রামু সহিংসতা: বৌদ্ধ ভিক্ষুর সুপারিশে চার্জসীটভুক্ত আসামী বাদ দেয়ার অপচেষ্টা

ramu-tragedy.jpg

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার:
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক সংঘাতমুক্ত রামু। এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করা হয় ২০১২ সালে ২৯ সেপ্টেম্বর বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা, ভাংচুর, লুপাট ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে। যা বাংলাদেশ তথা রামুর কলংকিত অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত।

এঘটনায় দায়েরকৃত মামলার চার্জসীটভুক্ত আসামীকে বাদ দেয়ার জন্য জনৈক বৌদ্ধ ভিক্ষুর সুপারিশের বিষয়টি নিয়েও সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে।

ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাকুক তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি হওয়ার একান্ত দরকার বলে মনে করেন রামুর মুসলিম সম্প্রদায় থেকে শুরু করে সকল ধর্মের লোকজন। তাছাড়া আওয়ামী লীগ, বিএনপি , জামায়াতসহ সামাজিক সংগঠন ও সচেতন মহলের একমাত্র দাবী এঘটনার সাথে যেই রাজনৈতিক দলের লোকজন জড়িত হোক না কেন তাদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি হওয়া উচিত।

রামুর বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের যুবক উত্তম বড়ূয়ার ফেইসবুকে পবিত্র কোরআন আবমাননার সুত্র ধরে ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়ে একদল দূর্বৃত্ত মিছিল সহকারে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট করা হয় বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে।

পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর হামলা চালায় উখিয়া ও টেকনাফের বৌদ্ধ বিহার ও বসতির উপর। ওই সময় হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয় রামুর ১২টি, উখিয়ায় ৫টি ও টেকনাফে ২টি বৌদ্ধ বিহার এবং শতাধিক বসত বাড়ীতে। লুট করা হয় প্রাচীন ও দূর্লভ বুদ্ধ মূর্তি, ধাতু।

এ ঘটনা নিয়ে রামু, উখিয়া, টেকনাফ ও কক্সবাজার সদর থানায় দায়ের করা ১৯ টি মামলা। এর মধ্যে একটি মামলা বাদির সাথে আপোষ করে আদালত থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অপর মামলার সাক্ষী গ্রহণ শুরু হলেও সাক্ষীরা আদালতে সাক্ষী দিতে ভয় পাচ্ছেন। তাদের দাবি সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে হুমকি দেয়া হচ্ছে।

সরকার পক্ষের আইনজীবীও স্বীকার করেছে নানা কারণে মামলার সাক্ষীরা সাক্ষ্য না দেয়ায় আপাতত মামলার সাক্ষী গ্রহণ বন্ধ রাখা হয়েছে। সরকার পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে এসব মামলা পুলিশের পিবিআই এর অধিনে অধিকতর তদন্ত হচ্ছে।

সে সুবাদে ধর্মগুরু বৌদ্ধ ভিক্ষুকে ভুল বুঝিয়ে একটি মহল চার্জসীটভুক্ত মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। যার ফলে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তাও অনেকটা বিব্রতকর অবস্থা পড়ছে বলে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সুত্র জানিয়েছেন।

বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা লুটপাট মামলার স্বাক্ষী রামু প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আমীর হোছাইন হেলালীর সাথে আলাপকালে তিনি সিবিএনকে বলেন, এঘটনার সাথে যারা প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দেয়া হোক। পাশাপাশি স্পর্শকাতর এসব মামলার স্বাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের নিকট দাবী জানান তিনি।

অন্যতায় এর চেয়ে আরো ভংয়কর কোন ঘটনার পুনরাবৃত্তি করার সাহস পাবে।

Top