পি.এস.সির গণিত বিষয়ে বিতর্কিত সমস্যার সমাধানে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ

psc-exam_1.jpg

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:
বাংলাদেশে একাধিক পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তার মধ্যে সর্ববৃহৎ পাবলিক পরীক্ষা হলো পি.এস.সি যা আগামী ২০ নভেম্বর সারাদেশ ব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পি.এস.সি পরীক্ষায় গণিত একটি আবশ্যকীয় ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমান পরিমার্জিত শিক্ষা ব্যবস্থা অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থীকে প্রশ্নের দু ধরণের উত্তর প্রদান করতে বলা হয়। গতানুগতিক ও যোগ্যতা ভিত্তিক যাকে আমরা সৃজনশীল বলে থাকি। গণিত বিষয়ে ‘সময়’ অধ্যায়টির সমস্যাগুলো গতানুগতিক পদ্ধতিতে সমাধান করতে বলা হয়, যার নম্বর বন্টন। এ অধ্যায়ে দু ধরণের সমস্যা থাকে বছর, মাসকে- দিনে রূপান্তর এবং মিনিট, সেকেন্ডকে- দিন, মাস, বছরে রূপান্তর। এ অধ্যায়ের অনেকগুলো সমস্যার মধ্যে একটি সমস্যা তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

১০ বছরকে দিনে প্রকাশ কর। যদি আমরা সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করি তবে হয়,

১০ বছর = (১০´৩৬৫) দিন = ৩৬৫০ দিন।

তবে ক্ষেত্র বিশেষে অন্যভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়ে থাকে।

যেমনঃ ১০ বছর = (১০´১২) মাস = ১২০ মাস = (১২০´৩০) দিন = ৩৬০০ দিন।

২য়পন্থা বা বিকল্প পদ্ধতিটি মূল পাঠ্য বইয়ে অনুসরণ করেছে এবং উত্তরটি উত্তরমালায় দেয়া আছে।

এখন কথা হলো, ০১ বছর = ৩৬৫ দিন, না ৩৬০ দিন? যদি প্রথম নিয়মটি অনুসরণ করি তবে ৩৬৫ দিনে এবং ২য় নিয়মটা অনুসরণ করলে ৩৬০ দিনে বছর হিসাব করতে হবে। এখন কোন নিয়মটি সঠিক ও যুক্তিযুক্ত তা শিক্ষক ও অভিভাবকগণের প্রশ্ন।

আমি বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও অভিভাবকগণের সাথে সমস্যাটির বিষয়ে মতামত নেওয়ার চেষ্টা করেছি। অনেক শিক্ষকগণ প্রথমটি ও আবার অনেকে ২য়টির পক্ষে মত দিয়েছেন। ২য়টির পক্ষে যারা মত দিয়েছেন তাদের যুক্তি, বইটি বিশেষজ্ঞ জনের মতামত এবং এর উত্তরমালা ভুল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাই আমরা এই যুক্তিটিও মেনে নেয়ার চেষ্টা করছি। কারণ বইয়ে ‘১০ বছরকে দিনে প্রকাশ কর’ (ধরি, ১ বছর = ৩০ দিন) কথাটি উল্লেখ আছে। কিন্তু পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে (ধরি, ১ বছর = ৩০ দিন) কথাটি উল্লেখ ছিল না বা থাকে না।

সবচেয়ে বড় সমস্যায় ভোগবে পরীক্ষার্থীরা কারণ এই জাতীয় সমস্যা যদি আসন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রে দেয়া থাকে তবে পরীক্ষার্থীরা কোন পদ্ধতি অনুসরণ করে সমাধান করবে। ৩৬০ দিন না ৩৬৫ দিন? যেহেতু খাতা মূল্যায়নের সময় বোর্ড থেকে মূল্যায়কারীদের জন্য ১টি মূল্যায়ন সিট (উত্তরপত্র) প্রদান করে থাকেন। উক্ত উত্তরপত্রে কোন নিয়ম অনুসরণ করে উত্তর প্রদান করবেন তা কারো জানা নেই। তাই বৃত্তি ও এ প্লাস প্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের জন্য এটা একটা বড় হুমকি হিসেবে কাজ করছে। কারণ ৮ নম্বর তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বাস্তব ক্ষেত্রে সমস্যাটি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার গোড়া থেকে। কারণ আমরা সাধারণত শিখি বা শেখাই

১ বছর = ৩৬৫ দিন, ১ বছর = ১২ মাস, ১ মাস = ৩০দিন, ১ সপ্তাহ = ৭ দিন। কিন্তু আমরা শেখাতে পারিনি ১২ মাস = ৩৬৫ দিন। ভিন্ন ভিন্ন মাস ভিন্ন ভিন্ন দিনের হয়ে থাকে। আর আমাদের সবচেয়ে বড় যুক্তি গুলোতে ভুল আছে। যেমন ১ মাস = ৩০ দিন।

বছরে ১২ মাসে ৩১ দিন সর্বোচ্চ ৭ মাস, ৩০ দিনে ৪ মাস আর ফ্রেব্র“য়ারী ২৮ দিন, লিপইয়ার ২৯ দিনে হয়। তবে আমাদের ১ মাস = ৩১ দিন নয় কেন? যদি গাণিতিক হিসেবে হিসাব করি ১ মাস = ৩০.৪২ দিন হয়। গাণিতিক হিসেবে .৫ এর নিচে তাই ৩০ দিন। তবে ৩০ (প্রায়) দিন নয় কেন?

১ মাস = ৩০.৪২ দিন হলে আজ নিশ্চয় আমাদের এই জাতীয় বিভ্রান্তকর সমস্যায় পড়তে হত না। সবচেয়ে বড় কথা শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যে হবে, ‘শিক্ষার্থীর পঠিত জ্ঞান তার বাস্তব জীবনে প্রয়োগ’। যদি তাই হয়ে থাকে একজন শিক্ষার্থী তার পড়াশোনা শেষে জীবন বৃত্তান্তে বয়স লিখতে বলা হলে প্রতিবারে সে ভুল করবে যদি না ১ বছর = ৩৬৫ দিন না শেখে মাসে ৩০ দিন হিসেবে ৩৬০দিন শিখে থাকে। বলা বাহুল্য যে ঐ বিতর্কিত সময় অধ্যায়টিতে কোথাও কোনখানে ১ বছর = ৩৬৫ দিন উল্লেখ করা নাই।

পরিশেষে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট শিক্ষক ও অভিভাবক মহলের বিনীত আবেদন উপরোক্ত সমস্যাটির দ্রুত ও উপযুক্ত সমাধান দিয়ে শিক্ষার অগ্রযাত্রাকে সুগম করবেন।

রফিকুল কাদের
শিক্ষক
কলাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
a.raficox@gmail.com

Top