‘মামুন ইয়াবা ব্যবসায়ি নয়,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্তও নয়’

mamun.jpg

টেকনাফ পৌর বিএনপি সভাপতি আবদুর রাজ্জাক মেম্বারের বিবৃতি

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কক্সবাজার জেলা শাখার সহ-সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুনকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক ইয়াবা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়া, মিডিয়ায় মিথ্যা প্রচারণা নিয়ে এক বিবৃতি দিয়েছেন তার বাবা, টেকনাফ পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি মেম্বার আবদুর রাজ্জাক।

পত্রিকায় পাঠানো এক বিবৃতিতে আবদুর রাজ্জাক দাবি করেন, প্রতিহিংসাবশত ইয়াবা মামলায় ফাঁসানোর আগে তার ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে কোন মামলা তো দূরের কথা, থানায় কোন সাধারণ ডাইরিও (জিডি) ছিল না। সেখানে তার ছেলে মামুনকে ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ি’ বলে মিডিয়ায় মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যদিও ওই তালিকায় কখনোই তার ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুনের নাম ছিল না এবং এখনও নেই।

তিনি বিবৃতিতে দাবি করেন, তার পুরো পরিবার দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সাথে জড়িত। তিনি বর্তমানে টেকনাফ পৌর বিএনপির সভাপতি। ২০০৯ সাল থেকে তিনি এই পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ইতিপূর্বে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাশাশি বিএনপির বিভিন্ন পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

তার দাবি, একই ভাবে তার বড় ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুনও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত। জেলা ছাত্রদলের বর্তমান কমিটিতে সে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইতিপূর্বে সে টেকনাফ পৌর ছাত্রদলের সিনিয়র য্গ্মু আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে।

তিনি মনে করেন, তাদের পুরো পরিবারটি দীর্ঘকাল ধরে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত হওয়ায় ওই অঞ্চলের প্রভাবশালী রাজনীতিকদের চক্রান্তে তাদের পরিবারের ভাবমর্যাদা ক্ষুন্ন করার জন্য ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে তাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্টান থেকে ইয়াবা উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে আবদুল্লাহ আল মামুনকে ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে।

তিনি দৃঢ়তার সাথে দাবি করেন, তিনি কিংবা তাদের পরিবারের কোন সদস্যই ইয়াবার মতো জঘন্য ব্যবসায় জড়িত নেই এবং কখনোই ছিল না। শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত তার ছেলেকে ইয়াবা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে।

আবদুর রাজ্জাক মেম্বার ক্ষোভের সাথে বলেন, ‘ওই ইয়াবা মামলায় ফাঁসানোর আগে আমার ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কোন মামলা তো নয়ই, এমনকি কোন একটি জিডিও ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত পরিতাপের সাথে দেখতে পাচ্ছি, যে চক্রটি আমার ছেলেকে ইয়াবা মামলায় ফাঁসিয়েছে সেই চক্রটিই মিডিয়াকে ব্যবহার করে আমার ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। আর মিডিয়ার ভাইয়েরাও কোন ধরণের খোঁজখবর না নিয়েই চক্রান্তকারিদের মিথ্যা তথ্যে বিশ্বাস করে আমার ছেলেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়িও বানিয়ে দিয়েছেন। যা কোন ভাবে সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতার মধ্যে পড়ে না।’

আবদুর রাজ্জাক মেম্বার দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘আমার ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুন কখনোই ইয়াবা ব্যবসায়ি ছিল না, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তালিকা সে তো অলিক কল্পনা মাত্র। বরং আমার ছেলে একজন উচ্চ শিক্ষিত যুবক। সে বর্তমানে মাষ্টার্সের শিক্ষার্থী।’

তিনি বিবৃতিতে জানান, তার ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুন টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন কমার্স কলেজ থেকে এইচএসসি, চট্টগ্রাম কলেজ থেকে ডিগ্রী পাস করে বর্তমানে একই কলেজে মাষ্টার্সে অধ্যয়নরত রয়েছে।

ছাত্রদলের রাজনীতিতে আবদুল্লাহ আল মামুন উড়ে এসে জুড়ে বসেনি দাবি করে তার বাবা বলেন, ‘আমার ছেলে ছাত্রদলের ওয়ার্ড পর্যায় থেকে দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে জেলা কমিটি সহ-সভাপতি হয়েছে। সে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড, টেকনাফ পাইলট হাই স্কুল, পৌর ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়কের দায়িত্ব পালন করার পরই ছাত্রদলের জেলা শাখার সহ-সভাপতি হয়েছে।’

তিনি মিডিয়া কর্মী, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারি সংস্থার কর্মকর্তাদের মিথ্যা তথ্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্যও আহবান জানান আবদুর রাজ্জাক মেম্বার। তিনি আশা করেন, ভবিষ্যতে তার ছেলে কিংবা তাদের পরিবারের কোন সদস্যকে নিয়ে মিথ্যা প্রচারণা থেকেও বিরত থাকবে মিডিয়া সংশ্লিষ্টরা। আইন প্রয়োগকারি সংস্থাগুলোকেও এব্যাপারে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।

 

Top