মাদকে সয়লাব ঈদগড়: বাড়ছে নানা অপরাধ

madok_1.jpg

হামিদুল হক, ঈদগড়:
রামু উপজেলার ঈদগড়ে অবাধে চলছে অবৈধ মাদক দ্রব্য বেচাকেনা এবং সেবন। উঠতি বয়সে তরুণ ও যুবকেরা প্রতিনিয়ত মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। অভিভাবকরাও তাদের মাদকাসক্ত সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
ঈদগড়ে মাদক নিয়ে বিভিন্ন সভা সমাবেশে বক্তারা বক্তব্য দেন। কিন্তু তেমন কোন অগ্রগতি দেখা যায় না। ঈদগড়ে চিহ্নিত স্পটগুলিতে অবৈধ মাদকের এখন ছড়াছড়ি। মদ, গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবাসহ নতুন নতুন বিভিন্ন মাদকের ছোবলে যুব সমাজসহ এক শ্রেণীর মাদকাসক্ত মানুষ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌছে গেছে। অথচ সামাজিক পরিবেশ ও যুব সমাজ ধ্বংসকারী মাদক বিক্রয়কারী বড় বড় রাঘব বোয়ালদের সিন্ডিকেট ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। অনেক সময় স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীরা মাঝে মধ্যে সেবনকারীদের আটক করে তাদের কর্তব্য কাজের কিছুটা ধারাবাহিকতা রক্ষা করছেন। অবৈধ মাদক দ্রব্য বেচাকেনার বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, এলাকায় বিভিন্ন মাদক দ্রব্যের আগ্রাসনে অসহায় হয়ে পড়েছে মানুষ। এলাকার যুব সমাজ এক সময় মদ, গাঁজা ও হেরোইনের নেশায় আসক্ত ছিল। কিন্তু সম্প্রতি নতুন করে আমদানী হলো ইয়াবা। তা এখন আর যুব সমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগামী ছেলেসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠির মধ্যে। সূত্র জানায়, রাতে ও দিনে প্রতিনিয়ত ঈদগড়ে বিভিন্ন স্থান থেকে মাদকের চালান আসে। এর পর এখান থেকে বিভিন্ন চিহ্নিত স্পটে বেচাকেনা হয়ে থাকে। অবৈধ এবং চিহ্নিত এ মাদক বিক্রেতাদের পেছনে বড় ধরণের সেল্টার থাকায় কেউ কোন প্রতিরোধের সাহস পাচ্ছে না। এলাকাবাসী বিষয়টির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ডাউনলোডের নামে পর্ণো ভিডিওর রমরমা ব্যবসা
ঈদগড় বাজারসহ বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে অবস্থিত মোবাইল কম্পিউটারের দোকানে মেমোরী কার্ডে গান, ছবি, এ্যাপস এর পাশাপাশি অশ্লীল এবং পর্ণোগ্রাফিক ভিডিও ডাউনলোড করা হচ্ছে। এতে উঠতি বয়সের স্কুল-কলেজগামী ছাত্রদের চারিত্রিক অধঃপতন ঘটার কারণে এলাকায় নারী নির্যাতন, ইভটিজিং ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রবণতা বেড়েই চলছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, এলাকার বাজারসহ প্রায় সবখানেই মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকান চোখে পড়ে। এগুলিতে রমরমা এখন গান ডাউনলোডের ব্যবসা। প্রশাসন এবং এতদসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন নিয়ন্ত্রণ না থাকায় প্রতি সপ্তাহে নতুন নতুন অশ্লীল ভিডিও ক্লিপস সংগ্রহ করে তা ক্রেতাদের চাহিদামত মোবাইলে ডাউনলোড করা হ্েচ্ছ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কম্পিউটারে গান ডাউনলোডের দোকানের এক কর্মচারী জানায়, মূলত উঠতি বয়সের ছেলেদের মধ্যে এ ধরণের অশ্লীল ভিডিওর চাহিদা বেশি। তবে কমবেশি সব বয়সের লোকজন এ ধরণের ভিডিও মেমোরী কার্ডে ডাউনলোড করে। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তার সাথে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য তাদের কাছে নেই বা কেউ অভিযোগ করেনি। তবে তথ্য পেলে অবশ্যই অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর পরেও অভিভাবকদের উচিত তাদের ছেলেমেয়ের নিয়মিত খোঁজ খবর রাখা।

Top