মাদকে ধ্বংস লোহাগাড়ার যুবসমাজ

madok_1.jpg

জাহেদুল ইসলাম, লোহাগাড়া:
লোহাগাড়া উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়া যায় এমন অভিযোগ উঠেছে। এতে ধ্বংস হচ্ছে যুব সমাজ। উঠতি বয়সের ছেলেদের হাতে মরণনেশা মাদক ইয়াবা, হিরোইন, ফেন্সিডিল, বাংলামদ, গাঁজাসহ নানা রকমের মাদক। লোহাগাড়া থানা পুলিশ মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স হলেও মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে নির্দিধায়। প্রতিদিন মাদক ব্যবসায়ী আটক হলেও প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীরা ধরা ছোয়ার বাইরে রয়েছে এমনটাই প্রকাশ করেছেন এলাকার সচেতন ব্যক্তিবর্গ।

সূত্রে জানা যায়, আন্তঃজেলার মাদক সম্রাট ফোরকান। সে লোহাগাড়া সদর জোনাবীর পাড়ার এনু মিয়ার পুত্র। কয়েক বার আটক হলেও জামিনে বের হয়ে পুণরায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে যান। পুরো লোহাগাড়া তার সিন্ডিকেটে বিরাজমান বলে জানা যায়। এছাড়া লোহাগাড়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাদকের ছড়াছড়ি রয়েছে এমন অভিযোগও উঠেছে। পাচারকালে বিভিন্ন এলাকার লোকজন লোহাগাড়া থানা পুলিশের হাতে আটক হয়।

জানা যায়, লোহাগাড়া দর্জিপাড়ার এহসান, রাসেল, আমিরাবাদ বাঁশখালিয়া পাড়ার মোস্তফিজ, কলাউজান খালাসী পাড়ার সিরাজ, আধুনগর মিয়া পাড়ার মোহাম্মদ আলী, ফারুক, পাল পাড়ার বাবুলসহ আরো নাম না জানা অনেকে বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহ করে থাকে।

সন্ধ্যা হলেই লোহাগাড়ার দর্জিপাড়া, জোনাবীর পাড়া, আমিরাবাদ স্কুল রোড, বটতলি ষ্টেশন, বাঁশখালিয়া পাড়া, পদুয়া বাজার, চরম্বা নয়া বাজার, নোয়ারবিলা পুটিবিলা এমচর হাট, বড়হাতিয়ার সেনের হাট, চুনতি শাহ সাহেব গেইট, আধুনগর মিয়া পাড়া সড়ক, পাল পাড়া সড়ক, সাতগড় শাহ আতাউল্লাহ সড়ক, চেদিরপুনি এলাকায় মাদক হাত বাড়ালেই পাওয়া যায়। মূলতঃ সন্ধ্যা হলেই বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যায়।

জৈনক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তি বলেন, লোহাগাড়ার জোনাবীর পাড়ার ফোরকান ও তার পরিবার মাদক ব্যবসায়ের সাথে জড়িত। বার বার আটক হওয়ার পরেও স্বল্প সময়ে বেরিয়ে পুনরায় মাদক ব্যবসায়ে জড়িয়ে পড়ে। এলাকার সচেতন মহল বলেন, জনপ্রতিধির আড়ালে লোহাগাড়ায় মাদক ব্যবসায় জড়িয়েছে অনেকে। আবার অনেকে গাঁ ডাকা দিয়েছেন।

লোহাগাড়া তরুণ ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোঃ তারেক আজিজ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে যুবসমাজ ধ্বংসের পথে। স্কুল-কলেজ থেকে এসেই বিকেলে মাদকের নেশায় পাগল হয়ে পড়ে। যাদের হাতে বই-কলম থাকার কথা তাদের হাতে মাদক সেবন মানাই না। এ যুব সমাজকে বাঁচাতে হলে মরণ নেশা মাদক লোহাগাড়া থেকে চিরতরে বিতাড়িত করতে হবে।

ব্যাংকার মোজাহিদ হোসেন সাগর বলেন, সন্ধ্যা হলেই বটতলী স্টেশনস্থ চোধুরী প্লাজার সামনে যুবকদের আনাগোনা বেড়ে যায়। ওই সময় যাদের থাকার কথা খেলার মাঠে, পড়ার টেবিলে। তারা এখন মাদকের নেশায় অব্যস্ত হয়ে পড়েছে। লোহাগাড়ায় মাদক সেবন যেমনি বাড়ছে, মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যাও তেমনি বাড়ছে। পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল আবছার চৌধুরী বলেন, লোহাগাড়া থানা পুলিশ মাদক ব্যবসায়ী আটক করে জেলে পাঠিয়েছেন। যুবসমাজের হাতে মাদক চলে যাওয়ায় এলাকায় অপরাধ প্রবণতা বেড়ে চলছে। লোহাগাড়ার সর্বস্থরের জনসাধারণ মাদক কে না বলে প্রতিরোধের ব্যবস্থা করলে মাদক নির্মূল সম্ভব হবে।

লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহজাহান পিপিএম বার বলেন, মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। মাদক সম্রাট ফোরকানকে কয়েকবার আটক করেছি। তাকেসহ লোহাগাড়ার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি এলাকাবাসীকে সহযোগীতা করার জন্য আহবান জানান।

Top