পেকুয়া কলেজের ছাত্রদের হামলায় ৩ শিক্ষকের অবস্থা গুরুতর

Pekua-teacher-injoure-by-student.jpg

৯ ছাত্র বহিষ্কার, পরীক্ষা স্থগিত, থানায় মামলা

রিয়াজ উদ্দিন, পেকুয়া :

অসৎ উপায় অবলম্বনের দায়ে এক ছাত্রকে নির্বাচনী পরীক্ষার হল থেকে বহিষ্কারের জের ধরে শিক্ষকদের উপর ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছে উশৃঙ্খল ছাত্ররা। এসময় ছাত্রদের হামলায় ৩ শিক্ষক গুরুতর আহত হন এবং এতে ১ শিক্ষকের মাথা ফেটে যায়। আহত শিক্ষকরা হলেন, কলেজের ইংরেজী প্রভাষক মোহাম্মদ আলম, ইংরেজী শিক্ষক বশির আলম ও প্রদর্শক এনামুল হক। আহতদের পেকুয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।  ৬ নভেম্বর সকাল ১০ টার দিকে পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নে অবস্থিত পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে কলেজ ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী ও আহত শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ৩ নভেম্বর থেকে কলেজের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীদের নির্বাচনী পরীক্ষা শুরু হয়। এ পরীক্ষা ২য় দিন শনিবার ইংরেজী প্রথমপত্র পরীক্ষায় মানবিক বিভাগের মিনার হোছাইন (রোল নং-৮২) নামের এক ছাত্রকে অসৎ উপায় অবলম্বনের দায়ে ১ দিনের জন্য হল থেকে বহিস্কার করা হয়। এ ঘটনার জের ধরে আবাসিক ছাত্ররা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং ৩য় দিন ইংরেজী ২য় পত্র পরীক্ষা শুরুর আগে ১০/১২ জন উশৃঙ্খল ছাত্র লাঠিসোটা নিয়ে হামলার প্রস্তুতি নেয় উচ্চস্বরে বকাঝকা করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে। এসময় পরীক্ষার হলের দায়িত্বরত শিক্ষকরা ছাত্রদের শান্ত থাকতে বললে ২য় বর্ষের মানবিক বিভাগের ছাত্র সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে ১০/১২ জন উশৃঙ্খল ছাত্র শিক্ষকদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় ছাত্ররা শিক্ষক বশির আলম ও মোহাম্মদ আলমকে মাটিতে ফেলে লাঠি দিয়ে মারধর করে। পরে ক্ষুদ্ধ ছাত্ররা শিক্ষক মিলনায়তনে হামলা চালিয়ে জীব বিদ্যা বিভাগের প্রদর্শক এনামুল হককে মারধর করে এবং মিলনায়তনে ভাংচুর চালায়। এসময় শিক্ষক এনামুল হকে মাথা ফেটে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। ঘটনার সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা দিগ¦দিক ছুটাছুটি করতে থাকে এবং ছাত্রীদের মধ্যে কান্নাকাটি পড়ে যায়। পরে পেকুয়া থানা পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুলিশ ঘটনাস্থালে উপস্থিত হলে বিক্ষুব্দ ছাত্রদের ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শুনে পুলিশকে নিরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পেকুয়া থানার এস আই বিমল কান্তি দেবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কলেজে আইন-শৃংখলা বিঘœ হবার খবর পেয়ে আমরা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি তবে কি কারণে ঘটনা ঘটেছে এ বিষয়ে ছাত্ররা বলছে তাদের অহেতুক বহিস্কার বা পরীক্ষায় চাপাচাপি করা হচ্ছে আর শিক্ষকরা বলছেন কেন হামলা হয়েছে তা আমরা বুঝে উঠতে পারছিনা। প্রত্যক্ষদর্শী ২য় বর্ষের ছাত্র এমরান খান, ছাত্রী কনিকা সহ বেশজন বলেন, আমরা যখন পরীক্ষার হলে যাচ্ছিলাম তখন সালাহউদ্দিন, কমল, নাছির, ইউসুফ সহ ১০/১২ জন ছাত্র লাটিসোটা হাতে নিয়ে প্রথমে হলের গ্রীল বন্ধ করে দেয় তারপর হৈচৈ করে স্যারদের উপর হামলা চালায়। আহত শিক্ষক বশির আলম, মোহাম্মদ আলম ও এনমুল হক বলেন, ইংরেজী প্রথম পত্র পরীক্ষায় এক শিক্ষার্থীকে বহিস্কার করার জের ধরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে।

ঘটনার পরপরই অধ্যক্ষ মো: ওবায়দুর রহমান এক সাংবাদিক সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিক্ষককের উপর ন্যক্কারজনক হামলা কলেজের ইতিহাসে এ প্রথম। তিনি জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের ও হামলায় জড়িত ৯ ছাত্রকে কলেজ ও ছাত্রাবাস থেকে সাময়িক বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যাদের নামে থানায় অভিযোগ দেয়া হয় তারা হলো, ২য় বর্ষের ছাত্র সালাহউদ্দিন, মিনার হোসেন, ইব্রাহীম খলিল, রেজাউল করিম, খোরশেদ আলম, আরিফুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন, জয়নাল আবেদীন ও আবদুর রহমান জয়। তিনি জানান, এঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নির্বাচনী পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। কলেজ শিক্ষকরা শিক্ষককদের উপর ন্যক্কারজক এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্থির দাবি করেছেন।

Top