মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট খোলা চিঠি

pm.jpg

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম সমুদ্রসৈকত, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি, উপমহাদেশের প্যারিস খ্যাত দেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা কক্সবাজারে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবী জানিয়ে গণতন্ত্রের মানসকন্যা, রূপকল্প’৪১ এর স্বপ্নদ্রষ্টা, চ্যাম্পিয়নস অফ দ্য আর্থ এওয়ার্ড পুরস্কার প্রাপ্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার কাছে খোলা চিঠি : মাননীয় সফল প্রধানমন্ত্রী।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আপনি ১৬ কোটি ধর্মপরায়ণ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশীর আরাধ্য সরকার প্রধান, প্রধানমন্ত্রী। কোটি ছাত্রছাত্রীর বিশ্বাসের বাতিঘর, লালিত্য স্বপ্নের একমাত্র আশ্রয়স্থল। উন্নয়নের কান্ডারী, শিক্ষা প্রসারের পরশপাথর। আপনার মেধা প্রসূত ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ডিজিটালাইজ শিক্ষা ব্যবস্থা, দক্ষ মানবসম্পদ, সমৃদ্ধ শিল্পায়ন ও গতিশীল যোগাযোগ প্রযুক্তির দেশবাসীর জন্য শ্রেষ্ঠ আশীর্বাদ। এমন কোন খাত নেই যেখানে ঈর্ষণীয় সাফল্য দৃশ্যমান নয়। শিক্ষা আমাদের মৌলিক অধিকার তাই আপনার “শিক্ষিত প্রজন্ম উন্নয়নের পূর্বশর্ত ” দর্শনে বিশ্বাসী হয়ে একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুরোধ জানাচ্ছি। কেন একটি বিশ্ববিদ্যালয় সময়ের দাবী তার যুক্তি :

০১. কক্সবাজার জেলার মোট আয়তন ২৪৯১.৮৬ বর্গকিলোমিটার। উপজেলা ৮ টি, পৌরসভা ৪টি, ইউনিয়ন ৭১ টি। সংসদীয় আসন ৪ টি।
০২. মোট জনসংখ্যা ২৪,৯৪,৩৫০ জন, ভোটার সংখ্যা ১২,১১,৪০৯ জন, জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১০০১ জন।
০৩. সরকারি কলেজ ২ টি, বেসরকারি ১৭ টি, সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ৬ টি, বেসরকারি ১৭২ টি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩৭৬ টি, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২২০ টি, মাদ্রাসা ১৮৩ টি, ভোকেশনাল ১টি, সরকারি মেডিকেল কলেজ ১টি। শিক্ষার হার ২১.০৯. শতাংশ।
০৪. জেলাবাসীর প্রধান পেশা কৃষি, লবণচাষী এবং জেলে। এছাড়াও কিছু সংখ্যক শ্রমজীবী ও পেশাজীবী থাকলেও বেশিরভাগই কৃষিনির্ভর হতদরিদ্র, নিম্নমধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত।
০৫. রাজধানীর সাথে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, দেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহর, আকর্ষণীয় পর্যটন নগরী, মনোরম পরিবেশ। একটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়ামও রয়েছে এই জেলায়। বিদ্যমান আকাশপথের পাশাপাশি শীঘ্রই চালু হচ্ছে মিটারগেজ রেলপথ।
০৭. রপ্তানিযোগ্য হোয়াইট গোল্ড খ্যাত চিংড়ি, লবণ, সামুদ্রিক মাছ, মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ, শামুক, রাবার বাগান, বনজ সম্পদ ইত্যাদিতে ভরপুর অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনাময়।
০৮. বিশ্বের সর্ববৃহৎ সমুদ্রসৈকত, শীতল পানির ঝর্ণা, বিরল কোরাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন, রামু বৌদ্ধ মন্দির, আদিনাথ মন্দির, কুতুবদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর(প্রস্তাবিত) এবং দেশের প্রথম বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র সহ ভ্রমন পিয়াসীদের প্রধানতম পছন্দ। এছাড়া উল্লেখ্য ও অনুল্লেখ্য অনেক কিছুরই লালনভূমি আমাদের এই কক্সবাজার জেলা। কিন্তু দুঃখজনক সত্যি হচ্ছে এতো অদ্বিতীয় সমন্বিত ও সম্ভাবনময়ী হওয়া সত্ত্বেও এখানে কোন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নেই। যেটি এতৎঅঞ্চলের দারিদ্র্যপীড়িত ও আগ্রহী- উদ্যমী, সৃজনশীল, দেশপ্রেমিক আগামী প্রজন্মের জন্যে স্বশিক্ষিত হওয়ার প্রধান অন্তরায়। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরেও আপনার মত শিক্ষানুরাগী, ত্যাগী ও জীবনসম দেশ দরদী প্রধানমন্ত্রী পেয়েও যদি আমরা একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় না পাই তা একই সাথে হতাশাজনক, দুঃখজনক এবং অনুন্নয়ন কামীতা বৈ কিছুই না।
প্রাণের নেত্রী, আশা করি কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর, জেলে, ডাক্তার, আইনজীবী, ছাত্র, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ ও সচেতন সব মহলের দীর্ঘদিনের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতঃ প্রাণের প্রার্থনা হয়ে থাকবেন। আন্তরিক ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ।

বিনীত
কক্সবাজারবাসীর পক্ষে,
সালাহউদ্দীন মাহমুদ
এলএল.বি (অনার্স) এলএল.এম
সিনিয়র সদস্য
কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ, কক্সবাজার।
মোবাইল 01842676404
01715676404

Top