দেড়কোটি টাকার ব্যবসায়ী সমিতি ভবন নাম মাত্র মূল্যে বিক্রির পায়তারা!

ovijog_1.jpg

মিজবাউল হক, চকরিয়া :

চকরিয়া ব্যবসায়ি সমিতির সভাপতি/সম্পাদকের বিরুদ্ধে সমিতির কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ সহ নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। মেয়াদত্তোর্ন এ কমিটির নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে সমিতির মালিকানাধিন দেড়কোটি টাকা মূল্যের সিবিএস টাওয়ার নামে ছয়তলা একটি ভবন পানির ধরে বিক্রি করতে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে সমিতির বেশির ভাগ সদস্য অনাস্থাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

গতকাল চিরিঙ্গার ব্যবসায়ি ফজলুল কাদের, আবদুল হামিদ, সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম, জামাল উদ্দিন সহ একাধিক সদস্য সাংবাদিকদের জানান, ব্যবসায়িদের স্বার্থ ও অধিকার সংরক্ষণের জন্য ১৯৮৮ সালে চকরিয়া ব্যবসায়ি সমিতি গঠন করা হয়। প্রায় ২৭০জন সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে এ সমিতি। গঠনের পর থেকে বর্তমান সমিতির মূলধন প্রায় চারকোটি রয়েছে। যাত্রার শুরুতেই সমিতি ব্যবসায়িদের স্বার্থ রক্ষা করেছে। কিন্তু বর্তমান কমিটি সভাপতি রেজাউল হক সওদাগর, সাধারণ সম্পাদক শরাফত উললাহ ও অর্থ সম্পাদক শফিউল আলম সমিতির লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে। তারা নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সমিতির কোন নিয়ম নীতি মানছে না। প্রায় দশ বছর পূর্বে রেজাউল হক সওদাগর ও শরাফত উললাহ নির্বাচিত হয়ে সমিতির কোন ধরণের সাধারণ সভা ডাকেনি। এমনকি সমিতির লাখ লাখ টাকার আয়-ব্যয়ের কোন হিসাব দেয়নি সাধারণ সদস্যদের কাছে। এনিয়ে সাধারণ সদ্যসের মাঝে চরম অসন্তোষ ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এদিকে সমিতির সভাপতি রেজাউল হক ও সাধারণ সম্পাদক শরাফত উললাহ সদস্যদের তিলে তিলে গড়ে উঠা একমাত্র সম্পদ ছয়তলা বিশিষ্ট ভবনটি গোপনে বিক্রির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। বর্তমানে ভবনটির মূল্য দেড়কোটি টাকা হলেও সভাপতি/সম্পাদক ও অর্থ সম্পাদক গোপন আতাতের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিয়ে চিরিঙ্গার সজিব জুয়েলার্সের মালিক গোপাল ধর মহাজনকে বিক্রির জন্য অপতৎপরতা চালাচ্ছে। সমিতির সদস্যরা আরও জানান, সমিতির ভবনটির বর্তমান মূল দেড়কোটি টাকা হলেও তারা ৯০লাখ টাকা বিক্রি করার ঘোষণা দিচ্ছেন। মূলত ওই ব্যবসায়ির সাথে ১কোটি ৩০লাখ টাকা মূল্য ধার্য্য করা হয়েছে। সেই হিসাবে ভবনটি বিক্রির ৫০লাখ টাকা আত্মসাৎ করার জন্য গোপনে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন তারা।

ইতোমধ্যে গোপাল মহাজনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে বায়না-নামাও সেরে ফেলেছেন। ভবন বিক্রির বিষয়টি সমিতির সদস্যদের মধ্যে জানাজানি হলে ক্ষোভে ফুসে উঠেন। এছাড়াও জেনারেটর সংক্রান্ত ব্যবসায়েও অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। তারা ১৮লাখ টাকা দামের জেনারেটর ক্রয় করে পরবর্তীতে নষ্ট হয়ে যাওয়ার নাম দিয়ে ৫লাখ টাকা দিয়ে বিক্রি করে দেন। তাছাড়া সমিতির অন্যতম আয়ের উৎস হচ্ছে চকরিয়া পৌরশহরের প্রায় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুত সংযোগ দিয়ে (জেনারেটর) আসছেন। শুরুতেই প্রায় দুই হাজার গ্রাহক থাকলেও বর্তমান কমিটির অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে এখন মাত্র ১১’শ গ্রাহকে নেমে এসেছে। সেই হিসাবে সমিতির বিশাল আর্থিক ক্ষতি গুণতে হচ্ছে প্রতিদিন। তারা কোন সদস্যের মতামতও নিচ্ছে না। এভাবে তারা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছে। বর্তমান কমিটির অনিয়ম ও দূর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে সমিতির সদস্যদের নিয়ে’ চকরিয়া ব্যবসায়ি সমিতি দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ফজলুল কাদেরকে আহবায়ক ও আবদুল হামিদকে সদস্য সচিব করে ৫১সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এব্যাপারে নতুন কমিটির নেতারা সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে চকরিয়া ব্যবসায়ি সমিতি দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির আহবায়ক ফজলুল কাদের ও সদস্য সচিব আবদুল হামিদ বলেন, কোন প্রকার লুকোচুরি ছাড়া সাধারণ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সিন্দ্বান্ত নিতে হবে। দু-চারজন দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা নিজেরা সমিতির লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করে লাভবান হবেন আর শতশত সদস্য তাদের ন্যায্য অধিকতার থেকে বঞ্চিত হবেন সেটা কিছুতেই হতে পারে না। সমিতির ভবনটি যদি বিক্রি করতেই হয় তবে তা সাধারণ সভা ডেকে প্রত্যেক সদস্যকে জানাতে হবে। তারা আরও বলেন, পরিস্কার, পরিছন্ন ও সচ্চতার মাধ্যমে সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পাদন করতে হবে। কোন প্রকার দালালি বা মিডিয়া খরচ দেখানো যাবে না। সমিতির গঠনতন্ত্র মোতাবেক কার্যাপ্রণালী পরিচালিত হবে। ভবন বিক্রির সমস্ত টাকা সমিতির কোষাগারে জমা হতে হবে।

Top