‘বদির জন্য কাঁদছে উখিয়া-টেকনাফ’

pm-hasina-mp-bodi.jpg

– ইমরুল কায়েস
উখিয়া-টেকনাফের জনপ্রিয় একটি নাম আবদুর রহমান বদি।
 সুখে-দুঃখে সব সময় তাকে কাছে পেতো অসহায় মানুষজন। তার কাছে গেলে পাওয়া যেতো দারিদ্র শিক্ষার্থীর পড়া লেখার খরচ। গরীব অসহায়রা পেত চিকিৎসা খরচ। খালি হাতে ফেরেনি তার কাছ থেকে কেউ।

তিনি এমন ব্যক্তি- যার সহায়তায় বিয়ে হয়েছে অসংখ্য কন্যা সন্তানের। ভেদাভেদ নেই যার নিকট কোন শ্রেনীর। গরীব অসহায় মানুষ যার আপনজন, সেই মানুষটি ১০ দিন ধরে ৫০০ কিলোমিটার দূরের গাজীপুরের কাশিমপুর কারগারে। নিজেদের বিপদে-আপদে, সুখে দুঃখে সহায়তাকারী মানুষটি কারাগারে চার দেয়ালে বন্দি থাকায় আজ মন ভালো নেই উখিয়া টেকনাফের সাধারন মানুষের। আপনজনকে ফিরে পেতে চোখের পনি ফেলছে উখিয়া টেকনাফের সাধারন মানুষ।
উখিয়া-টেকনাফের আওয়ামীলীগের সাধারন কর্মীদের যেই নেতা সবচেয়ে বেশি খোঁজ খবর নিয়েছেন, যার কাছে কর্মীরা সবচেয়ে বেশি সহায়তা পেয়েছে mp-bodiসেই নেতা হলে সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি। আদালতের রায়ে সাজা পাওয়া প্রিয় নেতা বদিকে মুক্ত করে নিজেদের মাঝে ফিরে পেতে ১০ দিন ধরে রাজপথে আন্দোলন করছে আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা। উখিয়া-টেকনাফের আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীরা বিশ্বাস করে, সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি কোন অন্যায় করেনি। তারা মনে করেন, উচ্চ আদালতে আবদুর রহমান বদি নির্দোষ প্রমানিত হয়ে ধ্রুত তাদের মাঝে ফিরে আসবেন।
উখিয়া-টেকনাফের সাধারন মানুষ ও আওয়ামীলীগ নেতারা জানিয়েছেন, ২০০৮ সালে আবদুর রহমান বদি নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে উখিয়া-টেকনাফে যেই উন্নয়ণ হয়েছে তা দেশ স্বধীনতর পর থেকে কোন সংসদ করতে mp-bodiপারেনি। পরপর ২ বারের সংসদ সদস্য হওয়ার পরও কোন সরকারী ও বেসরকারী প্রকল্পে এমপি বদি ১ টাকাও দূর্নীতি বা অনিয়ম করেননি। আবদুর রহমান বদি সংসদ সদস্য হওয়ার পর থেকে উখিয়া টেকনাফের মানুষ সরকারী অনুদানের টাকা ও সহায়তা সঠিকভাবে পেয়েছে। ১০ টাকার চালে অনিয়ম নিয়ে সারা দেশে যেখানে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে তিনি উখিয়া টেকাফের মানুষকে ১০ টাকার চাল বিনা মূল্যে বিতরন করার ব্যবস্থা করেছন। 
mp-bodiসাধারন মানুষ জানিয়েছেন, এমপি বদি এইবারই প্রথম গরীব অসহায় পরিবারের কাছে  বিনা মূল্যে চাল বিতরন করেছে তা নয়। বিগত ৮ বছর ধরে এমপি বদি প্রতিমাসে ধারাবাহিক ভাবে উখিয়া টেকনাফের ১ লক্ষ পরিবারের মাঝে বিনা মূল্যে চাল, তেল, লুঙ্গী ও শাড়ি বিতরন করে আসছেন। এছাড়াও বদি গত আট বছর ধরে তার নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে সকল ধরণের সহয়তা করে আসছে।  বদির কাছে সহায্য চেয়ে খালি হাতে ফেরত গিয়েছে -এমন একটি নজিরও নেই।
আবদুর রহমান বদি গত ৫ বছর ধরে জেলার শ্রেষ্ঠ করদাতা নির্বাচিত হয়ে আসছে। বদির পরিমাণ কর জেলা কোন ব্যাক্তি সরকারকে দেয়না। যেখানে মানুষ সরকারী mp-bodiকর দিতে অনিহা, সেখানে এমপি বদি প্রতি বছর সরকারকে নিয়ম অনুসারে সব সম্পদের কর দিয়ে আসছে। তাই সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে, যে ব্যক্তি কোন কর ফাঁকি দেয়নি, সে ব্যাক্তি সম্পদের তথ্য গোপন কেন করবে?
এমপি বদির বিরুদ্ধে আদালতে অবৈধ সম্পদের কোন প্রমান মিলেনি। বদির কোন অবৈধ সম্পদ নেই বলে রায় দিয়েছে আদালত। আদালতের এই রায়ে এতাদিন যারা বদিকে কালোবাজারি, ইয়াবা ব্যাবসায়ী ও মনবপাচারকারী বলে বিভিন্ন অপপ্রচার চালাত তাদের মুখে চুনকালী পড়েছে বলে মনে করেন সাধারন মানুষ।
এদিকে উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির মুক্তির দাবীতে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করছে উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলা আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠন। আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মী ছাড়াও দুই উপজেলার সকল জনপ্রতিনিধিরা এমপি বদির মুক্তির দাবীতে রাজপথে আন্দোলন করছে।
mp-bodiঢাকার সিএমএম আদালত গত ২ নভেম্বর দুদকের দায়ের করা মামলায় এমপি বদিকে ৩ বছরের সাজা দেয় ।  এই রায়ের প্রতিবাদে ও এমপি বদির মুক্তির দাবীতে  ধারাবাহিকভাবে মানববন্ধন ও সমাবেশ সহ নানা কর্মূসূচী পালন করছে আওয়ামীলীগ। উখিয়ার রাজাপালং, পালংখালী, রতœাপালং, হলদিয়াপালং ও জালিয়াপালং ইউনিয়নে এমপি বদির মুক্তির দাবীতে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের উদ্যোগে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে টেকনাফের হোয়াইক্ষ্যং, হ্নীলা, টেকনাফ সদর, বাহারছড়ায় সমাবেশ সহ নানা কর্মসূচী পালিত হচ্ছে। এসব কর্মসূচীতে আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মী সহ সাধারন মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ার মত। বদির মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত অহিংস এই ধারাবাহিক কর্মসূচী অব্যহত থাকবে বলে জানিয়েছে আওয়ামীলীগ নেতারা। 

Top