পেকুয়ায় এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা

chanda-baji_1.jpg

এম.জুবাইদ ,পেকুয়া :

পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি’র) চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নুরুল হোছাইনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা রুজু করেছে পেকুয়া সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক নাছির উদ্দিন বাদশাহ। শিলখালী ইউপির চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে তার কাছ থেকে দু’লক্ষ টাকা চাঁদাদাবি করার অভিযোগ তুলে নাছির উদ্দিন বাদশাহ চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে এ অভিযোগ দায়ের করে। বিজ্ঞ আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করতে পেকুয়া থানার ওসি কে নির্দেশ দেন। গত ২৭ নভেম্বর পেকুয়া থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। যার নং-১৫/১৬। মামলায় শিলখালী ইউপি’র চেয়ারম্যান নুরুল হোছাইনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলার অপর আসামিরা হলেন ইউপির সদস্য বিএনপি নেতা আবু তাহের, চেয়ারম্যানের ভাতিজা হিসাবে পরিচিত হাজি¦রঘোনা এলাকার জামাল হোসেনের ছেলে মুফিজুর রহমান, একই এলাকার মোজাফ্ফর আহমদের ছেলে খোরশেদ আলম বোরহান, হাজিরঘোনা এলাকার চেয়ারম্যান পাড়ালিয়া কায়সার উদ্দিন, পেটান মাতবরপাড়া এলাকার নুরুল আমিনের ছেলে মো.জাকারিয়া। এছাড়া মামলায় আরো ১০-১২জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। পেকুয়া থানার অফিসার ইনর্চাজ জিয়া মো.মোস্তাফিজ ভুঁইয়া মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। মামলা সূত্রে জানা গেছে ২০১৪সালে সামাজিক বনায়ন সৃজনের জন্য বনবিভাগ উপকারভোগি নিয়োগ করেন। ছাত্রলীগ নেতা নাছির উদ্দিন বাদশাহ দক্ষিন চট্টগ্রাম বনবিভাগের পহরচাঁদা বনবিটের আওতায় হারবাং রির্জাভ ভুমি ১৭নং সিটে উপকারভোগি হিসেবে সংরক্ষিত বনাঞ্চালে বাগান সৃজন করে। ছাত্রলীগ নেতা তার বরাদ্ধকৃত বনভুমির জায়গায় পিলার ও কাটাতারের বেড়া দিয়ে সিমানা নির্ধারন করেন। বর্তমানে গাছগুলি বিক্রি উপযুক্ত হয়েছে। জানা গেছে, শিলখালী ইউপির চেয়ারম্যান নুরুল হোছাইনের নেতৃত্বে আসামিরা বাগান থেকে ছাত্রলীগ নেতাকে উচ্ছেদের পাঁয়তারা করে। এমনকি সম্প্রতি ওইচক্র তার কাছ থেকে ২লক্ষ টাকা চাঁদাদাবি করে। এনিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে ¯œায়ু বিরোধ দেখা দেয়। এদিকে দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় ওই চক্র ছাত্রলীগ নেতার বাগান থেকে পিলার ও কাটাতারের বেড়া অপসারন করে প্রায় ৭০-৮০হাজার টাকার গাছ কর্তন করে নিয়ে যায়। এর প্রতিবাদ করলে আসামিরা বাদিকে মারধর করে আহত করে। এর সুত্র ধরে ছাত্রলীগ নেতা বাদশাহ বাদি হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে গত ২২ নভেম্বর একটি পিটিশন দায়ের করেন। এ ব্যাপারে মামলার বাদি নাছির উদ্দিন বাদশাহ জানায় চেয়ারম্যান নুরুল হোছাইন একজন চাঁদাবাজ। তার নেতৃত্বে শিলখালী পাহাড়ি এলাকায় গড়ে উঠেছে চাঁদাবাজ চক্রের সিন্ডিকেট। সরকার আমাদেরকে উপকারভোগি মনোনীত করেছেন। বাগানে লাখ লাখ টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করেছি। কঠোর পরিশ্রম করে বাগান গড়ে তুলেছি। প্রায় দু’লক্ষ টাকা খরচ করে ঘিরা বেড়া দিয়েছি। সুফল পাওয়ার সময় ওই চেয়ারম্যান বাগানের প্রতি কুদৃষ্টি দিয়েছে। ২০১৪সালে ৫ জানুয়ারীতে সরকার উৎখাতের জন্য ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে শিলখালী ও পেকুয়া সদরের পুর্ব অংশে। এর নেতৃত্ব দিয়েছে নুরুল হোছাইন চেয়ারম্যান। জামাত-বিএনপির ২৯টি মামলা পরিচালনা করছেন তিনি। শিলখালী ইউপির চেয়ারম্যান নুরুল হোছাইন জানায় হারবাংয়ে নাছির উদ্দিন বাদশাহ কিছু জায়গা পেয়েছে সেটি জেনেছি। তবে ওই জায়গায় আরেকটি পক্ষ তাদের দাবি করছে। এখানে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। সে মনে করছে আমাকে আসামি করলে মামলায় সুবিধা পাবে। এ সুত্রে মামলটি হয়েছে।

পেকুয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ বনায়ন নিয়ে উপকারভোগীরা বিপাকে

পেকুয়া(কক্সবাজার)প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিলখালীতে মেয়াদোত্তীর্ণ সামাজিক বনায়ন নিয়ে উপকারভোগীরা বিপাকে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। বনায়নের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বনবিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে দীর্ঘসূত্রিতা অব্যাহত রাখায় সৃজিত গাছ গাছড়া পাহাড়া দিতে গিয়ে উপকারভোগীদের দিনের আয় রাতের ঘুম হারাম হয়ে পড়েছে বলে জনশ্রুতি পাওয়া গেছে। জানা যায়, সরকারের চট্টগ্রাম দক্ষিন বনবিভাগের অধীন কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া রেঞ্জের পাহাড়চাঁদা বনবিট কর্তৃপক্ষ ফরেষ্ট্রী সেক্টর প্রকল্পাধীন বাফার জোন উডলট বনায়ন আওতায় স্থানীয় শিলখালী ইউনিয়নের রিজার্ভ ০৪নং সিটের ৪০হেক্টর রিজার্ভ বনভুমিতে বিগত ২০০৪সালে সামাজিক বনায়ন সৃজন করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ওই বনায়নে ৪০জন দরিদ্র জনগোষ্টিকে উপকারভোগীকে দেখভালো নিয়োগ বরাদ্ধ দেন। রাতদিন পাহাড়া দিয়ে নানা বাঁধা বিপত্তি ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে উপকারভোগীরা ইতিমধ্যে তাদের বনায়ন চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ করে। এসময় উক্ত বনায়নের গাছ রক্ষা করতে গিয়ে অনেক উপকারভোগী দূর্বৃত্তদের নানা অমানূষিক শাররীক, মানসিক ও আর্থিক হয়রানী নির্যাতনেরও শিকার হন বলে জানান। বিশেষ করে উক্ত বাগান লাগোয়া দক্ষিন পাশের্^র অকশান ও পূণঃনবায়ন হওয়া ২০০৩সনের সামাজিক বনায়ন, পূর্ব পাশের্^র ২০০৬সনের উজাড় হওয়া বনায়ন, উত্তর পূর্ব কর্ণারে ২০০৬সনের সম্পূর্ণ উজাড় হওয়া বনায়ন এবং বারবাকিয়া বনবিটের ২০০৪সনের সামাজিক বনায়নের শতকরা ৯০/৯৫ভাগ বনায়ন লোপাট হওয়ায় বর্তমানে ৪০জন উপকারভোগীর উক্ত বনায়নে সংঘবদ্ধ চোরেরদল হানা দিয়ে গাছ লোপাট পাঁচারের পাঁয়তারার অশনি সংকেত দেখা দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে, উপকারভোগী দলনেতা মোঃ আবদুল আউয়াল মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ক্ষোভ, দূঃখ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, তাদের মেয়াদোত্তীর্ণ ৪০জন উপকারভোগীর সামাজিক বনায়ন অকশান দেয়া না হলে অচিরেই উক্ত সামাজিক বনায়ন উজাড় ও লোপাট হয়ে যাবে। আর এতে করে উপকারভোগীদের যেমন অপূরনীয় ক্ষতি হবে তেমনি সরকার ও বনবিভাগ বিপূল পরিমান রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে। বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা উত্তম কুমার পালের কাছে জানতে চাইলে বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান।

Top