‘মানবতার আওয়াজ তুলতে পারি, কিন্তু আশ্রয় নয়’

abdul-alim-nobel.jpg

আব্দুল আলীম নোবেল :

মিয়ানমারে ভয়াবহ মুসলিম নির্যাতনের চিত্র দেখে মানবতার খাতিরে অনেকে কথা বলছেন। তবে কক্সবাজরের মানুষ এটিকে একটু ভিন্নভাবে নিচ্ছেন, এটি স্বাভাবিক। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বার বার পরিচিত এই জনপদের মানুষ। রোহিঙ্গা নাগরিককে আশ্রয় দিতে গিয়ে এলাকার মানুষের তাদের চরিত্র সর্ম্পকে অভিজ্ঞতার ঝুলিও কম নয়।

এর পরেও পাখি, স্রোত যেমন কোন আন্তর্জাতিক আইন মানে না তেমনি অনেক কে এখন পাখি স্রোতের ভূমিকায় থেকে কথা বলতে শুনা যাচ্ছে। তেমনি কোন মানবতার কাছে সীমানা থাকতে পারে না। কারণ একটাই, তারা মানুষ। অমানুষের হাতের রক্তের হুলি খেলার শিকার বার বার এ রোহিঙ্গা জন গোষ্টি। এর মাঝেও আমরা মানবতার আওয়াজ তুলতে পারি কিন্তু রোহিঙ্গা নাগরিককে এদেশে আশ্রয় দিতে পারি না।

অপর দিকে বর্তমানে কক্সবাজারে থাকা রোহিঙ্গা নাগরিকের অতীত কর্মকান্ডে দেখে সচেতন মানুষ গুলো কোন পক্ষ নিবে চিন্তায় রয়েছে। কি বলবে তারা। মানবতার পক্ষে কথা বলবে নাকি দেশে রোহিঙ্গা প্রবেশে বাঁধা দেবে। রাষ্ট্রীয় পলিসির বাহিরে কেউতো যেতে পারে না। স্থানীয় বেশির ভাগ মানুষ রোহিঙ্গারা এদেশে আসুক সেটা  চায় না। গেল রোহিঙ্গা ট্র্যাজেডি চিত্রে যা জানাগেছে ফলাফল কিন্তু কোনভাবে ভাল হয়নি। এই কারণে অনেকের মাঝে রোহিঙ্গা আতঙ্ক কাজ করছেন।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পসহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আনুমানিক ৩ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা নাগরিকের কর্মকান্ডে স্থানীয়দের অস্থিত্ব হুমখির মুখে ফেলে দেয়ার পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হতে পারে। তবে এমনটি কারো প্রত্যাশা নয়। মোটা দাগে বলতে গেলে রোহিঙ্গাকে দেশে আশ্রয় দিতে পারি না। এর পরেও কি রোহিঙ্গা শরণার্থীদেরকে আশ্রয় দিচ্ছেন না, এমনটিও বলাও ঠিক হবে না। রোহিঙ্গাদের এই দেশে অনুপ্রবেশ আমাদের জন্য মোটেও সুখের নয়। তবে মানবতার খাতিরে তাদের পক্ষ হয়ে তাদের অধিকার ফিরে পেতে এখান থেকে আওয়াজ তুলতে পারি। কিন্তু ঘরে আশ্রয় দিতে পারি না।

কিছু বিদেশী এনজিও রোহিঙ্গা শরণার্থীর সাহয্যের কথা বলে একটি গোষ্টি সুবিধা নিচ্ছে মাত্র। সর্তক থাকতে হবে এমন সুযোগ কাজে লাগিয়ে রোহিঙ্গাদেরকে এই দেশে আসার উৎসাহ দিচ্ছে কি না। চীন মাত্র তিন হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীদেরকে আশ্রয় দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম শিরোনাম হচ্ছে। আর এদিকে আমার দেশ কয়েক লক্ষাধিক রোহিঙ্গা নাগরিককে বছরের পর বছর আশ্রয় দিয়েও তো তেমন কোন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরো নাম হচ্ছে না।

বিশ্বের সাদা চামড়ার মানবতাবাদিরা কোথায়? নির্যাতিত রোহিঙ্গাদেরকে এদেশে ঠেলে দেয়াতো কোন মতে সমধান নয়। মনে রাখতে হবে এটিও হতে পারে কারো অশুভ খেলা। আমরা মানবিকবোধ সম্পন্ন জাতি। তবে আমাদের অস্থিত্ব হুমকির মুখে ফেলে নয়। জাতি সংঘ কোথায়? মানুষ নামে মানুষরূপী মিয়ানমারের জানোয়ারদের হাতে মার খাচ্ছে মানবতা। রোহিঙ্গা ইস্যুতে আজ বিশ্ব বিবেক মুখ তুবড়ে পড়ছে নাকি। এমন প্রশ্ন রেখে লেখা শেষ করা ছাড়া কোন্ কিছু করার নেই। মিয়ানমারের মুসলিমরা সে দেশের কলংকিত সেনাবাহিনী ও একটি গোষ্টির আধিপত্য বিস্তার ও স্থানীয় কোন্দলের কারণেও বারে বারে নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন। যুগে যুগে মার খাচ্ছে রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক। ফিরে দেয়া হোক তাদের নাগরিক অধিকার।

লেখক-আব্দুল আলীম নোবেল (সাংবাদিক ও সামাজিক আন্দোলনকর্মী )

০১৮২৪৪০৩০৮৩

Top