বিশ্বমানের পর্যটন শহর গড়তে সবার সহযোগিতা চাইলেন কউক চেয়ারম্যান

Cox-DA-Pic_1.jpg

ইমাম খাইর, সিবিএন:
দল মত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা নিয়ে কক্সবাজারকে বিশ্বমানের পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে তুলতে সব শ্রেনী পেশার মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা চেয়েছেন সদ্য গঠিত কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)’র চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমদ। একই সাথে কক্সবাজারকে ঢেলে সাজানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
কউক চেয়ারম্যান বলেছেন, কক্সবাজারকে নিয়ে সরকারের মহাপরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হওয়া শুরু হয়েছে। কক্সবাজারকে নিয়ে ২০১৪ সালে প্রণীত ৩০ বছরের মহাপরিকল্পনার সাথে সমন্বয় করে নতুন করে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে কক্সবাজারকে ঢেলে সাজানো হবে।
বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) বিকালে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ১ম বোর্ড সভা শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের ব্রিফিং-এ লে. কর্ণেল ফোরকান আহমেদ সব কথা বলেন।
বোর্ড সভার আলোচ্যসুচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরো বলেন, সাংগঠনিক কাঠামো, থোক বরাদ্দ, কর্তৃপক্ষের স্থায়ী আয়ের উৎস, অফিস ও গাড়ী ভাড়া, কর্তৃপক্ষের ইমারত বিধিমালা, কর্তৃপক্ষের চাকুরীবিধিমালা বৈঠকের আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানাগেছে।
কউক চেয়ারম্যান বলেন, প্রাকৃতি পরিবেশ ঠিক রেখে কিভাবে কক্সবাজারের উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করা যায় সে বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই ইমারত করতে হবে। বিশেষমহলের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবেনা। আইনের বাইরে কোন সুপারিশ-লবিং পাত্তা পাবেনা। প্রাথমিকভাবে অফিসিয়াল সরঞ্জাম ও জনবল সংকট থাকলেও সবারপ্রতি সম্মান-শ্রদ্ধা রেখে কর্তৃপক্ষের কাজ চলবে।
কর্ণেল ফোরকান বলেন, উন্নয়নের জন্য ‘ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান’ ও ’মাস্টার প্ল্যান’ দরকার। সময় সাপেক্ষ হলেও মহাপরিকল্পনা নিয়েই কর্তৃপক্ষ এগুবে। সাগরের পানির ধাক্কায় বিলীন হতে যাওয়া ঝাউবীথি রক্ষার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিনা অনুমতিতে ভবন নির্মাণ বন্ধে নোটিশ, মাইকিং, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে।
তিনি বলেন, ইতিমধ্যে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া শহর এলাকায় ৭ টি ভবন নির্মাণ কাজের অভিযোগ এসেছে। শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
অবসরপ্রাপ্ত এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, কক্সবাজারকে ঢেলে সাজাতে প্রচুর অর্থের বরাদ্দ দরকার। প্রাথমিকভাবে ৫০ কোটি টাকা ‘থোক বরাদ্দ’ চাওয়া হয়েছে। সবার আন্তরিক সহযোগিতা পেলেই কক্সবাজার হবে একটি আন্তর্জাতিক মানের শহর।
সংবাদকর্মীদের সহযোগিতা চেয়ে কউক চেয়ারম্যান বলেন, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সদ্য ভূমিষ্ট শিশুর মতো। কক্সবাজারকে এগিয়ে নিতে সবমহলের বুদ্ধি, পরামর্শ ও সহযোগিতা দরকার। যাত্রাপথের শুরুতেই সমালোচনা নয়, সহযোগিতা করুন।
তিনি আরো বলেন, বিরোধীতা নয়, কক্সবাজারকে ফুলের মতো ফুটতে দিন। ফোটার আগেই কলি ভেঙে দেবেননা। এ সময় তিনি স্বচ্চ সাংবাদিকতার জন্য সকলকে আগাম সাধুবাদ জ্ঞাপন করেন।
বৈঠকে কউকের সদস্য আবদুস সোবহান, লে. কর্ণেল আনোয়ার হোসেন, প্রকৌশলী বদিউল আলম, এডভোকেট প্রতিভা দাশ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে শহরের বিএমএ ভবনে স্থাপিত কউকের অস্থায়ী অফিসে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ১ম বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কউকের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সুনির্দিষ্ট আলোচ্যসুচির ওপর সবাই বক্তব্য রাখেন। ১ম বোর্ড সভায় উপস্থিত সকলেই কক্সবাজারের উন্নয়নে আন্তরিকতাপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে জানান।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী জাতীয় সংসদে ‘কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)’ বিল পাশ হয়। ১৩ মার্চ কউক’র গেজেট এবং ১৭ আগষ্ট যাত্রা শুরু হয়।

Top