মহেশখালীতে চিংড়িঘের ও স্লুইস গেইট দখল নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১

NIHOTO_2.jpg

বিশেষ সংবাদদাতা
জেলার অন্যতম ক্রাইমজোনখ্যাত মহেশখালীর হেতালিয়া ও উমখালী এলাকার চিংড়িঘের ও স্লুইস গেইট দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলি বিনিময়ের ঘটনায় মহিউদ্দিন নামে আহত এক কর্মচারী মারা গেছে।
মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে সোমবার (১৪ নভেম্বর) দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত দুই পক্ষের সংঘর্ষে মহিউদ্দিনসহ আরো অন্তত ১০ জন আহত হয়।
তাদের কয়েকজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলো- গোলাম মোস্তফা, সাহাবুদ্দিন, নুরুল হক, লোকমান হাকিম ও নেজাম উদ্দিন।
তবে, তাদের অধিকাংশই মামলার আসামী হওয়ায় বিভিন্ন গোপনস্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
মহিউদ্দিন হোয়ানক বড়ছরা স্লুইস গেইট এর কর্মচারী এবং ওই এলাকার মৃত মনজুর আহমদের ছেলে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে। দু’পক্ষের আগ্নেয়াস্ত্রের কাছে পুলিশ প্রশাসনও অসহায় হয়ে পড়েছে বলে উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা।সোমবার মধ্যরাত থেকে স্থানীয় ফেরদৌস বাহিনীর ডাকাতদের সাথে জমির মালিক এনাম গংদের মধ্যে মঙ্গলবার রাতে সংঘর্ষ বাঁধে। এঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত ১০-১৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়।
এদের মধ্যে গোলাম মোস্তফা নামের একজনকে প্রথমে চকরিয়া জমজম হাসপাতালে ভর্তি করা হয় পরে অবস্থার অনতি দেখে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ মহিউদ্দিনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করা হয়। সেখানে চিকিৎসা চলাচালে তার মৃত্যু হয়।
সংঘর্ষকালে ডাকাতেরা উমখালী প্রজেক্ট থেকে তিন লক্ষাধিক টাকার বাগদা চিংড়ি লুট করা নিয়ে যায়।
অপরদিকে শাহাব উদ্দিন ও নুরুল হক নামের দুই ডাকাতকে জনগণ হাতে নাতে ধরে ফেলে।
শাহাব উদ্দিন ওই এলাকার আবদুল হামিদের ছেলে ও নুরুল হক প্রকাশ বার্মাইয়া হোসাইন আহমদের ছেলে।
কিন্তু ডাকাতেরা তাদেরকে ছাড়িয়া নেওয়ার জন্য ব্যাপক গুলাগুলি করে বলেও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে।
সোমবার (১৪ নভেম্বর) দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত থেমে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলে।
স্থানীয়দের সুত্রে জানা গেছে, হেতালিয়া ও উমখালী এলাকার চিংড়িঘের দখল-বেদখল নিয়ে ফেরদৌস ও এনাম বাহিনীর মধ্যে তুমুল বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে চিংড়িঘের এনাম বাহিনীর দখলে রয়েছে।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, চিংড়িঘের থেকে এনাম বাহিনীকে উচ্ছেদ করতে ভাড়াটে সন্ত্রাসী ও আশপাশের বসত বাড়ীতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র মজুদ করে রেখেছে ফেরদৌস বাহিনী। ঘটনায় এসব সন্ত্রাসী ও অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।
ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে মহেশখালী থানার ওসি বাবুল চন্দ্র বণিকের সাথে মঙ্গলবার বেলা ৪টার দিকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রসঙ্গ এড়িয়ে বলেন, ভাই দুপুরের খাবার খাচ্ছি। ১০-১৫ মিনিট পর কল করুন। এবিষয়ে জেনেও না জানার ভান করে থাকার অভিযোগ রয়েছে মহেশখালী থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।
এদিকে স্থানীয় স্লুইস গেইট পরিচালনা এবং চামারপারি পানি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা আবু ইব্রাহীম নামের এক ব্যক্তি স্লুইস গেইট ও আশপাশের চিংড়ি ঘেরকে কেন্দ্র করে মারাত্মক সহিংসতার আশঙ্কা প্রকাশ করে মহেশখালী থানায় ডায়েরী করেছিলেন।
সেখানে বাদী আবু ইব্রাহীম উল্লেখ করেছেন, ২০১২ সাল থেকে তিনি কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ওই স্লুইস গেইট পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন। ওই স্লূইস গেইট সংলগ্ন এলাকার উমখালী ও হেতালিয়া চিংড়ি ঘেরে ২/৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে চিংিড়ি চাষ করে আসছেন। এখন সেখান থেকে চিংড়ি ধারার সময় হয়েছে। এলাকার চিহিৃত একদল সন্ত্রাসী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের উচ্ছেদ করে স্লুইস গেইট ও চিংড়িঘের দখল এবং কোটি টাকার চিংড়ি লুট করার পায়ঁতার করছে।
ডায়রীতে তিনি স্থানীয় ফেরদৌস, মোস্তফা কামাল, ফিরোজ ওহিদ শামিম, কায়সুল কবির সোহেল, জাগির হোসেন, আক্তার হোসেন, আহসান উল্লাহ, মোঃ জসিম, সোলতান, আজিজুল হক, আবুল হোসেন, মোঃ আলম, নূরুল কবির, মোঃ ফিরোজ, মোঃ একরাম, মোঃ রশিদ, আবুল কালাম, রহমত উল্লাহ, মোঃ ইব্রাহীম, মোঃ লোকমান নামের কয়েকজনকে অভিযুক্ত করেছেন।

Top