মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন জানেন কেবল ট্রাম্প

donald-trump.jpg

নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টারা যখন নতুন মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন, তখন ট্রাম্প জানালেন তিনিই কেবল জানেন কারা থাকছেন পরবর্তী সরকারের উচ্চপদগুলোতে। এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প এ কথা জানিয়েছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইউএসএ টুডে জানিয়েছে, গত সপ্তাহে নিউ জার্সির গভর্নর ক্রিস ক্রিস্টিকে ট্রাম্পের অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা কমিটির প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর ক্রিস্টি ও তার কয়েকজন সহযোগী এখন আর ওই উপদেষ্টা কমিটিতে কাজ করছেন না। দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ওই কমিটিতেও দেখা যাচ্ছে বলে ইউএসএ টুডে জানিয়েছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সরকার গঠন ও অন্যান্য পদে নিয়োগ দেওয়াসহ পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করার জন্য ১৬ সদস্যের একটি নির্বাহী কমিটি গঠন করেছেন ট্রাম্প। এখন ওই উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যান মাইক পেন্স। এই কমিটিতে ট্রাম্প পরিবারের সদস্যদের রাখা হয়েছে। ট্রাম্পের তিন সন্তানের মধ্যে রয়েছে ডোনাল্ড জুনিয়র, এরিক এবং ইভানকা ট্রাম্প। ইভানকার স্বামী জেরাড কুশনারও অন্তর্বর্তীকালীন ট্রাম্প প্রশাসনে থাকছেন।

অন্তবর্তীকালীন কমিটিতে চিফ অব স্টাফ পদে রিক ডিয়ারবনকে ও সিনেটর জেফ সেশনকে অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি দায়িত্বে রয়েছেন কৃষাঙ্গ নেতা বেন কারসন।

ইতিমধ্যে, ট্রাম্প প্রশাসনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে। রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি –আরএনসির চেয়ারম্যান রেইন্স পায়ারবাসকে চিপ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছেন ট্রাম্প। উল্লেখ্য, চিফ অব স্টাফ পদটি হোয়াইট হাউসের সর্বোচ্চ কর্মকর্তার পদ। প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত সচিবের (পার্সোনাল সেক্রেটারি) মতো কাজ করেন ওই পদে থাকা ব্যক্তি। এই পদে নিয়োগ পাওয়া রেইন্স পায়ারবাস হাউস স্পিকার পল রায়ানের ঘনিষ্ঠ এবং রিপাবলিকান দলের বহু পুরনো বিশ্বস্ত সঙ্গী।

অপরদিকে, ট্রাম্পের মুখ্য স্ট্র্যাটেজিক কর্মকর্তা ও সিনিয়র কাউন্সেলর হিসেবে কাজ করবেন তীব্র রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম ব্রিটবার্ট নিউজ নেটওয়ার্কের স্টিভ বেনন। তিনি ট্রাম্পের প্রচারণা দলের প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন।

তবে অন্যান্য পদে নিয়োগ নিয়ে উপদেষ্টারা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। মঙ্গলবার মাইক পেন্স অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে নেতৃত্বের পরিবর্তন, নতুন সরকারের নিয়োগ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করতে ম্যানহাটনের ট্রাম্প টাওয়ারে যান। তিনি সেখানে প্রেসিডেন্ট পদে নিয়োগের সমঝোতা চুক্তিতে ট্রাম্পের স্বাক্ষর নেন। এই চুক্তিটি মূলত রাষ্ট্রের সঙ্গে পরিচালক হিসেবে প্রেসিডেন্টের চুক্তি।

ওই আলোচনার পর এক টুইটার বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ‘সুসংগঠিত প্রক্রিয়ায় সবকিছু এগোচ্ছে, এর ভিত্তিতেই আমি পরবর্তী মন্ত্রিসভা ও অন্যান্য পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেব। তবে শেষ দৌঁড়ে কারা জিতবে, তা কেবল আমিই জানি!’

উল্লেখ্য, নির্বাচনি প্রচারণাকালে মুসলিম বিদ্বেষ, অভিবাসী বিরোধী অবস্থান, বর্ণবাদ, পুতিন, পুরুষতান্ত্রিকতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য ট্রাম্প প্রতিপক্ষের দ্বারা সমালোচিত হয়েছেন। তেমনি তার নিজদল রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেও ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছেন ট্রাম্প। দলের প্রভাবশালী অনেক নেতাই তার সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। আর এজন্য তার নতুন প্রশাসনের শীর্ষপদে নিয়োগের বিষয়টি ভীষণ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Top