মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিপন্ন মানবতা

rohingya-1.jpg

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া (কক্সবাজার):

মিয়ানমারে আরকান রাজ্যে মংডুর রাখাইন পল্লিতে চলছে হত্যা, ধর্ষন ও গণ গ্রেপ্তার। যার ফলে আরকানের বসবাসরত ৮ লাখ রোহিঙ্গা চরম আতংকে জীবন কাটাচ্ছে। হাজার হাজার রোহিঙ্গা নর নারী শিশু পালিয়েছে গ্রাম ছেড়ে। তারা এ হত্যাকান্ড ধর্ষন, নির্যাতন বন্ধ করতে আর্ন্তজাতিক ভাবে মিয়ানমারকে চাপ সৃষ্টি করার আহব্বান জানিয়েছে এ দেশে পালিয়ে আসা নির্যাতিত রোহিঙ্গারা।

রাখাইন পল্লিতে গেল ৯ অক্টোবর গুপ্ত হামলা চালিয়ে ৩ টি সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে আক্রমন করে ৯ জন সেনাবাহিনীর সদস্য কে নিহত করে। এর পর থেকে মংডু রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা হাতির পাড়া, খিয়ারী পাড়া, মগনামা, নাফপুরা, সিননাই, খাওয়ারবিল, হাদঘরিয়ার পাড়া, নাইচাপ্র“, উত্তর গজুগৌজবিল ও বড় গৌজবিল সহ বিভিন্ন এলাকায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী সীমান্ত রক্ষী পুলিশ তান্ডব চালিয়ে আরকান রাজ্যে মুসলিম রোহিঙ্গা নিধনের লক্ষে বাড়ি ঘরে আগুন দিয়ে একের পর এক গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে। নারীদের মা-বাবা ছেলে-মেয়েদের সামনে গণ ধর্ষন করেছে। ১০ বছরের উপরের পুরুষদের ধরে নিয়ে হত্যা করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এ ন্যাক্কার জনক বর্বরোচিত হত্যাকান্ডের জন্য মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগ না করলে অচিরেই আরকান রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিম শূণ্য হয়ে পড়বে বলে কুতুপালং ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গা ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি আবু ছিদ্দিক জানান। ওই ক্যাম্পের সেক্রেটারী মোঃ নুর জানান, রাখাইন পল্লিতে পাখির মত নির্বিচারে গুলি করে মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। উপায়ন্তর না দেখে জীবন বাঁচাতে রোহিঙ্গা নারী পুরুষেরা শিশু সন্তানদের কোলে নিয়ে নাফ নদী পেরিয়ে রোহিঙ্গা বস্তিতে আশ্রয় নিচ্ছে। কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তিতে ১০ হাজারেরও অধিক রোহিঙ্গা তাদের আতœীয় স্বজনদের ঝুপড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। ওই সব রোহিঙ্গারা অনাহারে অর্ধহারে জীবন যাপন করছে কন কন শীতের মধ্যে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের না গেলে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও পুলিশের নির্মম নির্যাতনের কথা বোঝা যাবে না।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসকারী তারেকুল্লাহ জানান, রোহিঙ্গারা রাখাইন প্রদেশে নির্যাতিত হওয়ার পর এক কাপড়ে নিজের দেশ ত্যাগ করে ভিন্ন দেশে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। একই ক্যাম্পে অবস্থানকারী, ৬০ বছর বয়সের রোকিয়া বেগম জানান, তার দুই ছেলে ৪ নাতীকে ফেলে একাই কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের রোপনকৃত ১০ কানি অর্থাৎ ৪ একর জমিনের ধান মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও পুলিশ মগের মাধ্যমে নিয়ে গেছে। সে জানে না তার ছেলে ও নাতী নাতনীরা কোথায় আছে। জীবন বাচাঁতে কোন রকম এ দেশে ১০ দিন পায়ে হেঁটে চলে আসি। তার মত অসহায় হাজারো রোহিঙ্গা রাখাইন পল্লি ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গা ফয়সাল আনোয়ার জানান, সে মিয়ানমার ওপার থেকে আতœীয় স্বজনের নিকট থেকে যে তথ্য পেয়েছে তা বলতে গেলে রাখাইন পল্লির অবস্থা দিনের পর দিন ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। যে ভাবে রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন নিপীড়ন, হত্যা, মহিলাদের ইজ্জত লুন্ঠন, গণ গ্রেপ্তার, বাড়ী ঘরে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিচ্ছে এবং পুরুষদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এতে মনে হয় মিয়ানমার সরকার রাখাইন পল্লিতে রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিধনের শামিল। উখিয়া থানার ওসি মোঃ আবুল খায়ের বলেন, রোহিঙ্গা যাতে ক্যম্পে অবস্থান নিতে না পারে, সে জন্য অতিরিক্ত পুলিশ ৫ টি টিমে বিভক্ত হয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রোধে কাজ করছে।

Top