মাতারবাড়ীতে ১০টাকার চালের কার্ড বিক্রির অভিযোগ

Rice-chaal.jpg

মনির আহমদ, চকরিয়া ॥

মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার রিয়াজ উদ্দীনের বিরোদ্ধে হত দরিদ্রদের ১০টাকা দামের চালের কার্ড বরাদ্ধে ব্যাপক দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ৭০টি কার্ডের বিনিময়ে ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে আর ১০টি রেখে দিয়েছেন নিজের জন্য। কার্ড বরাদ্ধে দূর্নীতির কথা সাংবাদিকের কাছে প্রকাশ করায় আব্দুল মজিদ নামের এক নিরীহ দর্জিকে বেদম মারধর ও করা হয়েছে। ক্ষিপ্ত ইউপি মেম্বারের হাত থেকে প্রাণে বাঁচতে আব্দুল মজিদ পালিয়ে বেড়াচ্ছে। গত ৭ নভেম্বর সন্ধায় মারধরের এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জানাযায়, মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার রিয়াজ উদ্দীন ও অন্যান্য মেম্বারের মত নিজ ওয়ার্ডের জন্য ৮০টি ১০টাকা দামের হত দরিদ্র কার্ড বরাদ্ধ পায়। কার্ড গুলো হতদরিদ্র পরিবারে বিনামূল্যে দেয়ার কথা থাকলে ও প্রতিটি কার্ডে এক হাজার করে টাকা নিয়ে ৮০টি কার্ডের মধ্য ৭০টিই অনিয়ম করে বিক্রী করেন এবং বাকী ১০টি কার্ড নিজের জন্য রাখেন মেম্বার রিয়াজ উদ্দীন। ১০টাকার কার্ড বরাদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম করেছে এ ধরনের কথা চাওর হলে গত ৭নভেম্বর মাতারবাড়ী ইউপি কার্যালয়ের পার্শ্বের দোকানে অপর এক মেম্বার সহ অসংখ্য ব্যক্তি ওই ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বারের ব্যাপারে জানান, ১হাজার করে টাকা নেয়ার পর ও তিনি নিজের জন্যও ১০টি কার্ড রেখে দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাতারবাড়ীর ইউপি চেয়ারম্যান মাষ্টার মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, কার্ড নিয়ে দূর্নীতির খবর তিনি শুনেন নাই। তা ছাড়া হতদরিদ্রের কার্ড বরাদ্ধে দূর্নীতির কোন সুযোগ নাই এবং এ ব্যপারে প্রত্যেক মেম্বারকে বার বার করে সতর্ক ও করা হয়েছে।তারপর ও কোন মেম্বার অনিয়ম করলে তার দায়ভার সে নিজেই নিবে।

এ ব্যাপারে ইউপি মেম্বার রিয়াজ উদ্দীন জানান, নির্বাচনে তার প্রতিপক্ষের লোকজন তার বিরোদ্ধে মিথ্যা কথা রটাচ্ছে। কিন্ত্ুু অভিযুক্ত মেম্বারের সাথে কথাবলার মূহুর্তেই মোবাইল ফোনে গ্রামের নিরীহ একাধীক ব্যক্তি কার্ড দিতে টাকা নেয়ার বিষয়টি বলতে থাকেন।

এদিকে কিছুক্ষন পরেই খবর আসে, কার্ড বরাদ্ধে দূর্নীতির কথা সাংবাদিকের কাছে প্রকাশ করার অভযোগ এনে আব্দুল মজিদ নামের রাজঘাট এলাকায় এক নিরীহ দর্জিকে বেদম মারধর করেছে মেম্বার রিয়াজের লোকজন। গত ৭নভেম্বর সন্ধায় এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

মেম্বার রিয়াজের ১০টাকার চাল নিয়ে কেলেঙ্কারীর বিষয়টি চাউর হলে এক ভদ্রলোক বলেন,ভিখারীর চাল চুরি করছেন একজন জনপ্রতিনিধি। এ যেন

“রাজার হস্ত করে সমস্থ কাঙ্গালের ধন চুরি করার মত”।

১০টাকার চালের কার্ড বরাদ্ধ নিয়ে আলাপকালে এলাকার লোকজন জানায়, শুধুই ওই ওয়ার্ডে নয় অন্যান্য ওয়ার্ডেও একই অবস্থা। কোন ওয়ার্ডে কার্ড প্রতি ২শত-৫শত-১০০০ টাকা নিয়েছে ওয়ার্ড মেম্বাররা। মেম্বারদের ভাবভঙ্গী দেখে মনে হয় করুনা করে যেন অসহায় গরিবদের কাছে নিজেদের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সাহায্য করছেন। কার্ড পেয়ে ডিলারের কাছে হতে হয় আরেক হয়রানীর স্বীকার। ত্রিশ কেজি চালের টাকা দিয়ে চাল পাচ্ছেন ২৪-২৫-২৬কেজি করে।

এলাকার অসংখ্য নিরীহ ব্যক্তি বলেছেন চেয়ারম্যান একজন সৎ লোক। কথায় ও তার সততার আভাস রয়েছে। কিন্তু তার সরলতার সুযোগে মেম্বারদের অধিকাংশ বেপরোয়া। ডিলাররাও তথইবচ।দূর্বল চেইন অব কমান্ড। অবস্থা দেখে মনে হলো উপরে ফিটফাট ভিতরে সদরঘাট অবস্থা। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সচেতন মহল।

Top