নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা জানান দিতে সমুদ্রে ব্যাপক শো-ডাউন ট্যুরিস্ট পুলিশের

tourist-police-coxsbazar-news.jpg

পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় দশ লক্ষাধীক পর্যটক আসবে কক্সবাজারে

এস এম আরোজ ফারুক ॥

রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও স্বাভাবিক থাকায় এবছর কক্সবাজারে ব্যাপক পর্যটক সমাগম ঘটবে বলে আসা করছেন জেলার পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। মুলত নভেম্বর থেকে কক্সবাজারে শুরু হয়ে যায় পর্যটন মৌসুম। ইতোমধ্যে পর্যটকদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রতি বছর প্রায় দশ লাক্ষ পর্যটক বেড়াতে আসে বিশে^র দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে। আর এই বিশাল সংখ্যক পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনেক সময় হিমশিম খেতে হয় পুলিশ প্রশাসনকে। তাই এবছর আগে থেকেই পর্যটন মৌসুমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ। পর্যটন স্পটের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা দিতে এরই মধ্যে প্রস্তুত রয়েছেন ট্যুরিস্ট পুলিশের ১২২জন সদস্য। কক্সবাজারে এবারে পরিস্থিতি স্বাভাবিক, তাই দশ লক্ষাধীক পর্যটক বেড়াতে আসবে বলে ধারনা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।

সৈকত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিদিন টহল দিবে ট্যুরিস্ট পুলিশের বিশেষ টিম। একারনে প্রস্ততি হিসেবে বুধবার সমুদ্র সৈকতে শো-ডাউন দিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। ট্যুরিস্ট পুলিশ হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমীর নেতৃত্বে বুধবার সকালে বিশেষ একটি টিম নিয়ে সমুদ্রের লাবণী পয়েন্ট থেকে সুগন্ধা পয়েন্ট পর্যন্ত এই শো-ডাউন দেয়া হয়।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পর্যটকদের নিরাপত্তায় এবছর বিশেষ কিছু উদ্যোগ হাতে নিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। অল্প কিছু দিনের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে সাইনবোর্ড লাগানোসহ লিফলেট বিতরণ করা হবে যেখানে পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন নির্দেশনার পাশাপাশি থাকবে জরুরী প্রয়োজনের জন্য ফোন নাম্বার। কোন পর্যটক বিপদে পড়লে অথবা জরুরী মুহুর্তে ফোন করে যেন পুলিশি সহায়তা পাওয়া যায় সে কারনে গঠন করা হয়েছে ‘কুইক রেসপন্স টিম’। পুরুষ সদস্য ও নারী পুলিশ সদস্যের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে ‘এনটি ইভটিজিং টিম’। এই টিমের কাজ হবে সৈকত এলাকায় ইভটিজিং রোধ এবং ইভটিজারদের আইনের আওতায় আনা। পর্যটন এলাকা হওয়ায় সৈকতে ইভটিজিং এর ঘটনা বেশি ঘটে একারণে পর্যটকরা বিরক্তবোধ করে। এবার সৈকত এলাকায় ইভটিজিং রোধে তৎপর থাকবে ট্যুরিস্ট পুলিশ। মোটর সাইকেল ও গাড়ি নিয়ে সার্বক্ষনিক টহল নিশ্চিত করার জন্য গঠন করা হয়েছে ‘টাইগার পার্টি টিম’। মটর সাইকেল ও গাড়ি নিয়ে ১৬ জনের এই টিমটি পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিভিন্ন স্থানে টহল দিবে।

বিভিন্ন স্থান থেকে বেড়াতে আসা পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা এবারে নিশ্চিত করা গেলে আগামী বছর থেকে এখানে পর্যটদের সংখ্যা অনেকাংশে বেড়ে যাবে বলে মনে করছে পর্যটন সংশ্লিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা।

কক্সবাজারের তারকা মানের লংবীচ হোটেলের হেড অব অপারেশন মোহাম্মদ তারেক বলেন, আমাদের হোটেলে যারা থাকতে আসেন তার বেশির ভাগই বিদেশী, বলতে গেলে প্রতিদিনই বিদেশি পর্যটক আমাদের হোটেলে অবস্থান করেন। আর তারা তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে খুবই সচেতন তাই ট্যুরিস্ট পুলিশের বিশেষ উদ্যোগ আগামীতে বিদেশী পর্যটক বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার হোসাইন মো: রায়হান কাজেমী জানান, কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ সব সময়ই সজাগ থাকে। তবে এবারে আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তার সুবিধার্তে পুলিশ সদস্যদের কয়েকটি টিমে ভাগ করে বিশেষ টিম গঠন করেছি। আমরা এই বিশেষ নিরাপত্তা দিবো সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্ট, সী-ইন পয়েন্ট, কলাতলী পয়েন্ট, শৈবাল পয়েন্ট, বালীকা মাদ্রাসা পয়েন্ট, ডায়াবেটিক পয়েন্ট, জাম্বুর মোড়, দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানী ও হোটেল মোটেল জোনে। পর্যটকদের শতভাগ নিরাপত্তা দিতে আমরা প্রস্তুত রেখেছি ৩টি মোটর সাইকেল, ১টি গাড়ি, ২টি জেটস্কি, ১টি স্পিডবোট। আর এসবের পাশাপাশি আমরা সৈকতে গোসল করতে নেমে যেন কারো প্রাণহানী না ঘটে তাই লাইফগার্ডদের সাথে সমন্বয় করেও কাজ করছি।

Top