প্রবাল দ্বীপে দৈনিক হিমছড়ি পরিবার’র মিলনমেলা

Himchari-News-Pic_1.jpg

বার্তা পরিবেশক :

দিনটি ছিল ২০ নভেম্বর। ভোর ৬টা হতে একঝাঁক ভ্রমণ পিপাসু সাংবাদিক ও সহধর্মণীরা জড়ো হতে থাকে বদরমোকামস্থ দৈনিক হিমছড়ি কার্যালয়ে। আকর্ষণীয় টি-শার্ট পরিহিত দৈনিক হিমছড়ি পরিবার সকাল ৭টা ১ মিনিটে প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে গাড়ী করে কক্সবাজার থেকে টেকনাফে রওয়ানা দেয়। পথিমধ্যে গাড়ীতেই সকালের নাস্তার আসর সম্পন্ন। টেকনাফ পৌঁছা পর্যন্ত মজার শিল্পী ছৈয়দ আলম’র নেতৃত্বে হাস্যরস্যের গল্পগুজবে মাতিয়ে তোলে ২ ঘন্টা। সকাল ৯টায় টেকনাফের দমদমিয়া কেয়ারী ঘাটে পৌঁছে প্রাকৃতিক কাজ সম্পন্নের পর কেয়ারী ক্রুজ এন্ড ডাইনীতে আরোহন। কেয়ারী জাহাজে হিমছড়ি পরিবারের সদস্য ও সহধর্মীনিসহ শিশুরা খন্ড খন্ড ঘুরাঘুরি ওই নাফ নদীর উভয় পাশের্^ পাহাড়ঘেরা প্রাকৃতিক দৃশ্য সবুজ সমারোহ ও জলরাশি অবলোকন করে। ঘড়ির কাটা ঠিক সকাল ১০টায় হতেই বিলাসবহুল জাহাজ কেয়ারী ক্রুজে দৈনিক হিমছড়ির প্রতিনিধিদের নিয়ে আনন্দঘন মিলনমেলা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেন্টমার্টিন সফর ও প্রতিনিধি সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক হুমায়ুন সিকদার’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাবগাম্বীর্য ও দিকনির্দেশনা মূলক আলোচনা রাখেন সম্পাদক হাসানুর রশীদ। বিজ্ঞাপন ম্যানেজার এহেতেশামুল হক’র বিজ্ঞানময় আল-কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন, সিনিয়র রিপোর্টার ছৈয়দ আলম। উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন, আহ্বায়ক হুমায়ুন সিকদার। উপস্থিত প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে এক এক করে আলোচনা ও পরামর্শে অংশ নেন, দৈনিক হিমছড়ির চকরিয়া অফিস প্রধান ও নিজস্ব প্রতিবেদক আবদুল মজিদ, স্টাফ রিপোর্টার মাহাবুবুর রহমান, কাইছারুল ইসলাম, নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি আবুল বাশার নয়ন, পেকুয়া প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম বাবুল, ঈদগাঁও প্রতিনিধি এইচ.এন আলম, ঈদগড় প্রতিনিধি জাফর ইকবাল, বাইশারী প্রতিনিধি মুফিজুর রহমান, রামু প্রতিনিধি আহমদ ছৈয়দ ফরমান, উখিয়া প্রতিনিধি পলাশ বড়–য়া। অনুষ্ঠানে ছবি তোলায় মেতে উঠে দৈনিক হিমছড়ির কম্পিউটার অপারেটর ইনচার্জ আবু সুফিয়ান ও ইমন বড়–য়া বাপ্পা এবং আরমান। প্রতিনিধি সমাবেশ শেষের পর সকলেই সেই চিরচেনা মায়ানমার সীমান্ত ঘেষা বিশাল সাগরের অপরূপ সৌন্দর্য্য অবলোকনে কেয়ারী ক্রুজে চতুর্দিকে পদচারণায় মগ্ন। ঠিক দুপুর ১২টায় সেন্টমার্টিন ঘাটে নোঙর ফেলে কেয়ারী ক্রুজ এন্ড ডাইন। আকর্ষণীয় টি-শার্ট পরা হিমছড়ি পরিবারের সকল সদস্য সু-শৃঙ্খলভাবে একযোগে ঘাটে নেমে পড়ে ব্যস্ত হয়ে যায় সেলফি প্রতিযোগিতায়। পায়ে হেঁটে সোজা সী-প্রবাল হোটেল এন্ড রেষ্টুরেন্টে। দ্বি-তল বিশিষ্ট ওই হোটেলে অবস্থান করে যে যার মত বিশ্রাম নেয়। জোহর নামাজের পর শুরু হয় খাবার। খানিক্ষণ বিশ্রামের কাজও সেরে ফেলেন খাওয়ার পরবর্তী ওই সময়ে। বাদে আসর শুরু হয় সেন্টমার্টিন উত্তর-দক্ষিণে সাঁরি সাঁরি সৌন্দর্য্য ঘেরা প্রবাল পাথরের ও সাগরের ঢেউ খেলানো দর্শন। কেউ সাইকেল চালানোতে মেতে উঠে, আবার কেউবা গ্রুপ গ্রুপ হয়ে গল্পগুজব-আড্ডায় রত, আবার কেউ সাগরের বালিয়াড়িতে খেলাধুলায় ব্যস্ত।

মাগরিবের নামাজের পর শুরু হয় দ্বীপে অধিবেশন মজার মজার পুরস্কার নেয়ার জন্য সকলেই প্রতীয়ক্ষায় ছিলেন কখন শুরু হচ্ছে র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠান। সন্ধ্যা ৭টায় শুরু র‌্যাফেল ড্র। হুমায়ুন সিকদার’র পরিচানায় ড্র অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন দৈনিক হিমছড়ি’র সম্পাদক হাসানুর রশীদ। অনুষ্ঠান শেষ হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন কৌতুক, মজার গল্প কাহিনী, মিশালী গান দিয়ে প্রাণবন্ত করে তোলে দুষ্টমির সর্দার ছৈয়দ আলম, সাইফুল ইসলাম বাবুল, জাফর ইকবাল, ইমন বড়–য়া বাপ্পা। মনে রাখার মত জাফর ইকবাল’র স্বরোচিত গান ‘আমরা সাংবাদিক’ সাইফুল ইসলাম বাবুল’র আঞ্চলিক গান ইমন বড়–য়া বাপ্পা’র আধুনিক গান ড্র অনুষ্ঠানকে বাহ্যিক আনন্দ দেয়। ওই সময় প্রতিনিধিদের বেগম সাহেবাদের অনেকেই অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। বেগম সাহেবাগণ সেন্টমার্টিন সফর ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অন্যতম সারথী। সেন্টমার্টিন সফর সবখানে উচ্ছল হাসি ও আনন্দ। সাড়ে ৯টায় খাবারের পর শুরু হয় নির্ধারিত গান, কৌতুক ও মজার কল্প কাহিনীর আসর।

প্রকৃতির সৌন্দর্য্যকে খোঁজে পাওয়ার উচ্ছাস ও আনন্দে মেতে উঠে যে যার পছন্দের গানে অংশ নেয় পুরো ২ দিনের মজার ভাই ছৈয়দ আলম, আব্দুল মজিদ, সাইফুল ইসলাম বাবুল, পলাশ বড়–য়া, আহমদ ছৈয়দ ফরমান ও ইমন বড়–য়া বাপ্পা। ঘড়ির কাটা ঠিক যখন সোজা অর্থাৎ রাত ১২ টা তখন ইতি টানে সাংস্কৃতিক আসর’র। এরপর শুরু ঘুমের পালা। ভোর সকাল শুরু হয় পায়চারী ও সকাল বেলার সাগরের জলরাশি ঢেউ খেলানো ও সাঁরি সাঁরি প্রবাল পাথরের মনোমুগ্ধকর দর্শন অবলোকনের পালা। সেন্টমার্টিন জেটিঘাট সংলগ্ন ৩/৪ গ্রুপের জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে ব্যস্ত। ঠিক ওই সময়ে তরতাজা কেচকি ও চামিলার লোপ সামলাইতে না পেরে সম্পাদক সাহেব ও হুমায়ুন সিকদার, আহমদ ছৈয়দ ফরমান ও পলাশ বড়–য়াকে নিয়ে মাছ খরিদ করেন। স্বাদের কেচকি নিয়ে আসা হয় সী-প্রবাল রেস্টুরেন্টে। সকাল ৮টায় মজাদার খিচুড়ি খাওয়ার পর মাছগুলোর মজাদার রান্নার পালা পড়ে বেগম শরীফ উদ্দিন বিল্টুর উপর। সত্যিই তিনি স্বাদের রান্না উপহার দিয়েছেন। সকাল ৯টার পর দৈনিক হিমছড়ির টি-শার্ট পরিহিত সকলেই ফুটবল আর ক্রিকেট ব্যাট নিয়ে প্রীতিম্যাচে অংশ নেয়। প্রথমে ফুটবল ম্যাচে অধিনায়ক আবু সুফিয়ান’র এ দল ও অধিনায়ক ইমন বড়–য়া বাপ্পা’র বি দলের মধ্যে শুরু হওয়া খেলার প্রথমার্ধে আবু সুফিয়ান গোল করে এ দলকে এগিয়ে নেন। দ্বিতীয়ার্ধে বি দলের আরমান গোল করে খেলার সমতা ফিরিয়ে আনেন। নির্ধারিত সময় পার হলেই ইতি টানে খেলার। এরপর কেউ কেউ সাগরের পানির সাথে একাকার হয়ে যান। আবার কেউ কেউ সু-স্বাদু ডাবের পানি পানে মশগুল ছিলেন। কিছুক্ষণ পছন্দসই এলোমেলো ঘুরাঘুরি। দুপুর ১২টায় খাবার পালা। খাবার শেষ করেই কয়েক মিনিটের জন্য বিশ্রাম নিতে না নিতেই ডাক পড়ে কেয়ারী জাহাজে উঠার। জাহাজে উঠেই এদিক-ওদিক যাওয়া-আসা সেলফি ভাইরাস শুরু হয়। ঠিক ৩টায় টেকনাফের উদ্দেশ্যে সেন্টমার্টিন ছেড়ে আসে কেয়ারী সিন্দাবাদ। পড়ন্ত বিকেলে সাগরের দৃশ্য খুবই মনোমুগ্ধকর। জাহাজে পর্যটকদের অন্যতম সাথী সাগরের পাখি। ওই পক্ষিকুল উড়তে উড়তে টেকনাফে দমদমিয়া কেয়ারী ঘাটে ঠিক মাগরিবের সময় বিদায় জানান কেয়ারী জাহাজবাহী পর্যটকদেরকে। জাহাজ থেকে নেমেই কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে গাড়ী করে টেকনাফ ত্যাগ। গাড়ীতে আবার শুরু হয় বিভিন্ন কিচ্ছা-কাহিনী, গান ও মজার গল্প। ওখানেও মুখ্য ভূমিকায় ছৈয়দ আলম আর ছৈয়দ আলম। সাথে আবার জাফর ইকবাল’র আমরা সাংবাদিক গান ও সাইফুল ইসলাম বাবুল’র আঞ্চলিক গান। রাত ৮টায় সফরের ইতি টানা হয় বদরমোকামস্থ দৈনিক হিমছড়ি কার্যালয়ে। সফরে জীবনের প্রথম বার যাদের যাওয়া তারা যেন নতুন কিছুকে খোঁজে পাওয়া ও বিভিন্ন স্মৃতি অক্ষয় ও অম্লান হয়ে থাকবে।

Top