মুক্তিপন না দেয়ায় মালয়েশিয়ায় ৫ যুবককে নির্যাতন করছে সাইমুন

manob-pasar.jpg

এম.বেদারুল আলম ঃ মুক্তিপন না দেয়ায় মালয়েশিয়ায় সদর ও রামুর ৫ দরিদ্র যুবককে বেধেঁ নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে সাইমুন নামের এক দালালের বিরুদ্ধে । সদরের ভারুয়াখালীর আদর্শগ্রামের নাগু মিয়ার পুত্র সাইমন এলাকার র্শীষ মানবপাচারকারি হিসাবে পরিচিত । বর্তমানে সাইমন মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে ৫ জনকে আটক রেখে মুক্তিপন দাবি করছে বলে ভুক্তভোগি পরিবারের অভিযোগ ।

জানাযায়, সদরের ভারুয়াখালীর আদর্শগ্রামের নাগু মিয়া ও তার পুত্র সাইমন মালয়েশিয়ায় সমুদ্র পথে মানবপাচার ব্যবসা শুরু করে ৪ বছর আগে । তাদের মাধ্যমে রামু ও সদর উপজেলার অর্ধ শতাধিক লোক মালয়েশিয়া পাচার হয় । অনেকে নগদ টাকা দিয়ে আবার অনেকে বাকিতে উক্ত দালাল চক্রের মাধ্যমে মালয়েশিয়া গমন করে। তাদের সাথে মালয়েশিয়ার মেলাই দেশানিয়া এলাকার স্থানিয় পাচারকারি সিন্ডিকেটযুক্ত হয়ে বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলে। পরে বাকিতে পাচারকরা লোকদের কাছ থেকে টাকা তুলতে ২ বছর আগে নাগু ও তার পুত্র সাইমন মালয়েশিয়া যায়। গত ৬ মাস আগে নাগু ও তার পুত্র তাদের হাতে পাচারকৃত ৫ যুবককে বেধেঁ এলাকায় মা বাবার কাছ থেকে বিশাল অংকের টাকা মুক্তিপন দাবি করে। টাকা দিতে না পারায় তাদের অমানুষিক নির্যাতন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মুক্তিপনের জন্য মালয়েশিয়ায় আটকে থাকা যুবকেরা হলো রামু রশিদ নগরের জেটির রাস্তা এলাকার আবদুল হকের পুত্র শহিদুল ইসলাম, নন্দাখালীর মুরা পাড়া এলাকার জালাল আহমদের পুত্র মিজানুর রহমান, ঈদগাও মেহের গোনা এলাকার বদি আলম, কাউয়ারখোপ এলাকার শামসুল আলমের পুত্র জসিম উদ্দিন।

রামুর রশিদ নগরের জেটির রাস্তা এলাকার আবদুল হক ও তার স্ত্রী দিলুয়ারা বেগম বলেন, মালয়েশিয়ার মেলাই দেশানিয়া এলাকায় আমাদের ছেলে শহিদুল ইসলামকে ৬ মাস যাবৎ মুক্তিপনের জন্য বেধেঁ নির্যাতন চালাচ্ছে উক্ত নাগু ও সাইমন সিন্ডিকেট। প্রথমে ৪০ হাজার টাকা দিলে আমার ছেলেকে মুক্তি দেবে বলেছে কিন্তু এখন বলছে ৬০ হাজার টাকা দিলে ছেড়ে দেবে। আমরা বিষয়টি আমাদের চেয়ারম্যান শাহ আলমকে জানিয়েছি। চেয়ারম্যান সাহেব দালালদের সাথে কথাবলেছে কিন্তু টাকা দিলে যে মুক্তি দিবে তার নিশ্চয়তা দিতে না পারায় টাকা দেওয়া হয়নি। এখন আমরা কি করব বুঝতে পারছিনা। মালয়েশিয়ায় মুক্তিপনের জন্য আটকে থাকা শহিদুলের মা সন্তানের জন্য পাগলপ্রায়। পুরো পরিবারে চলছে চরম অনিশ্চয়তা। মা দিলুয়ারা বেগমের দাবি নাগুর স্ত্রী শামারুখ বেগমকে ৬০ হাজার টাকা দিলে ছেলেকে নাকি মুক্তি দেবে। এ ব্যাপারে রশিদ নগরের চেয়ারম্যান শাহ আলমের বক্তব্য নেওয়ার জন্য মোবাইলে (০১৮১৮ ০০৩৪৯৫) একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় কিন্তু মোবাইল রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া স¤ভব হয়নি।

অসহায় মালয়েশিয়ায় মুক্তিপনের জন্য আটকে থাকা ৫ পরিবাররের পাশে দাড়ানোর জন্য প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন। উৎকন্ঠিত পািরবারের দাবি সদর উপজেলার ভারুয়াখালীর আদর্শগ্রামে নাগুর স্ত্রী শামারুখ বেগমকে আটক করলে দ্রুত মুক্তিপন সমস্যার সমাধান হবে।

Top