প্রশ্নবিদ্ধ সুচি

susi.jpeg
মাসুদ কামাল

রোহিঙ্গা আর মিয়ানমার যেন পরিণত হয়েছে এখন প্রতিদিনের পত্রিকার অপরিহার্য বিষয়ে। মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর চলছে অমানবিক নির্যাতন। সেই নির্যাতন থেকে বাঁচতে ছুটছে তারা বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে। এভাবে ঠেলে দেওয়া হাজার হাজার রোহিঙ্গা ঢুকে পড়ছে আমাদের ভূখণ্ডে। মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের সীমান্ত আছে ২৫৬ কিলোমিটারজুড়ে। আর ভারতের সঙ্গে ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার। ভারতের তুলনায় এটা খুবই সামান্য। কিন্তু নিয়তি হচ্ছে, এই সামান্যের যন্ত্রণাতেই আমরা অস্থির এখন।

রোহিঙ্গা শরণার্থী নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন, আন্তর্জাতিক সমাজ উদ্বিগ্ন। তবে যাদের কারণে উদ্ভব এই সমস্যার, সেই মিয়ানমারের নেই কোনো বিকার। টানা ৫৩ বছর সামরিক শাসনের নিগড়ে থাকার পর গত বছর যখন সেখানে সাধারণ নির্বাচনে অং সান সুচির দল জয়ী হলো, তখন অনেকেই আশা করেছিল এখন বুঝি কিছুটা হলেও মানবিকতার প্রতিফলন দেখা যাবে মিয়ানমারের সরকারের মধ্যে। কিন্তু বাস্তবে সেটা হয়নি, কিছুমাত্র হয়নি। বরং উল্টোটাই দেখা যাচ্ছে। স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি জাতিগত নির্যাতন চলছে এখন রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গাদের ওপর। আর এ কারণেই সবচেয়ে বেশি প্রশ্নের মুখে রয়েছেন নোবেল শান্তি পুরস্কারবিজয়ী মিয়ানমারের অং সান সুচি।

পরিস্থিতি কতটা গুরুতর
রোহিঙ্গা শরণার্থী নিয়ে পরিস্থিতি কতটা গুরুতর সেটা উপলব্ধি করতে জন ম্যাককিসিকের বক্তব্যের দিকে একবার তাকানো যেতে পারে। ইনি জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের একজন কর্মকর্তা। রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সরেজমিনে অবলোকন ও মূল্যায়ন করতে তিনি কক্সবাজারে গেছেন। গত বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর, ২০১৬) তিনি স্পষ্ট করেই বলেন, মিয়ানমারের সরকার দেশটির সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন অভিযান চালাচ্ছে। রাখাইন প্রদেশে নিরীহ রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যা করছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। নির্মম এই আচরণের মাধ্যমে তারা রোহিঙ্গাদের বাধ্য করছে বাংলাদেশে জীবন নিয়ে পালিয়ে যেতে।

এই একই ধরনের কথা দীর্ঘদিন ধরেই বলছে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসতে বাধ্য হওয়া রোহিঙ্গারা। নিজেদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তারা জানিয়েছে কি নির্মম অত্যাচার তাদের ওপর চালাচ্ছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। নির্বিচারে বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিচ্ছে, নারীদের ধর্ষণ করছে, এমনকি আগুনে পুড়িয়ে মারছে মানুষকে। একই কথা বলছে বাংলাদেশ সরকারও। করছে প্রতিবাদ। অনেকদিন ধরেই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ করা হলেও সেসব যেন কানেই তুলতে রাজি নয় মিয়ানমার। কিন্তু এবার যখন জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা বললেন, তখন যেন কিছুটা হলেও কানে পানি ঢুকল মিয়ানমারের। কিন্তু এখানেও দেখাল তাদের অভদ্রতা। মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র জ থে কড়া প্রতিবাদ জানালেন ম্যাককিসিকের বক্তব্যের। বললেন, উনি যা কিছু বলেছেন, তা ঠিক নয়। জাতিসংঘের কর্মকর্তা হিসেবে তিনি নাকি পেশাদারি আচরণ এবং নীতিমালা মেনে চলেননি। এরপর একটু জ্ঞান দেওয়ার ভঙ্গিতে বলেন, ম্যাককিসিকের উচিত ছিল মাঠপর্যায়ের প্রকৃত এবং পর্যাপ্ত তথ্য নিয়ে তার ভিত্তিতে মন্তব্য করা।

প্রশ্ন হচ্ছে, মাঠ পর্যায় থেকে প্রকৃত এবং পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ কিভাবে সম্ভব? রাখাইন প্রদেশে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের কাউকে তো ঢুকতেই দেওয়া হচ্ছে না। আগে যাও বা দু-একজন ঢুকতে পারত, কিন্তু এখন, গত মাস দেড়েক ধরে একেবারেই কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। গত ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকায় কয়েকটি চৌকিতে হামলা করে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। এতে ৯ জন সীমান্তরক্ষী নিহত হয়। এই ঘটনাটিকে পুঁজি করেই গণহত্যার অজুহাত খুঁজে নেয় তাদের সেনাবাহিনী। একাধিক সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, প্রথমদিকে স্থলবাহিনীর সদস্যরাই সেখানে অভিযান পরিচালনা করত। কিন্তু গত কিছুদিন ধরে সেখানে যোগ হয়েছে হেলিকপ্টার গানশিপ। ফলে নৃশংসতা হচ্ছে আরো ব্যাপক। গত কিছুদিন ধরে পুরো রাখাইন রাজ্যেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও ত্রাণকর্মীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে মিয়ানমার সরকার। আর এ কারণেই মিয়ানমার সরকার যা কিছুই বলুক না কেন, ধোপে তা টিকছে না। তাদের মতলব যদি ভালোই হবে, তাহলে মিডিয়া কিংবা ত্রাণকর্মীদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ কেন হবে? এত গোপনীয়তা সত্ত্বেও কিছু ভিডিও ফুটেজ কিন্তু ঠিক বের হয়ে গেছে। তাতে দেখা গেছে বীভৎস সব দৃশ্য, মানুষ মরছে, গ্রামের পর গ্রাম আগুনে পুড়ে যাচ্ছে। তবে এসব বিষয়েও ব্যাখ্যা আছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের। বলেছে, রোহিঙ্গারা নিজেরাই নাকি নিজেদের বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে।

আর কত মানবিক হওয়া যায়
রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমারের বৌদ্ধ শাসকদের অমানবিক আচরণ নিয়ে কারও কোনো সন্দেহ আছে বলে মনে হয় না। তাদের অত্যাচারে বিপর্যস্ত রোহিঙ্গাদের মানব জীবন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এক্ষেত্রে আমাদের বাংলাদেশের কি করণীয়? কি করতে পারি আমরা? আমরা কেন ওদের লোকজনকে আশ্রয় দিতে যাব? আর দেবই বা কিভাবে?

এখানে মিয়ানমার আর বাংলাদেশের কিছু তথ্যের তুলনামূলক পরিসংখ্যান দেওয়া যায়। মিয়ানমারের আয়তন ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৫৭৮ বর্গকিলোমিটার। আর জনসংখ্যা ৫ কোটি ১৪ লাখ। প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব ৭৬ জন। বিপরীত দিকে বাংলাদেশের আয়তন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৭৯ লাখ। এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে বাস করে ১ হাজার ৩১৯ জন। পৃথিবীর সব দেশের মধ্যে ঘনবসতি হিসাবে বাংলাদেশের অবস্থান দশম, আর মিয়ানমারের হচ্ছে ১২৫তম। পরিসংখ্যান হয়ত আরও অনেক ক্ষেত্রে দেওয়া যায়। কিন্তু এতটুকুতেই অন্তত বোঝা যায় যে, চাইলেও আমাদের পক্ষে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। আমাদের ছোট একটা দেশ, কিভাবে জায়গা দেব? আর তারও চেয়ে বড় কথা, কেনই বা দেব? এমনিতেই আমরা জনসংখ্যার চাপে ন্যুব্জ, আর বাড়তি চাপ নেবই বা কিভাবে?

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশে প্রবেশ কিন্তু এবারই প্রথম নয়। গত ত্রিশ বছর ধরেই এটা চলছে। এরই মধ্যে কমপক্ষে ৫ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে কক্সবাজার এলাকায়। এই বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে নিয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা কিন্তু সুখকর নয়। দ্রুতই এরা মিশে গেছে স্থানীয়দের সঙ্গে। জড়িয়ে পড়েছে নানা মাদক ব্যবসায়। অনেকে আবার স্থানীয় দুর্নীতিবাজ জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় বাংলাদেশি পাসপোর্ট পর্যন্ত বাগিয়ে নিয়েছে। এই পাসপোর্ট নিয়ে এরা বিদেশে যেখানেই যাচ্ছে, বদনাম কুড়াচ্ছে বাংলাদেশের জন্য।

সুচি : প্রত্যাশা ও হতাশা
তিন পুরুষেরও বেশি সময় ধরে রোহিঙ্গারা বাস করছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে। জন্মের পর চোখ খুলেই যে আকাশ দেখেছে, যে বায়ু গ্রহণ করেছে, যে মাটিতে প্রথম পা ফেলেছে, সেই ভূখণ্ডেই ‘বহিরাগত’ হিসেবে বসবাস করতে হচ্ছে রোহিঙ্গাদের। নিজের জন্ম, পিতার জন্ম, পিতামহের জন্ম মিয়ানমারে হওয়ার পরও সে ওই দেশের নাগরিক হওয়ার যোগ্য নয়। এর চেয়ে দুর্ভাগ্য আর কি হতে পারে। তারা নিজ দেশে থাকতে পারছে না, সেখানকার সেনাবাহিনী অমানবিক নির্যাতন করে তাদের তাড়িয়ে দিচ্ছে। আবার বাংলাদেশেও ঢুকতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছে, এ দেশ তাদেরকে গ্রহণ করছে না। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের কাছে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তারা পাত্তাই দিচ্ছে না। হাজার হাজার অসহায় শিশু ও নারীর আর্তনাদ যাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র আবেদন সৃষ্টি করতে পারে না, তারা যে প্রতিবেশী দেশের প্রতিবাদকে গুরুত্ব দেবে না, সেটাই স্বাভাবিক।

মিয়ানমারে যখন গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন চলছিল, তখন অনেকেই আশা করছিলেন যে, গণতান্ত্রিক শাসন এলে হয়ত রোহিঙ্গারা ফিরে পাবে তাদের নাগরিক অধিকার। নিজ জন্মভূমিতে স্বাভাবিক হবে তাদের জীবনযাত্রা। কিন্তু সেটা কি পূর্ণ হলো? হবে যে না, সেটা বোঝা যাচ্ছিল বেশ আগে থেকেই। নির্বাচনি প্রচারণা যখন চলছিল, তখনও রাজনৈতিক দলগুলো রোহিঙ্গাদের পক্ষে কিছু বলেনি। কেবল তাই নয়, দশ লাখ রোহিঙ্গার কোনো ভোটাধিকার পর্যন্ত ছিল না। সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলের নেত্রী হিসেবে অং সান সুচির কাছ থেকে মানবিক কিছু প্রতিক্রিয়ার আশায় ছিল যারা, তারাও হতাশ হয়েছেন। পুরো নির্বাচনি প্রচারণার সময় রোহিঙ্গাদের পক্ষে একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি তিনি।

অথচ এই অং সান সুচিই শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। সুচি যখন নোবেল পুরস্কার পান, মিয়ানমারে তখনও চলছে কঠোর সামরিক শাসন, সুচি নিজেও গৃহবন্দি। এ রকম পরিবেশে তার শান্তিতে নোবেল পাওয়ার ঘটনা দুনিয়াজুড়ে মানুষের মনে সুচির বিষয়ে একটা আলাদা ইমেজ তৈরি করেছিল। হয়ত সেই কারণেই অনেকে আশা করেছিলেন, সামরিক জান্তার মনোভাব যা-ই হোক না কেন, সুচি নিশ্চয়ই মানবতাবাদী হবেন, সোচ্চার হবেন রোহিঙ্গাদের মানবাধিকারের বিষয়ে। কিন্তু হতাশ হতে হলো সবাইকে। সামরিক জান্তা এবং সাম্প্রদায়িক বৌদ্ধদের অমানবিক চিন্তার বিপরীতে গেলেন না তিনি। বরং গা ভাসালেন তাদেরই সঙ্গে। মানবতার চেয়েও তার কাছে বড় হয়ে দেখা দিল ক্ষমতার মসনদ। তার এই আচরণ কেবল তার ব্যক্তিগত চরিত্রের বিষয়েই নয়, নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিষয়েই মানুষের মধ্যে প্রবল এক সন্দেহের জন্ম দিল। এরই মধ্যে এ বিষয়ক হতাশা পরিবর্তিত হয়েছে প্রতিবাদে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াসহ অনেক দেশের নাগরিকরা লক্ষাধিক স্বাক্ষর সংগ্রহ করে নোবেল কমিটিকে পাঠিয়েছেন সুচির পুরস্কার বাতিলের জন্য। তাদের বক্তব্য, এমন নির্বিচার হত্যাযজ্ঞেও যে শাসক নীরব থাকতে পারে, সে আর যা-ই হোক শান্তিতে নোবেল পাওয়ার যোগ্য নয়। এ ধরনের চিঠিতে নোবেল হয়ত বাতিল হয় না, হবেও না, কিন্তু সুচির প্রতি মানুষের মনোভাবটা তো প্রকাশিত হয়।
অনেকে এক্ষেত্রে বিষাদের সঙ্গে স্মরণ করছেন আমাদের এই ভূখ- থেকে শান্তিতে নোবেল পাওয়া ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নীরবতার কথাও। তাদের মতে, মিয়ানমারের চলমান মনোভাবের বিপরীতে করণীয় এখন একটাই, আর সেটা হচ্ছে তাদের ওপর অব্যাহত আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা। এই আন্তর্জাতিক চাপের কারণেই কিন্তু মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ৫৩ বছর পরে হলেও গণতান্ত্রিক সরকারকে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল। এবারও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পাশাপাশি তাই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বৈশ্বিক দূতিয়ালিকে। এই জনমত তৈরিতে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তরা যে আর দশজনের চেয়ে অধিকতর ভূমিকা রাখতে পারে, সেটা তো সবাই জানে। এতদিন ড. ইউনূসের অনেক নীরবতার একটা ব্যাখ্যা হয়ত অনেকের কাছে ছিল। দেশীয় কোনো সংকটে তিনি কোনো কথা বলতেন না। ধরে নিতাম, আওয়ামী লীগ বা বিএনপির তকমা গায়ে লাগাতে চান না বলেই হয়ত এ রকমটি করতেন। কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যুতে কেন এত চুপচাপ তিনি। তার কোনো একটি কথাও যদি মিয়ানমারের নির্মমতাকে সামান্য মাত্রও কমাতে পারে, সেটা কি মানবতা আর শান্তির পক্ষেই যাবে না? নাকি তিনিও চরিত্রগতভাবে সুচির মতো ক্ষমতা আর নগদপ্রাপ্তির বিষয়েই বেশি আগ্রহী? তাদের এই নীরবতা কি প্রমাণ করছে, নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার জন্য মানবতার জন্য লড়াইয়ের মনোভাবটা জরুরি নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ মোসাহেবি এবং আপসকামিতা?

মাসুদ কামাল : সিনিয়র সাংবাদিক ও লেখক

Top