মানবপাচারের ডন নুরুল কবির কারাগারে

kabir.jpg

বিশেষ প্রতিবেদক:
জেলার মানবপাচারের ডন নুরুল কবির তার বিচরণ ক্ষেত্রকে ‘আলোর জগত’ ভেবেছিল। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছিল বেশ কৌশলে। অবশেষে তার ঠিকানা হলো চার দেওয়ালের সীমারেখা তথা কারাগার।
শনিবার (১৯ নভেম্বর) তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় বিচারক।
এর আগে শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শীর্ষ এই মানব পাচারকারীকে উখিয়া উপজেলার সোনারপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে মানবপাচার, মারামারি, বন মামলাসহ বিভিন্ন অপরাধে ডজনাধিক মামলা রয়েছে। এর অধিকাংশ মামলায় তিনি পলাতক ছিলেন। নুরুল কবির সোনারপাড়া (পরিষদ পাড়া) এলাকার মকতুল হোসেন ওরফে কালা মতুর ছেলে।
এ প্রসঙ্গে উখিয়া থানার ওসি আবুল খায়ের জানান, নুরুল কবির পলাতক আসামী। অনেক দিন ধরে তাকে খোঁজছিল পুলিশ। অবশেষে এলাকায় আসার সংবাদে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে অর্ধডজনাধিক মামলা রয়েছে।
মামলাসমূহের মধ্যে রয়েছে- জিআর মামলা নং- ৬৭/১৪, জিআর ১৭/১৫, জিআর মামলা নং ১৫৭/১৪ জিআর মামলা নং ৩০৮/১৪, জিআর ৪০/১৪, জিআর ২০৩/১৪, জিআর ৩২/১৫ (চকরিয়া থানা), জিআর মামলা নং ৯৯৫/১৪ (কক্সবাজার সদর থানা)।
এদিকে গ্রেফতার নুরুল কবির, স্ত্রী রেজিয়া আকতার রেবির নেতৃত্বে মানবপাচার বিরোধী লোকদের দোকানপাট ভাঙচুর এবং সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রারীর অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সোনারপাড়া বাজারের এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, তাদের হুমকি ধমকির কারণে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। প্রতিবাদকারীদের ওপর নেমে আসে হামলা-মামলা।
নুরুল কবির গ্রেফতার হলেও বিগত প্রায় ১ বছর ধরে আতœগোপনে থেকে গেছে মানবপাচারসহ অসংখ্য ‘অপরাধের রানী’ রেজিয়া আকতার প্রকাশ রেবি ম্যাডাম। মানবপাচারের মামলায় এর আগেও বেশ কয়েকবার গ্রেফতার হয়েছিলেন বহুল আলোচিত এই দম্পতি। রেবি কোথায় আছে তা প্রশাসন কিংবা এলাকাবাসী কারোর জানা নেই। তবে, নুরুল কবির স্থানীয় প্রশাসনের সাথে আঁতাত করে অনেকটা প্রকাশ্যে ছিল-এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীর জানায়, রেবি ম্যাডাম বিগত প্রায় ১ বছর ধরে অজানা স্থানে আতœগোপনে রয়েছেন। তিনি গোপন জায়গা থেকেই স্বামী নুরুল কবির ও ভাই জালাল আহমদকে দিয়েই কৌশলে মানবপাচার অব্যাহত রেখেছেন। শুধু তাই নয়, মানবপাচারের মতো ভয়ঙ্কর কাজে বাবা-মা’র সাথে জড়িয়ে পড়ে ছেলে রেজাউল কবির জুয়েলও। বিগত তিন মাস আগে জালাল আহমদ গ্রেফতার হলেও নুরুল কবির ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে। নব্য পাচারকারী জুয়েলও চলছে বীরদর্পে।
সুত্র জানিয়েছে, গত বছরের ২৩ নভেম্বর গ্রেফতার হয়েছিল মানবপাচারে জেলার শীর্ষস্থানীয় ডন রেজিয়া আকতার রেবি প্রকাশ রেবি ম্যাডাম ও তার ভাই আরেক শীর্ষ মানবপাচারকারী জালাল আহমদ। বিষয়টি ওই দিন জেলায় ‘টকক অপ দ্যা নিউজ’ ছিল। পরে মাস খানেক সময় যেতে না যেতেই উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে কারামুক্ত হন র‌্যাবী ম্যাডাম। বন্দিদশা থেকে এলাকায় ফিরে বেশ কয়েকজনকে মারধরও করেছে মানবপাচারের শীর্ষ এই স¤্রাজ্ঞি। তবে, মানবপাচারের টাকার বাহাদুরীতে এসব অপরাধ কাজে অনেকটা ‘ডেমকেয়ার’ মনোভাবে র‌্যাবি ম্যাডামের।
এলাকাবাসী জানায়, রেবী ম্যাডাম, স্বামী নুরুল কবির, ভাই জালাল আহমদ এবং ছেলে রেজাউল করিম জুয়েল পুরো এলাকাকে জিম্মি করে রেখেছে। তাদের লালিত সন্ত্রাসী বাহিনীর নীল ছোবল থেকে প্রতিবাদী কোন ব্যক্তি রেহায় পাচ্ছেনা। হামলা ও মিথ্যা মামলার শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
মানবপাচার সংক্রান্ত সাংবাদিকদের বিভিন্ন তথ্য দেওয়ার অভিযোগে মানবপাচার প্রতিরোধ কমিটির সেক্রেটারী আবদুল হামিদকে রেবি ও তার স্বামী নুরুল কবির জানে মেরে ফেলার ও বিভিন্ন মিথ্যা মামলার হুমকি দেয়।
এর দুইদিন পর মেয়ে শারমিন নূরী পাপিয়াকে ভিকটিম সাজিয়ে আব্দুল হামিদের বিরুদ্ধে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। এরক অসংখ্য নিরীহ যুবক-সাধারণ মানুষ তাদের নগ্ন থাবা থেকে রেহায় পাচ্ছেনা। পাচারের শিকার হয়ে মারা গেছে অনেক বনি আদম।
রেবি ম্যাডামের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় ৩টি মানবপাচার মামলার খবর পাওয়া গেছে। মামলাসমূহ হলো- জিআর ৬৭/১৪, জিআর-১৬৭/১৩। ১৮/১/২০১৫ ইং তারিখের একটি ১৭/১৫ একটি ভাঙচুর-মারামারি মামলাও রয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার সদর থানায় আরো ২টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ বলেন, মানবপাচারসহ সব অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের ‘জিরো টলারেন্স’ ভূমিকা। বিশেষ করে মানবপাচারকে শুন্যের কোটায় নিয়ে আসা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Top