে বৌদ্ধসম্প্রদায়।
মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টায় উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে সমবেত হন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন। এর পর চৌমূহনী চত্তরে অনুষ্ঠান শুরু হয়। মানববন্ধনে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ সংহতি প্রকাশ করেন।
বৌদ্ধনেতারা বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সমস্যাটি অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও, রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিষয়টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের। বিষয়টি ধর্মের নয় মানবতার। মহামতি গৌতম বুদ্ধ বলেছেন, “জগতের সকল প্রাণি সুখী হউক” জগতের সকল প্রাণির মধ্যে রোহিঙ্গারাও আছে। বৌদ্ধদের পঞ্চশীলের প্রথম শীল হল, ‘প্রাণি হত্যা থেকে বিরত থাকবো এই শিক্ষাপদ গ্রহণ করছি। মানুষতো দূরের কথা কোন কীট-পতঙ্গকেও হত্যা করা যাবে না।
রামু কেন্দ্রীয় সিমা বিহারের সহকারী পরিচালক প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষুর সভাপতিত্বে কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন রামু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলম, ভাইস চেয়ারম্যান আলী হোসেন, রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের আবাসিক ভিক্ষু শীললপ্রিয় থের, রাংকুট বনাশ্রম মহাবিহারের পরিচালক জুতিসেন থের, বৌদ্ধ ধর্মীয়নেতা তরুণ বড়–য়া, কাউয়ারখোপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ, নিউজকক্স ২৪.কমের সম্পাদক দুলাল বড়–য়া, জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সহসভাপতি অর্পন বড়–য়া, রাজারকুল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য লিটন বড়–য়া ও যুবনেতা রজত বড়–য়া রিকু। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিপুল বড়–য়া।
মানববন্ধনে প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু বলেন, রোহিঙ্গা নিপীড়ন করতে গিয়ে মানবতা বিরোধী যত প্রকার অপরাধ এর সবটাই করছে বলে অভিযোগ উঠেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। কোন রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষার সর্বশেষ ভরসাস্থল সামরিক বাহিনী একই রাষ্ট্রের অধিকারবঞ্চিত একটি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর উপরে এতটা নির্দয় এবং বর্বর হয়ে উঠতে পারে! মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সেই জঘন্য কাজটিই করছে।
তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার সুরাহা করতে হবে মিয়ানমারকে। কিন্তু মিয়ানমার সে পথে হাটছেনা। এক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে বাংলাদেশকে। কারণ মিয়ানমার বলছে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে সেখানে গেছে। মিয়ানমারে গণতন্ত্র শতভাগ নয় বিধায় শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান চু কিছুই করতে পারবে না। এমনকি তাঁর নোবেল ফিরেয়ে নিলেও মনে হয় সমস্যার সামাধান হবে না। তাই বাংলাদেশ একেবারে চুপ থাকতে পারেনা। কূটনৈতিক শিষ্টাচার এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রেখে রোহিঙ্গা বিষয়ে মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের স্পষ্ট ভাষায় কথা বলা উচিত। প্রয়োজনে জাতিসংঘের দ্বারস্থ হতে হবে। নিতে হবে আর্ন্তজাতিক সহযোগিতা।
রিয়াজ উল আলম বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী। দেশরতœ শেখ হাসিনা প্রতিনিয়ত উগ্রপথ পরিহার করার আহবান জানিয়ে আসছেন সর্বমহলকে। কিন্তু একটি কুচক্রি মহল বাংলাদেশের উন্নয়নকে বাঁধাগ্রস্থ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে। তাঁরা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগাতে চায়। এদের বিষয়ে সদা সতর্ক থাকতে হবে। কেউ কেউ প্রগাগন্ডা ছড়াচ্ছে যে, ‘মিয়ানমারের বৌদ্ধরাই মুসলিম রোহিঙ্গাদের হত্যা করছে’ সেটা একেবারে ভুল। বৌদ্ধ ধর্মের লেবাস ধারণ করে মিয়ানমারের জান্তা সরকার মানুষ হত্যা করছে। এতে সারা বিশ্বে অহিংসের বৌদ্ধ ধর্মকে বিতর্ক করে তুলছে।
মিয়ানমারের মুসলিম রোহিঙ্গারা কেন তাঁদের মৌলিক অধিকার পাবে না, এ বিষয়ে সারা বিশ্বকে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির আহবান জানিয়েছেন রাংকুট বনাশ্রম মহাবিহারের পরিচালক জুতিসেন থের। তিনি বলেন, মিয়ানমারের আয়াতন অনেক বড়। সে তুলনায় বাংলাদেশ ছোট। ৫ লাখ রোহিঙ্গা নয়। কোটি রোহিঙ্গা থাকলেও মিয়ানমার সরকারের সমস্যা হবে না। এ ব্যাপারে ‘আমরা বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতের জবাব চাই’।
অর্পন বড়–য়া বলেন, ‘মানুষ মানুষের জন্য; জীবন জীবনের জন্য’। মানুষ হিসেবে নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক কর্তব্য। তাই আমরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। শান্তি-সম্প্রীতি রক্ষায় এবং মানবিক কারণে রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।

Top