পেকুয়ায় জিয়াউর রহমান কলেজ : পরীক্ষায় ফিরল নয় ছাত্র, আটক-১

Pekua-teacher-injoure-by-student.jpg

মুহাম্মদ হাসেম,পেকুয়া :

পেকুয়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজে নির্বাচনী পরিক্ষায় অংশ নিল নয় ছাত্র। গত রবিবার জিয়াউর রহমান কলেজে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় উত্তেজিত ছাত্রদের হামলায় কলেজের তিন শিক্ষক গুরুতর আহত হয়েছেন। ওই ঘটনার জের ধরে কলেজে টান টান উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন আনতে পুলিশ মোতায়ন করা হয়। কলেজে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রশাসন ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে রুদ্ধদার বৈঠক করেন। অনাকাংখিত এ পরিস্থিতির জন্য জিয়াউর রহমান উপকুলীয় কলেজের নয় শিক্ষার্থীকে দায়ী করে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন ও উদঘাটনের জন্য গঠিত হয় তদন্ত কমিটি। ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় নয় শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার পেকুয়ায় শহীদ জিয়া উপকুলীয় কলেজে ফের শ্রেনী কার্যক্রম আরম্ভ হয়েছে। ঘটনার পর দু’দিন কলেজ বন্ধ ছিল। গতকাল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে নির্বাচনী পরীক্ষায় সাময়িক বহিস্কৃত ওই নয় ছাত্রকে পরীক্ষায় অংশ নিতে সুযোগ দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। ওইদিন সকালে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু, নির্বাহী অফিসার মারুফুর রশিদ খান ও পেকুয়া থানার অফিসার ইনর্চাজ জিয়া মো.মোস্তাফিজ ভুঁইয়া জিয়া কলেজের শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সাথে বৈঠক করেন। তবে বৈঠকে কি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এ বিষয়ে সুষ্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে পেকুয়া থানা পুলিশ গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনার সাথে জড়িত শিক্ষার্থী সালাহ উদ্দিনকে আটক করেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অসর্মথিত একটি সুত্র জানিয়েছে ঘটনার সাথে জড়িত নয় শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নিতে সুযোগ দেয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে দু’টি পক্ষ তৈরি হয়েছে। তাদের মধ্যে চলছে স্নায়ু বিরোধ। এর জের ধরে হামলার শিকার ওই কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রদর্শক এনামুল হক ওই ঘটনায় ক্ষুদ্ধ হয়ে দুপুরের দিকে নিজের পদত্যাগ পত্র অধ্যক্ষ বরাবর প্রেরন করেন। তবে বিষয়টি নাকচ করেছেন ওই কলেজের কয়েকজন শিক্ষক। এ ব্যাপারে তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন এ বিষয়ে আমরা মুঠেই ওয়াকিবহাল নয়। পদত্যাগের বিষয়টি ¤্রফে গুজব নাকি বাস্তব এবিষয়ে এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিক্ষক এনামুল হকের এ বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা চালানো হয়েছে। মুঠোফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া যায়নি। কলেজ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ নভেম্বর কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের নির্বাচনী পরীক্ষা শুরু হয়। ওইদিন এক ছাত্রের কাছে নকল পাওয়ায় তাকে বহিস্কার ও পরীক্ষায় নকল বন্ধে শিক্ষকেরা কঠোর হওয়ায় রোববার সকালে পরীক্ষার্থী ছাত্রদল কর্মী সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে শিক্ষকদের ওপর হামলা করা হয়। এতে ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ আলম, মোহাম্মদ বশির ও রসায়ন বিভাগের প্রদর্শক এনামুল হক আহত হন। এব্যাপারে জানতে পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজের অধ্যক্ষ মো.ওবাইদুর রহমান এর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মারুফুর রশিদ খাঁন বলেন, বহিষ্কৃত ছাত্রদের ছাড়া পরীক্ষায় অংশগ্রহণে আপত্তি জানিয়ে বিক্ষোভ করছিল অপর পরীক্ষার্থীরা। তাই আমি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শিক্ষকদের সাথে পরামর্শ করে এই সিদ্ধান্ত নিই। এতে সকল শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানে শান্তি ফিরে আসে।

Top