নাফ নদীর উভয় পাড়ে এখন শুধু রোহিঙ্গাদের কান্না

ruhinga.jpg

ফরিদুল মোস্তফা খান, কক্সবাজার:
নাফ নদীর উভয় পাড়ের আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে নির্যাতিত রোহিঙ্গা মসুলমানদের কান্নায়। স্বদেশের অসহনীয় জুলুমে বিপর্যস্ত হয়ে তারা মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে জল ও স্থলপথে অবৈধভাবে ঢুকে পড়ছে এই দেশে। এই অবস্থায় শুক্রবার ভোর রাতে আরও ১০৭ রোহিঙ্গা নরনারীকে আটক করে সে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে বিজিবি। অনুপ্রবেশে সহায়তাকারী চার দালালকে সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রাখাইন প্রদেশ জুড়ে বিশেষ করে উত্তর মংডুর রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় আতঙ্ক কাটছে না। সে দেশের সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর দমন পীড়ন ও নির্যাতনে কোণঠাসা রোহিঙ্গারা নিজ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে। নাফ নদী পেরিয়ে অনেকেই এরমধ্যে ঢুকেছে বাংলাদেশে। আবার নদী ও সাগর জলে ভাসছে নারী-পুরুষ ও নিরীহ মানুষবোঝাই অনেক নৌকা। দেশী দালালদের সহযোগিতায় দুর্গম সীমান্ত পথে রাতের আঁধারে অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। এদিকে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ। ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ডেনমার্কের কূটনীতিকগণ আউং সান সুচির সঙ্গে দেখা করে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। জাতিসংঘ আশঙ্কা ব্যক্ত করে বলেছে যে, দ্রুততার সঙ্গে সহায়তা না গেলে শিশুসহ অসুস্থ ৩ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গার মৃত্যু হতে পারে। তবে মিয়ানমার সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে যে, রোহিঙ্গা লবিস্টরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অসত্য সংবাদ ছড়াচ্ছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, সংখ্যালঘু রোহিঙ্গারা রাখাইন প্রদেশ ছাড়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন সীমান্তে ভিড় করে আছে। তবে তাদের প্রধান গন্তব্য বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীও তৎপর রয়েছে অনুপ্রবেশ রোধে। মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে মোতায়েন রয়েছে সেনাবাহিনীর ইনফ্যান্ট্রি ও হেলিকপ্টার। এই প্রস্তুতি রোহিঙ্গাদের মাঝে ভীতি সঞ্চার করে রেখেছে। জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ডেনমার্কসহ বিভিন্ন দেশের উদ্বেগের প্রেক্ষিতে মিয়ানমার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দাবি করেছেন, রোহিঙ্গা বিষয়ে প্রচারিত সংবাদগুলো সত্য নয়। লবিস্টদের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। যে কারণে আন্তর্জাতিক মহল তাদের ভুল বুঝছে।

এদিকে, সীমান্তের ওপার থেকে বিভিন্ন সূত্রে এবং এ পারে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নরনারীরা যে তথ্য দিচ্ছে তা লোমহর্ষক। রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়ার পাশাপাশি হত্যার উৎসবে মেতে উঠেছে সে দেশের সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিপি ও রাখাইন মৌলবাদীরা।

১০৭ রোহিঙ্গা পুশব্যাক ॥

মিয়নমার থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবি, কোস্টগার্ড ও পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে নাফনদী থেকে রোহিঙ্গাবোঝাই আটটি নৌকা ও উখিয়া সীমান্ত থেকে ১০৭ জনকে ফেরত দিয়েছে বিজিবি। টেকনাফ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আবুজার আল জাহিদ জানান, নাফ নদীতে রোহিঙ্গাবোঝাই ৮টি নৌকা প্রবেশের চেষ্টা করার খবর পেয়ে সাগরের টহল দলকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। এরপর বাংলাদেশের জলসীমা থেকে ওই নৌকাগুলো মিয়ানমারের দিকে ফেরত পাঠানো হয়। কক্সবাজারের বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার জানান, সকালে উখিয়ার কয়েকটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গারা এদেশে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়। তার মধ্যে ৩০ জন পুরুষ, ২৯ নারী ও ৪৮ জন শিশু রয়েছে।

রাখাইন প্রদেশ অভ্যন্তরের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সেখানে অনেক দমন-পীড়ন ও কঠোরতার মধ্যে জীবনযাপন করতে হয় রোহিঙ্গাদের। শুধু দেশত্যাগ নয়, অনুমতি ছাড়া এক গ্রাম থেকে মাত্র তিন দিনের জন্য অন্য গ্রামে বেড়াতে গেলেও ওই পাড়ার তালিকা থেকে তার নাম বাদ পড়ে। বেড়াতে যাওয়া রোহিঙ্গাকে বিদ্রোহী (মিয়ানমারের ভাষায় বাঘী) হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। রাখাইন রাজ্যের মংডুতে সেদেশের সেনাবাহিনী শুদ্ধি অভিযানের নামে রোহিঙ্গাদের নির্যাতন চালানোর কারণে রোহিঙ্গারা প্রাণভয়ে ভিটেবাড়ি ত্যাগ করছে। ওসব নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের জন্য চীনের সীমান্ত খুলে দেয়া হলেও তারা সেদিকে না গিয়ে বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। গত ৯ অক্টোবর মিয়ানমার সীমান্তের তিনটি চেকপোস্টে অস্ত্রধারীদের হামলা ঘটনায় উগ্রপন্থী রোহিঙ্গাদের সঙ্গে প্রবাসী ইসলামপন্থীদেরও যোগসাজশ রয়েছে বলে সেনাবাহিনীর দাবি। ওই ঘটনায় ৯ পুলিশ নিহত হওয়ার বিষয়কে সামনে এনে রোহিঙ্গা নিপীড়ন করতে গিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। ২০১২ সালেও রোহিঙ্গা নির্যাতন চলেছে মিয়ানমারে।

বাংলাদেশের বৌদ্ধ ভিক্ষুরা মিয়ানমারে চলমান ঘটনাকে চরম অন্যায় এবং মানবাধিকারের ঘোরতর লঙ্ঘন বলে আখ্যয়িত করেছেন। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা জানান, জঙ্গী বা সন্ত্রাস দমনের নামে একজন সাধারণ মানুষও যদি নিহত হয়, সেটাও মারাত্মক অন্যায়। তাদের ভাষায়, কোন দেশে অবস্থান নেয়া কোন অবৈধ ব্যক্তিকেও হত্যা করা যায় না। আরাকানে শত শত বছরের পুরনো মসজিদ এবং কবরস্থান এখনও বিদ্যমান। মিয়ানমার স্বীকার করুক বা না-ই করুক রোহিঙ্গারা ঐতিহাসিকভাবে সে দেশের অধিবাসী। অধিবাসী না হলেও হত্যা কিংবা নির্যাতন করা যাবে না। রোহিঙ্গারা কোন দেশের সেটা স্থির করতে পারলে চিহ্নিত রাষ্ট্র তাদের দায়দায়িত্ব নেবে। কিন্তু যতদিন না এ সমস্যার সঠিক সমাধান হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক হতে হবে। এ পর্যন্ত যারা হত্যার শিকার হয়েছেন তারা নিশ্চয় সবাই জঙ্গী নয়। সকল রোহিঙ্গা তো জঙ্গী হতে পারে না। দমন পীড়নের পর থেকে প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে শত শত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনপ্রবেশের চেষ্টা করছে। মিয়ানমার এটাকেও অস্বীকার করছে। মিয়ানমার এখনও বলছে, রোহিঙ্গাদের নির্যাতন করা হচ্ছে না। তাহলে প্রশ্ন তারা পালিয়ে আসছে কেন? এ প্রশ্ন নাড়া দিয়েছে বাংলাদেশের বৌদ্ধ ভিক্ষুদেরও।

কক্সবাজারের রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের আবাসিক প্রধান প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু বলেন, রোহিঙ্গারা আসলে কোন দেশের নাগরিক, এ সমস্যার সুরাহা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। যদিও সময় কম গড়ায়নি। তবে ওই সমস্যার সুরাহা করতে হবে মিয়ানমার এবং বাংলাদেশকে। রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় মানছি তাই বলে তাদের উপর নিপীড়ন নির্যাতন হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মুখ ফিরিয়ে থাকতে পারে না। বিশেষ করে জাতিসংঘকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আরও সোচ্চার এবং দৃশ্যমান ভূমিকা পালন করতে হবে জানিয়ে প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু বলেন, বিশ্বময় মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের উপর যতটা আন্তর্জাতিক অনুরোধ এবং চাপ আছে ততটা মিয়ানমারের উপর আছে বলে মনে হয় না।

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সমস্যাটি অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও রোহিঙ্গা নির্যাতন বিষয়টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের। বিষয়টি ধর্মের নয়, মানবতার। মিয়ানমারের এই আচরণ সমগ্র বিশ্ববৌদ্ধদের জন্য চরম লজ্জার। তাই এ সময়ে বৌদ্ধ রাষ্ট্রগুলোর উচিত মিয়ানমারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কথা বলা। বাংলাদেশী বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সর্বোচ্চ সাংঘিক সংগঠন বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেয়া যেতে পারে। বৌদ্ধদের বিভিন্ন সংগঠন মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিতে পারে, সোচ্চার হতে পারে। মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কথা বলা এবং প্রতিবাদ জানানোর দায়িত্ব কেবল শুধু বাংলাদেশের কিংবা মুসলমানদের নয়- এটা সমগ্র বিশ্ব নেতৃত্ব এবং বিশ্ববাসীর নৈতিক দায়িত্ব। মুসলিম নির্যাতিত হলে আরব বিশ্ব, অমুসলিম নির্যাতিত হলে হিন্দু, বৌদ্ধ এবং খ্রীস্টান বিশ্বকে সোচ্চার হতে হবে এমনটি হলে তা হবে সংকীর্ণ। এই সাম্প্রদায়িক মনোভাব থেকে বেরিয়ে এসে জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে বিশ্ববাসীকে এর বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে।

সূত্র জানায়, টেকনাফ সীমান্তজুড়ে ৫৪ কিলোমিটার জলপথ ছাড়াও রয়েছে ৮০কিলোমিটার স্থলপথ। সীমান্তের কোন না কোন পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গারা ঢুকে পড়ছে বাংলাদেশে। সীমান্তরক্ষী বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যদের কড়া নজরদারির মধ্যেও ফাঁকি দিয়ে রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশ করে মিশে যাচ্ছে লোকালয়ে। অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু। পুরুষের সংখ্যা কম। এ প্রসঙ্গে রোহিঙ্গা নেতারা বলেছেন, রোহিঙ্গা পুরুষদের হত্যা, আটক ও গুম করে ফেলা হয়েছে। তবে সচেতন মহল জানান, প্রায় ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার বসবাস মিয়ানমারে। তাহলে কি মিয়ানমারে রোহিঙ্গা পরিবারে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে? বাংলাদেশ সীমান্তে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের কড়াকড়ি দেখে পুরুষরা নারী ও শিশুদের ঠেলে দিয়ে ভিন্নপথে অনুপ্রবেশ করছেÑএমন তথ্যও রয়েছে। আবার এমনও খবর ছড়িয়ে পড়েছে যে, সেনাবাহিনী ঘরবাড়ি জালিয়ে দিচ্ছে দেখে সুযোগসন্ধানী কিছু রোহিঙ্গা নিজেরাই নিজেদের ঘর জালিয়ে দিয়ে বাংলাদেশে রেশনভোগ করতে ধেয়ে আসছে। অনুপ্রবেশকারী একাধিক রোহিঙ্গা পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে যারা ঘরবাড়ি জালিয়ে দেয়ার দাবি তুলেছে, তাদের কাঁধে আবার কাঁথা-বালিশও রয়েছে। এসব কেন পোড়েনি জিজ্ঞেস করলে কাঁথা-বালিশগুলো অন্য পরিবারের বলে জানায় অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা।

সীমান্তের বিভিন্ন সূত্রমতে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা ইস্যুতে দেশটির প্রশাসনের সঙ্গে কোন সময় ঝামেলা সৃষ্টি হলে রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করাটা সোজা পথ হয়ে দাঁড়ায়। মিয়ানমারে এখনও ১০ লাখ (দেশটির তথ্য মতে ৮ লাখের বেশি) রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ বসবাস করছে। তন্মধ্যে শুধু কয়েক হাজার ধেয়ে আসতে চাইছে। বাদবাকি রোহিঙ্গারা কেন দেশত্যাগ করছে না- এ নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ ও সন্দিহান হয়ে পড়েছেন সচেতন মহল। এদেশে বিভিন্ন স্থানে ঘাপটি মেরে থাকা রোহিঙ্গা জঙ্গী (আরএসও), ভাসমান ও ক্যাম্পে বসবাসকারী দালাল প্রকৃতির রোহিঙ্গা ও তাদের মদদদানকারী মৌলবাদী গোষ্ঠী প্রায় সময়ে সীমান্তে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি ও ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চেয়েছে অতীতে। বর্তমানেও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের পেছনে বিশেষ মহলের ইন্ধন রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেন অভিজ্ঞ মহল।

অবৈধ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে সরকারের কড়াকড়ি মনোভাবের প্রশংসা করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, কক্সবাজার, বান্দরবান তথা বৃহত্তর চট্টগ্রাম ছাড়াও দেশে অন্তত ১০লাখ রোহিঙ্গা বিভিন্নভাবে বসবাস করছে। এদের নানা যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ জনগণ। তারপরও মানবতার খাতিরে এদেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ তাদের ওপর সহানুভূতি দেখিয়ে চলেছে। গত ১৩ মে টেকনাফ নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পে আনসার ব্যারাকে রোহিঙ্গা ডাকাতদলের হামলার ঘটনায় এক আনসার সদস্য নিহত ও ১১ অস্ত্র ও ৬৭০ রাউন্ড গুলি লুটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় রোহিঙ্গা ডাকাতদলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তবে রোহিঙ্গা ডাকাতরা পাহাড়ে অবস্থান করায় প্রশাসন আটক করতে পারছে না। এছাড়াও নানা অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত রোহিঙ্গারা। এ অবস্থায় ফের রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ রোধ ও সীমান্তে কড়াকড়ি করাটা সরকারের প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

টেকনাফ লেদা আন রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডাঃ দুদু মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন জানান, গত কয়েকদিনে নতুন করে প্রায় হাজারো রোহিঙ্গা লেদা ও কুতুপালং ক্যাম্পে ঢুকে পড়েছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এছাড়া নয়াপাড়া, কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প ও আশপাশ এলাকায় কিছু কিছু রোহিঙ্গা অবস্থান নেয়।

টেকনাফ থানার ওসি আব্দুল মজিদ জানান, টেকনাফের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের কয়েকটি টিম বিভিন্নভাবে কাজ করছে। ক্যাম্প-বস্তিতে অবস্থানকারী রোহিঙ্গারা নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শফিউল আলম জানান, সীমান্ত এলাকার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি ও কোস্টগার্ডকে সতর্ক রাখা হয়েছে।

Top