বাংলাদেশ বিশ্বের শান্তিপূর্ণ দেশ – চবি’র সুবর্ণ জয়ন্তীতে প্রধানমন্ত্রী

pm-1.jpg

তাজুল ইসলাম পলাশ, চট্টগ্রাম:
প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে জঙ্গীদের উত্তানের প্রশ্রয়দাতা হলো বিএনপি জামাত। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সরকার একর পর এক উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছে ঠিক সেই সময় জঙ্গী সৃষ্টির আশ্রয়দাতা হয়ে উঠেন জোট সরকার। তিনি বলেন বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ। এখানে সন্ত্রাস জঙ্গীদের কোন স্থান হবেনা। সকলে সম্মিলিতভাবে এই সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনমত গড়তে তুলতে হবে।

শনিবার (১৯ নভেম্বর) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, যারা জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে, তাদের বলতে হবে এই পথ শান্তির পথ নয়। এই পথ নিরাপদ পথ নয়। এই পথ মানুষের কল্যাণ বয়ে আনে না। কিছু লোকের কারণে, তারা খুনখারাবি করে শান্তির ধর্ম ইসলামের বদনাম করছে। সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে একটি শান্তিপূর্ণ দেশে পরিণত করুন। ’ বলেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে গেলে এখনো কে যেন পিছু ডাকে, সে সুর বুকে রিন রিন করে বাজে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়। আমি খুব হতাম যদি অনুষ্ঠানে আসতে পারতাম। আফসোস লাগছে কেন আসলাম না। আশাকরি, ভবিষ্যতে আসবো। উচ্চশিক্ষিত জাতিই ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়তে পারবে। কারও কাছে হাত পেতে নয়, নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনা করতে হবে। কোন শিক্ষার্থী যেন উচ্চশিক্ষায় বঞ্চিত না হয় সে জন্য শিক্ষার্থীদের নিজ জেলায় উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানা প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কোন ছাত্র যদি ক্লাসে অনুপস্থিত থাকে তাহলে সে কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, সন্ত্রাসী-জঙ্গিদের সঙ্গে মিশছে কিনা সেই ব্যাপারে খবর রাখুন। একটা ছেলেকে সঠিক পথে নেয়ার জন্য অভিভাবকদের চেয়ে শিক্ষকদের ভূমিকা কম নয়।

অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ছেলেমেয়েরা যেন বাবা-মার সঙ্গে কথা বলতে পারে। তারা যেন তাদের মনের কথা খুলে বলতে ‍পারে। ছেলেমেয়েরা যেন সঠিক পথে থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। তারা কাদের সঙ্গে মিশছে সেই ব্যাপারে খোঁজ নেবেন। বলেন, প্রধান মন্ত্রী।

প্রায় এক ঘন্টা বক্তব্যে রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বক্তব্যে তিনি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড এবং বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনের কথাও এসময় তুলে ধরেন।

বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন পটিয়ার একটি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা মো.হারু ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নাজমুল আলমগীর।

এসময় প্রধানমন্ত্রী একজন হকারের সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। জেলা প্রশাসনের কর্মচারিরা একজন ভাসমান ফেরিওয়ালাকে কথা বলার জন্য নিয়ে যান। কিন্তু সম্মিলিত হকার্স ফেডারেশনের সভাপতি পরিচয় দিয়ে বেলাল নামে একজন মাইক নিয়ে কথা বলা শুরু করেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর নামে চট্টগ্রামে একটি হকার মার্কেট করার দাবি তুলেন।

প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হবার আগে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো.সামশুল আরেফিন স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এছাড়া পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের চট্টগ্রামের সভাপতি ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম, সরকারি কমাসর্ কলেজের অধ্যক্ষ আইয়ূব ভূঁইয়া, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. সাহাবুদ্দিন ও মহানগর ইউনিটের কমান্ডার মোজাফফর আহমেদ বক্তব্য রাখেন।

আজ (শনিবার) বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে চলছে সুবর্ণজয়ন্তীর মূল আয়োজন। সকাল ১০টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দ্বিতীয় দিনের আয়োজন। এরপর মৎস্য জরিপ জাহাজের উদ্বোধন করেন। সকাল সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। সুবর্ণজয়ন্তী বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন অধ্যাপক ইমিরেটস ড. আনিসুজ্জামান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর, সাবেক সিটি মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল মান্নানসহ চট্টগ্রামের বরেণ্য রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।

শহীদদের সম্মাননা জানানোর পরই শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। চলবে রাত ৭টা পর্যন্ত। অনুষ্ঠানে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ গান পরিবেশন করবে দেশিয় ব্যান্ড দল ওয়ারফেজ, আর্টসেল ও লালন। থাকছেন সঙ্গীতশিল্পী তপন চৌধুরী ও দিনাত জাহান মুন্নী।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সুবর্ণ জয়ন্তীতে যোগ দিতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিবন্ধন করেছেন ৯ হাজার ৫৫৮ জন। অন্যদিকে বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিবন্ধন করেছেন ২০ হাজার ২৯২ জন। এছাড়া শিক্ষক-কর্মচারীসহ প্রায় ৩৫ হাজারের বিশাল উপস্থিতি থাকবে এ মিলনমেলায়। অনিবন্ধিত অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থীও আয়োজনে অংশ নেবেন।

উল্লেখ্য, ১৯৬৬ সালের ১৯ নভেম্বর চট্টগ্রামের হাটহাজারীর জোবরা গ্রামে প্রায় ১৭০০ একর জায়গা নিয়ে যাত্রা শুরু করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। তখন মাত্র ৪টি বিভাগ, ৮ জন শিক্ষক ও ২২০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু হয়। যেখানে বর্তমানে ৪৩টি বিভাগ ও ৭টি ইনস্টিটিউটে ২৩ হাজার ৬৮৭ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।

Top